সিরাজগঞ্জে শ্রেণী কক্ষে পঞ্চম শ্রেণী এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এঘটনায় বিক্ষুব্দ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। আতংকে বিদ্যালয়ে আসছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতংকে থাকছে অবিভাবকরা। শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে শিক্ষককে বাঁচাতে তৎপর ছিলেন ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অবিভাবকদের। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকসাবাড়ি ইউনিয়নের চন্দ্রকোনা গ্রামের নওদা তেলকুপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হয়রানির স্বীকার হওয়া শিক্ষার্থীর অবিভাবক জানান জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগীতা করার জন্য ১০ আগষ্ট বিকেলে তার মেয়েসহ আরো তিনজন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক মোবাইল ফোন দেখে দেখে রচনা লেখতে বলেন। টেবিলের কাছে দাড়িয়ে রচনা লেখার সময় ঐ শিক্ষক তার মেয়ের স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিয়ে উত্যক্ত করে । বার বার হয়রানি করা হলে সে শ্রেণী কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং ঘটনাটি তার মাকে বলে। পরের দিন তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট অভিযোগ করে, এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়েটির পরিবার। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেনহাজ আলী বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্মকর্তাকে না জানিয়ে গোপনে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য চাপ দেন। থানায় অভিযোগ না করার জন্য ঐ পরিবারকে বলেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুলের বাবা গোলাম মওলা সাবেক মেম্বার হওয়ার কারনে তারা এলাকায় প্রভাবশালী যে কারনে শিক্ষার্থীর পরিবার স্থানীয় সালিশী বৈঠকে বসার রাজী হয়। গত ১৯ আগষ্ট শনিবার সকালে স্কুল মাঠে সালিশি বৈঠক আহবান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এর পর ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী জমায়েত হয় স্কুল মাঠে, অবস্থা বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষকের সালিসি বৈঠকে আসেন না ঐ শিক্ষক বা তার পরিবারের লোক। এতে উত্তেজনা ছরিয়ে পড়ে। স্থানীয় ছাত্রনেতা হাবিব জানান আমিনুল একজন নীতি বিবর্জিত মানুষ ইতিপুর্বেও তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ছিলো কিন্তু প্রধান শিক্ষকের আশকারায় সবগুলো ধামাচাপা পরে গেছে। এমন প্রধান শিক্ষক আর সহকারি শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ হয়ে যাবে। ২০ আগষ্ট সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়। বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে অবিভাবকরা জানালার কাছে দাড়িয়ে আছে। তাদের কাছে কারন জানতে চাইলে জানান বিদ্যালয়ে মেয়েকে পাঠিয়ে তারা বাড়িতে স্বস্তিতে থাকতে পারছে না,সন্তানের নিরাপত্তার জন্য তারা শ্রেণী কক্ষের কাছে দাড়িয়ে আছে। এসময় ঐ অবিভাবক শিক্ষক আমিনুলের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চান। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমে গেছে। অনেক অবিভাবক বছরের এই মাঝ সময়ে বিদ্যালয় থেকে সন্তানদের সরিয়ে অন্য গ্রামের বিদ্যালয়ে ভর্তি করবে বলে জানিয়েছে। ঐ এলাকার একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন এই আমিনুলের নামে নারী ঘটিত অনেক অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও সে একাধিক বার এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে যা তার পরিবার এবং এলাকার সবাই জানে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মেনহাজ আলী বলেন বিষয়টি তেমন গুরুত্বপুর্ণ না। ছোট মেয়ে এই ভেবে আমি স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি। সেজন্য কোন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কে জানাই নি। তাছাড়া আমিনুল ভালো শিক্ষক অতিতে হয়তো ভুল করেছে এখনতো সে ভালো হয়ে গেছে। অতিতে তার এই ধরনের অভিযোগ আমি পাই নি তবে লোকমুখে শুনেছি তিনি নানা সময়ে এই ধরনের অপকর্ম করেছেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে এমন ঘটনা ঘটায় নি। ঘটনার পর থেকে ঐ শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আর তার অনুপস্থিতি ছুটি দেখানোর জন্য প্রধান শিক্ষক নিজ হাতে আবেদন লিখে ফাইল আপ করে রেখেছে। যে আবেদনে একাধিক স্থানে কাটাছেরা করা।
এবিষয়ে উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার নাইয়ার সুলতানা জানান ঘটনার ১০ দিন পর বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলাম,তার প্রতিবেদনে প্রাথমিক ভাবে ঐ শিক্ষক অভিযুক্ত বলে প্রতিয়মান হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য সুপারিশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠিয়েছি সেই সাথে ঘটনা যথা সময়ে না জানানোর কারনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করার প্রস্তাব দিয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম আব্দুর রহমান জানান অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলাম তাদের প্রতিবেদনের পেক্ষিতে সহকারি শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়ে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে পরবর্তীতে চুড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ১৯ আগষ্ট রাতে বিদ্যালয়ের ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম। পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম মন্ডল জানিয়েছেন ঘটনার পর থেকে পালাতক রয়েছে ঐ শিক্ষক বন্ধ রয়েছে তার মোবাইল ফোন। তাকে গ্রেফতার করার জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ দিন ৪ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
২ দিন ৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৬ দিন ১০ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৮ দিন ৭ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৯ দিন ৯ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৯ দিন ১০ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১৩ দিন ৬ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
১৩ দিন ৯ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে