আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪। ১৯৬৯ সালের এই দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহাকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। শহীদ ড. জোহা দিবস স্মরণে শহীদ শামসুজ্জোহা ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেস কর্তৃক শহীদ ড. শামসুজ্জোহার সমাধিতে পুষ্প স্তবক অর্পণ করা হয়।সকাল ১০.৩০ মিনিটে ড. শামসুজ্জোহার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শহীদ শামসুজ্জোহা ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেস এর প্রতিষ্ঠাতা ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন উক্ত ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
এই দিবসকে স্মরণ করার লক্ষ্যে এবং শহীদ ড. শামসুজ্জোহা'র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানের নিমিত্তে শহীদ শামসুজ্জোহা ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেস কর্তৃক শোক র্যালি আয়োজন করা হয়। শহীদ ড. শামসুজ্জোহা'র হত্যাকাণ্ডের ফলে সমগ্র দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ছাত্র আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। ঢাকাসহ সমগ্র বাংলায় ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং শ্রমিক জনতা ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেন। পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী এই আন্দোলনের তীব্রতা দেখে পাকিস্তান সামরিক সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে জেল থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৬৯ সালের এই গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যার সূত্রপাত হয়েছিল ড. জোহা স্যারকে হত্যার মধ্য দিয়ে।
একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ড. শামসুজ্জোহা স্যারের হত্যাকান্ড ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম উপলক্ষ হিসেবে কাজ করেছিল। ১৯৬৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্যারের হত্যাকাণ্ডের পর আজ অবধি ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ সরকার এই দিনটিকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেননি। প্রতিবছর ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয় এবং এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও অফিস বন্ধ থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই দিনটিকে 'জাতীয় শিক্ষক দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানানো হলেও আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোন স্বীকৃতি প্রদান করা হয়নি। শহীদ শামসুজ্জোহা ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেস এই দিনটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণার জোর দাবি জানায়। এই ইনস্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, শহীদ ড. শামসুজ্জোহা বাংলাদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। পাকিস্তান সামরিক জান্তা সরকার কর্তৃক ড. শামসুজ্জোহা স্যারের হত্যাকাণ্ডের ফলে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। এই আন্দোলনের তীব্রতা দেখে পাকিস্তান সামরিক সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মিথ্যা মামলার অন্যতম আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ফলশ্রুতিতে পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয় এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের পথকে ত্বরান্বিত করে।
৩৩ দিন ১৯ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৩৫ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৪৯ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৫২ দিন ৬ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৫৯ দিন ৩ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৬০ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৬২ দিন ৪ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
১১১ দিন ২ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে