আশাশুনির বিছট খোলপেটুয়া নদীর বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ৪ দিন পর শুক্রবার অবশেষে রিং বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভেসে গেছে কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি, মৎস্য ঘের ও পোল্টি মুরগির খামার। প্লাবিত এলাকার বানভাসি মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ভাঙ্গণ পার্শ্ববর্তী পাউবো বাঁধের উপরে। মানুষ ও গো খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে ও বিচ্ছিন্নভাবে কাউকে কাউকে শুকনা খাবার সরবরাহ করতে দেখা গেছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।প্রতক্ষদর্শী স্থানীয় সূত্রে ও সরজমিনর ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে বিছট প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পশ্চিম ধারে পাউবো'র বেড়ী বাঁধে বেশ কিছ দিন পূর্বে ফাটল দেখা দেয়। এতে বাঁধ ঝুকিপূর্ণ হলে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নিঃর্ঘুম রাত কাটাতে থাকে। অবশেষে গত ৩১ মার্চ সোমবার (ঈদ-উল-ফেতরের দিন) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে জোয়ারে চাপে ঝুকিপূর্ণ বাঁধ ছাপিয়ে ভেতরে খোলপেটুয়া নদীর লোনা পানি ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে। স্থানীয় জনগন জানতে পেরে পানি আটকানোর চেষ্টা করার আগেই বাঁধের ১০/১৫ হাত ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে যায়। ফলে নদীর পানি প্রবল বেগে ভেতরে প্রবেশ করে বিছট গ্রাম প্লাবিত হয়ে মৎস্য ঘের, ফসলি জমি, পুকুর, পোল্টি ফার্ম ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।ঈদ-উল-ফেতরের নামাজরত অবস্থায় মুঠোফোনে খবর পেয়ে আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস, ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতুবৃন্দ ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে তড়িত সিদ্ধান্তে ৯ টার দিকে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ শুরু করে প্রাথমিকভাবে ছোট করে রিং বাঁধ দেয়। কিন্তু, দুপুর ১২ টার দিকে জোয়ারের পানি অধিক পরিমানে প্রবাহিত হয়ে রিং বাঁধ ছুটে গিয়ে মুহুর্তের মধ্যে ৪০/৫০ ফুট বাঁধ ভেঙ্গে যায় এবং প্রবল বেগে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণা রায়, সাতক্ষীরা থেকে পাউবো কর্তৃপক্ষ উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সে থেকে বাঁধ আটকানো বা পানির প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে জোয়ারে ভেতরে পানি প্রবেশ ও ভাটায় নদীতে পানি নিস্কাষন কালে বাঁধের ভাঙ্গন বাড়তে বাড়তে বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৩০০/৩৫০ ফুট নদী গর্ভে চলে গেছে। ততক্ষনে ইউনিয়নের বিছট, নয়াখালী, বল্লভপুর, আনুলিয়া, কাকবাসিয়া সহ ১০ গ্রাম পানিতে ডুবে প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হযেছে প্রায় ১২ শত পরিবারের ১৫ হাজার মানুষ । পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার বিঘা মৎস্য ঘের, ৮ শত বিঘা ফসলি জমি, পুকুর, হাঁস-মুরগি, গরু-চাগলের খামার। ৩০০ অধিক কাঁচা ঘর বাড়ী পানিতে ডুবে ধ্বসে ভেঙ্গে গেছে। এসব প্লাবিত এলাকার মানুষের রান্না খাবার, হাঁস-মুরগী ও গো খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। প্লাবিত এলাকার বানভাসি মানুষ পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র ও পাউবো'র বাঁধে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেহ কেহ অন্য গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ী উঠেছে। সরকারিবাবে ও বেশ কিছু যুবককে পানি বন্দি এলাকার মানুষের মাঝে শুকনা খাবার সরবরাহ করতে দেখা গেছে, যাহা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।এদিকে, গতকার শুক্রবার (০৪ এপ্রিল) দীর্ঘ ৫ দিন পাউবো কর্তৃপক্ষে তড়িত ব্যবস্থাপনা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যান রুহুল কুদ্দেন সার্বিক সহযোগীতায় মূল বাঁধ থেকে প্রায় ৩০০ মত বিঘা জমি বাদ দিয়ে রিং বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে জিও কাপড়ের রোল দিয়ে, যা অন্য জায়গা থেকে বালু নিয়ে বলগেটের মাধ্যমে টিউব দিয়ে বালু রোলের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে রোল ভর্তি করা।এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, পাউবো'র ১ ও ২ নং পোল্ডারের কর্মকর্তাদের একসাথে হয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়ায় দ্রুত বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এখন প্রয়োজন বানভাসি অসহায় মানুষের খাদ্য সরবরাহ ও পুনঃবাসনের ব্যবস্থা করা। সেটা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। দ্রুত সে ব্যবস্থা করা হবে। পাউবো'র নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জরুরী ভিত্তিতে রিং বাঁধ বাধার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মুল বাঁধ কিছুদিন পরেই করা সম্ভব হবে। এখন রিং বাঁধের সংস্কার কাজ অব্যহত থাকবে। ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুন জানান, অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়াতায় রিং বাঁধ বাধা সম্ভব হলো। মূল বাঁধের কাজ কিছুদিন পরে করা যেতে পারে।ভাঙ্গন শুরু থেকে রিং বাঁধ বাধার পূর্ব মুহুর্ত অর্থাৎ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খালনা বিভাগীয় কমিশনার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পাউবো'র বিবাগীয় সুপারেন্টডেন্ট প্রকৌশলী, সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী, বিএনপি'র জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ সহ কৃষি মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কাজ চলাকালে সার্বক্ষনিক উপস্থিত ছিলেন ও তদারকি করেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণা রায়, সেনা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ সেনা সদস্যবৃন্দ, আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। #
৭ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ২ মিনিট আগে