দেশসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজশাহী কলেজের বিশাল সবুজ ক্যাম্পাসে যেন প্রকৃতি নিজের মায়াজাল বুনে চলেছে। এই সবুজের মাঝে, একটি বুলবুলি পাখি তার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে এবং সেখানে বাসা বেঁধেছে। এরই মধ্যে সেই বাসায় আসে নতুন সদস্য, দুটি বুলবুলির বাচ্চা, যা এই ক্যাম্পাসের প্রাণের স্পন্দনে নতুন মাত্রা যোগ করে সবুজ ক্যাম্পাস এমনিতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্তির এক রাজশাহী কলেজের আদর্শ আবাসস্থল প্রদান করে। প্রকৃতির এই অনাবিল সংসারে বুলবুলির বাঅপূর্ব সমাহার। এই সবুজ পরিবেশ যেন বুলবুলি পাখিদের বাচ্চাদের জন্ম শুধু একটি বিষয় নয়, এটি এক প্রকৃতির চক্রের অংশ যা জীবনের নিত্য নব সংযোজন এবং প্রাণের উৎসব বলে দাঁড়ায়।
এই বুলবুলির বাসা এবং তার নতুন সদস্য রাজশাহী কলেজের সকলের মাঝে এক বিশেষ আকর্ষণ ও উষ্ণতার সৃষ্টি করেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাসে আগত অতিথিরা এই ছোট্ট পাখির পরিবারের প্রতি এক অনাবিল মমতা ও যত্নের ভাব প্রকাশ করে। এতে করে, এই ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষার আলো ছড়ায় না, বরং জীবনের শিক্ষাও দান করে।
বুলবুলির বাচ্চাদের জীবনের প্রথম ধাপে রাজশাহী কলেজের এই সবুজ পরিবেশ যেন এক আদর্শ শিক্ষা ক্ষেত্র। তাদের প্রথম উড়ান, খাদ্যের সন্ধান, পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়া - এই সব কিছু শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের গভীর শিক্ষা নিয়ে আসে।
এই ঘটনা রাজশাহী কলেজ সম্প্রদায়ের জন্য না শুধু এক আনন্দের উপলক্ষ,বরং এটি প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক ও তার অপার সৌন্দর্যের মূল্যায়নের এক অমূল্য শিক্ষা। বুলবুলির এই ছোট্ট পরিবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যে জ্ঞানের অন্বেষণ কেবল বই এবং শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, প্রকৃতির এই বিশাল শিক্ষাগারেও অজস্র শিক্ষা লুকিয়ে আছে।
রাজশাহী কলেজের এই সবুজ সংসারে বুলবুলির বাসা ও তার নতুন সদস্যরা আমাদের সামনে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনুপম উদাহরণ তুলে ধরে। এই ঘটনা আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহজীবন সম্ভব এবং এটি একে অপরের সৌন্দর্য ও অস্তিত্বকে আরও বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশের আকাশে এবং বাগানে বুলবুলি পাখির মিষ্টি সুর এক অপার মুগ্ধতা ছড়ায়। কবি নজরুলের গান থেকে শিশুদের ছড়া পর্যন্ত, বুলবুলির মধুর উপস্থিতি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত। রাজশাহী কলেজের হাজি মোহাম্দ মহসিন ভবনের সামনে একটি থুজা গাছের আড়ালে একটি বুলবুলি পরিবারের দৈনন্দিন জীবন এক অনুপম দৃশ্য তৈরি করে। দুই শাবকের প্রতি তাদের মায়ের অসীম যত্ন ও ভালবাসা আমাদের মন ছুঁয়ে যায়।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০ প্রজাতির বুলবুলি থাকলেও বাংলাদেশে ১১ প্রজাতির বুলবুলির দেখা মেলে। এরা বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে - সাদা বুক, ছাইরঙা, কালো, পাহাড়ি, সবুজ, কালো মাথা, হলুদ, সিপাহি, এবং ঝুঁটিদার বুলবুলি উল্লেখযোগ্য। এদের লেজ লম্বা, ঠোঁট সামান্য বাঁকা, এবং মাথায় চুলের মতো ছোট্ট কালো ঝুঁটি থাকে, যা এদের একটি অনন্য চেহারা প্রদান করে। এদের খাদ্য তালিকায় থাকে ফল, ফুলের নির্যাস, এবং পোকা-মাকড়।
বুলবুলির মধুর ডাক আমাদের মন কাড়ে। এরা নিজেদের সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে আমাদের মনে এক অনাবিল শান্তির আবহ সৃষ্টি করে। এদের প্রতি আমাদের ভালবাসা এবং যত্নের মাধ্যমে এই সুন্দর প্রাণীদের বেঁচে থাকার পরিবেশ আরও সুরক্ষিত এবং সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অনন্য উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে এই বুলবুলির পাখি ও তার বাচ্চাদের উপস্থিতি থেকে। অনেকে মনে করেন, এই পাখিরা তাদের দৈনন্দিন শিক্ষাজীবনে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্তির বার্তা বয়ে আনে। তারা মনে করেন এই পাখিরা না কেবল তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়, বরং এরা পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের পাপিয়া খাতুন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের ব্যস্ত এবং চাপযুক্ত পড়াশোনার মাঝে, এই পাখিদের সংগ্রাম এবং তাদের প্রতিদিনের জীবন তাদেরকে প্রকৃতির সাথে যুক্ত থাকার গুরুত্ব এবং প্রাণীজগতের প্রতি দায়বদ্ধতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। এই পাখিদের দেখে আমাদের পরিবেশকে আরও বেশি যত্নের সাথে রক্ষা করার প্রেরণা পাই, কারণ এই পাখিরা আমাদের পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় প্রাণীজগতের এক অংশ।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীর রাইশা ইসলাম বলেন, বুলবুলি পাখি দেখতে সুন্দর না হলেও তার কন্ঠ ব্যাপক সুন্দর। বসন্তের মাঝে গান গাইতে এসেছে এই বুলবুলি পাখি তাই এই বুলবুলি পাখিকে গানের পাখিও বলা যায় । এই পাখি দেখলে শুধু গানের কথায় না বরং আমাদের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায় ছোট বেলার সেই ছড়াগুলো।
অর্থনীতি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তামিম তুলি বলেন, কলেজের মধ্যে বুলবুলি পাখি দেখে খুব ভালো লাগে কারণ মাঝে মাঝে বাতাসে ভেসে কানে আসে পাখির মিষ্টি টিউ-টু-টুল সুর। রাজশাহী কলেজের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যি অসাধারণ। গাছের পাতার ফাঁক থেকে বেড়িয়ে আসে বুলবুলি পাখি যেটা আমার অনেক ভালো লাগে।
সার্বিকভাবে, এই পাখির উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং যত্নের অনুভূতি জাগ্রত করেছে, এবং তারা এই ছোট্ট পাখিদের মধ্যে পেয়েছেন বড় এক শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা আব্দুল খালেক।
তিনি বলেন, এই ঘটনা শুধুমাত্র পাখিদের সৌন্দর্য এবং প্রকৃতির মাঝে বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা না বলে, বরং এটি তাদের কলেজের পরিবেশের এক অনন্য সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আমাদের শিক্ষার্থীরা এই পাখিদের মাধ্যমে শিখতে পারে যে প্রকৃতি ও প্রাণীজগতের সঙ্গে সহজীবনের গুরুত্ব কত বেশি। এটি আমাদের সকলের জন্য একটি শিক্ষা, যে আমরা যে পরিবেশে বাস করি, তা কেবল আমাদের জন্য নয়, বরং এই পৃথিবীর সকল প্রাণীর জন্য।
তিনি এই পাখিদের সংরক্ষণের উপর জোর দিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র বুলবুলির পাখির বিষয় নয়, বরং সকল প্রকার প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হওয়ার একটি বার্তা। তিনি শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষকদের উদ্দীপিত করেন তারা যেন তাদের চারপাশের প্রকৃতি এবং পরিবেশকে আরও বেশি মূল্যায়ন করে এবং এর যত্ন নেয়।
১১ দিন ২৩ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১২ দিন ২৩ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
১৪ দিন ১২ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১৫ দিন ১৪ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১৬ দিন ২৩ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
২১ দিন ২ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
২১ দিন ৯ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
২১ দিন ১২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে