জনদুর্ভোগ আর শতযন্ত্রণার নাম ৮৯ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত
কালুরঘাট সেতু। এই দুর্ভোগ যেন শেষই হতে চায় না। বছরের পর বছর ধরে কালুরঘাট সেতুর দুর্ভোগ বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাংশের জনগণের নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হয় না। নতুন সেতুর স্বপ্ন-স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে বছরের পর বছর। সেতু আর হয়ে না। নতুন সেতুর পরিবর্তে শুরু হয় পুরাতন সেতুর সংস্কার কাজ। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা অবস্থা ।
গত ১ আগষ্ট থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কতৃক এ সেতুর সংস্কার কাজ শুরু হলে বোয়ালখালীবাসীর কষ্ট যেন আরো কয়েক গুন বেড়ে যায় । সেতু মেরামতের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিকল্প হিসেবে কর্ণফুলী নদীতে ফেরি চালু করা হয়। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে এখানকার চলাচলকারীদের কে । নদী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফেরি সার্ভিস প্রয়েজনর চেয়ে অপ্রতুল হওয়ায় ফেরিতে ওঠার জন্য নদীর দুই পাশে যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এ সময় সৃষ্টি হয় যানজটের। ফেরি আসতে দেরি হওয়ায় অনেকে বিকল্প হিসাবে নৌকায় করে নদী পার হয়েছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, জোয়ারের পানিতে পন্টুন ডুবে যাচ্ছে। সেই ডুবন্ত পন্টুন পাড়ি দিয়ে তাদের উঠতে হচ্ছে ফেরিতে। একইভাবে ফেরি থেকে নেমে পানি ডিঙিয়ে তীরে উঠতে হচ্ছে। আবার ফেরির যান্ত্রিকক্রুটির কারণে ভোগান্তিতো আছেই ।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান অবলম্বন হচ্ছে কালুরঘাট সেতু।
দুই বছর আগে রেল কর্তৃপক্ষ দুই লেনের সড়ক কাম ডুয়েল-গেজ সিঙ্গেল ট্র্যাক রেল সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রকল্পের ড্রইং-ডিজাইন, প্রকল্পের বাজেট এবং প্রকল্পের মেয়াদ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। রেল কর্তৃপক্ষের এই ডিজাইনে নদী থেকে সেতুর উচ্চতা ৭ দশমিক ৬ মিটার করলে তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি নদী থেকে সেতুর উচ্চতা ১২ দশমিক দুই মিটার হতে হবে। তাতেই আটকে যায় নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সমস্ত কার্যক্রম।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার বলেন, “সেতুটি না হওয়ায় মানুষ মানসিক আঘাত পেয়েছে, কারণ এখানকার প্রতিটি নাগরিক আশা করেছিলেন নতুন সেতুটির কাজ এর মধ্যে একদিন না একদিন শুরু হবে। অনেক আশা আর স্বপ্ন ছিল এটি নিয়ে, কিন্তু এখন তাদের প্রশ্ন এই নতুন সেতু কি আদৌ তারা তাদের জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারবেন কিনা। এখন গোঁ দের উপর বিঁষ ফোঁড়ের মত, কালুরঘাট সেতু সংস্কারের নামে অপর্যাপ্ত ফেরি চলাচল মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ঁ