রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আটজন মাস্টার্স পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম দেখিয়ে ডিসকলেজিয়েট (পরীক্ষা দেওয়ার অযোগ্য) করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সমাধানে হস্তক্ষেপ কামনা করে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অনশন করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের কারুশিল্প ডিসিপ্লিনের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর থিসিস ও নন-থিসিস পর্যায়ের আট শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন একই ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন আহাম্মেদ ওরফে টভেল।
গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট এ বিষয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে স্বরলিপি জমা দেন। সেখানে ওই শিক্ষকের হুমকি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, 'প্রতি মাসের শেষে আমাদের কাছ থেকে এটেন্ডেন্স খাতায় স্বাক্ষর নেয়া হয়। শিক্ষকের উপর আস্থা রেখে আমরা স্বাক্ষর করি। পরবর্তীতে, এই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কম এটেন্ডেন্স দেখিয়ে আমাদের ডিসকলেজিয়েট করা হয়েছে। শুরু থেকেই আমাদের ডিসকলেজিয়েট করার এবং পরীক্ষা না দিতে দেওয়ার হুমকি দেয়া হতো। শ্রেণি শিক্ষক (ক্লাস টিচার) বারবার বলতেন, ‘তোমরা কীভাবে পরীক্ষা দাও আমি দেখে নেব’।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, মোট ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনকে ইচ্ছাকৃতভাবে কম এটেন্ডেন্স দেখিয়ে ডিসকলেজিয়েট করা হয়েছে, যেটা অফিসিয়ালি তাদেরকে কোনোভাবে জানানো হয়নি। নিয়মিত ক্লাস করার পরও এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। শ্রেণি শিক্ষক প্রতিদিন ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ডিপার্টমেন্টে আসেন, যেখানে তিনি তাদের সাড়ে নয়টা থেকে ক্লাসে থাকতে বলতেন এবং বিভিন্ন কর্মচারী ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের থেকে শুনে তার ভিত্তিতে এটেন্ডেন্স দিতেন। এই নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকেই ক্লাসে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত হই।
তারা আরো বলেন, গোপনে এবং মাত্র ২ দিন সময় দিয়ে ৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করানো হয়েছে। বাকি ৮ জন শিক্ষার্থীকে এই প্রক্রিয়া থেকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে, যেটা উনারা ফরম ফিলাপের একদম শেষের দিনে নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করেছেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তাদের পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মনির উদ্দিন আহাম্মেদ ওরফে টভেল বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। কারণ হলো, এরকম অনেক কথা তারা লিখেছে। আমি হুমকি দেওয়ার কে? ক্লাসতো আরো কয়েকজন শিক্ষক নিয়েছে, আমিতো একা নেয়নি? আপনারা অফিসে এসে সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কাগজপত্র সব রেডি আছে। তারা ক্লাস করার পরে মাস শেষে অ্যাটেনডেন্স শিটে স্বাক্ষরও করেছে। সব সাক্ষ্য প্রমাণ আছে। এখন তারা যদি ক্লাস না করে, তাহলে আমি কিভাবে কি করবো? দয়া করে উপস্থিতি দেখানোর ক্ষমতা আমার নাই। তাদের সাথে তো আমার ব্যক্তিগত খারাপ সম্পর্কও নাই।
৩৩ দিন ১৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৩৫ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৪৯ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৫২ দিন ৬ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৫৯ দিন ৩ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৬০ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৬২ দিন ৪ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
১১১ দিন ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে