ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলের পক্ষে সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন ও র্যালি কর্মসূচি পালন করেছে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ তারিখ) সকাল ১১ টার সময় রাজু ভাস্কর্যের সামনে ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিল চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ও র্যালী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে, উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে যাওয়ার সময় ঢাবি প্রশাসনের দায়িত্বরত ব্যক্তিগণ পথিমধ্যে আন্দোলনকারীদের র্যালি থামিয়ে উপাচার্যের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করতে চান কিন্তু আন্দোলনকারীগণ প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের সাথে সরাসরি কথা বলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান। এ সময় আন্দোলনকারীগণ বিভিন্ন ধরণের ট্রান্সজেন্ডার কোটা বিরোধী স্লোগান দেন এবং লিফলেট বিলি করেন। এক পর্যায়ে উপাচার্যের সঙ্গে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- অনতিবিলম্বে ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিল করা; দ্রুত সময়ে এই ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা; হিজরা জনগোষ্ঠীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে পড়াশোনার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ধারীদের কোটা ব্যবস্থায় আনার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মতবাদকে প্রমোট করে আইন এবং সংবিধান বিরোধী কাজ করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্ষমা চাওয়া। তবে তারা জানিয়েছে, আলোচনার ভিত্তিতে এ দাবিগুলো পরিবর্তন করা হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তাদেরকে কোটার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। সেদিক থেকে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী কোটার সুযোগ পাবে এবং তাদেরকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলারে কোটার ক্ষেত্রে লেখা হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গ অথবা ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা প্রযোজ্য। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডারকৃত শিক্ষার্থীরা কোনো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নয় তারা স্বেচ্ছায় তাদের লিঙ্গ রূপান্তর করছে সুতরাং তাদের জন্য কোটা প্রযোজ্য নয়। সেক্ষেত্রে সার্কুলার সংশোধনেরও দাবি শিক্ষার্থীদের।
আরো শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে আশিক খান জানান যে, দেশে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য বিশেষ কোটা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে মূলত কলুষিত ও একই সাথে হাসির পাত্র বানানো হয়েছে। কেননা দেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী শুধু মাত্র যারা অনগ্রসর বা ব্যকওয়ার্ড শ্রেণি তাদের জন্য কোটা ব্যবস্থা রাখার বিধান আছে। কিন্তু নিজের শরীরকে বিকৃত করে, লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো কুৎসিত কাজ করে তারা কিভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মর্যাদা পায় তা আমার বুঝে আসেনা। এতে বরং যারা সত্যিকার অর্থেই অনগ্রসর যেমন খুদ্র নৃগোষ্ঠী, বা তৃতীয় লিঙ্গের বলে পরিচিত হিজড়াদের সাথে অন্যায় করা হয়। কেননা এসব কোটার একমাত্র তারাই যোগ্য। আমার কাছে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয় না বুঝে বিজ্ঞপ্তিতে এমন কাজ করেছে অন্যথায় ভুলে করেছে। আর এর দুইটার একটাও যদি না হয় তাহলে তারা এলজিবিটিকিউ এর মতো ভিন্ন কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের পায়তারা করছে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি সার্কুলারে নতুন করে ট্রান্সজেন্ডার কোটা প্রবর্তন করা হয়েছে। যেখানে হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডারকে এক করে দেখানো হয়েছে অথচ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় । হিজড়ারা জন্মগতভাবেই লৈঙ্গিক বৈকল্য নিয়ে জন্মায়, তারা আমাদের সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, সুতরাং তাদেরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে । কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বিষয়টি সম্পূর্ণ মানসিক বিষয়। একজন পুরুষ মনে করছে সে আসলে পুরুষ না বরং নারী, সুতরাং সে নারীর বেশভূষা ধারণ করবে এবং সে চায় সমাজ তাকে নারী হিসেবেই স্বীকৃতি ও অধিকার দিবে৷ একই কথা নারীর ক্ষেত্রেও৷ সার্কুলারে এই ট্রান্সজেন্ডারকে হিজড়াদের সাথে একাকার করে বিশেষ কোটা সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মতবাদকে অনুমোদন, বৈধাকরণ ও উদ্ভুদ্ধকরণ করা হল। অথচ এটি একদিকে আমাদের দেশীয় রীতিনীতি, সভ্যতার প্রতি হুমকি অপরদিকে এটি আমাদের সংবিধানের ও পরিপন্থী। ট্রান্সজেন্ডাররা সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীও নয় যে তারা কোটা সুবিধা পেতে পারে। তারা যেমন পাচ্ছে পশ্চিমা ফান্ডিং, তেমনি পাচ্ছে দেশীয় বিভিন্ন এজেন্সি, সংস্থার সাহায্য। বরঞ্চ তাদেরকে কোটা সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে হিজড়াদের অধিকার সংকুচিত করা হল, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অযৌক্তিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা অবিলম্বে সার্কুলার থেকে "ট্রান্সজেন্ডার" শব্দটিকে প্রত্যাহার করার দাবী জানাচ্ছি৷
রোকেয়া হলের এক নারী শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোটা পদ্ধতি মূলত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে একটা ভারসাম্য রক্ষায় নিয়ে আসা হয়েছে ৷ এখানে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্যও যদি কোটা পদ্ধতি বহাল রাখা হয় তাহলে আদতে কোটার আসল উদ্দেশ্যেই ব্যহত হয় ৷ তাছাড়া ট্রান্সজেন্ডাররা কোন জন্মগতভাবে বিকলাঙ্গ তা নয়। তারা নিজেদের মানসিক পছন্দ মতো পরিবর্তিত হচ্ছে। তাহলে তাদের জন্য কেন কোটা দিতে হবে? আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার৷ ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো মেনে নেয়া হোক ৷
উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ সেশনের ভর্তি সার্কুলারে প্রতিবন্ধী কোটায় ট্রান্সজেন্ডার/হিজড়া নামে একটা কোটা চালু করা হয়। শিক্ষার্থী ট্রান্সজেন্ডার কোটার উপর আপত্তি তুলে এবং এটার দ্রুত প্রত্যাহার চান।
১৮ দিন ১৯ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৫১ দিন ৩ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৭৩ দিন ৯ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৭৪ দিন ১০ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৯৩ দিন ৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১২০ দিন ২১ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
১৯৩ দিন ১১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১৯৬ দিন ৪ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে