চট্টগ্রাম পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে হাজারো ভক্তের আনন্দ-অশ্রুতে সিক্ত হয়ে এবারের মতো বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা। ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় দেবী দুর্গার ঘুম ভাঙানোর বন্দনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তার সাঙ্গ হলো প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে
বিজয়া দশমীতে।
২৪ অক্টোবর ( মঙ্গলবার) দুপুর থেকেই বৈরী আবহাওয়ার মাঝে গুড়ি গুড়ি বৃস্টি উপেক্ষা করে পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় ভিড় করতে থাকে ভক্তরা। দশমীর আনুষ্ঠানিকতা প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয় দুপুর আড়াইটায়। এ সময় সৈকতে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে সাগরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।
হাজারো ভক্ত আর দর্শনার্থী উপস্থিততে পুরো
সৈকত এলাকা ঢাকের তালে উৎসবের আমেজ যেমন ছিল, তেমনি ছিল দেবী দুর্গার বিদায় জানানোর বেদনার সুর ।
তেল-সিঁদুর পরিয়ে, পান, মিষ্টি মুখে দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাতে সৈকতে ভিড় করেন ভক্ত ও অনুরাগীরা। নানা ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এর আগে সকালে ১০ উপাচারে দেবীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরে দেবীর চরণে ফুল, সিঁদুর, বেল পাতা ও মিষ্টি দিয়ে বিভিন্ন আচার পালন করে ভক্তরা। নারীরা একে অপরের মাথায় সিঁদুর ছোঁয়ান। দীর্ঘায়ু কামনা করেন পরিবারের সদস্যদের।
বিসর্জন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য পতেঙ্গা সৈকতে কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এর পরও প্রতিমাবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। র্যাব, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানা্ন, শান্তিপূর্ণভাবে সাগরে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন। সৈকত ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন বলেন, 'এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান পূজামণ্ডপ জেএম সেন হলসহ ১৬টি থানায় ব্যক্তিগত, ঘটপূজাসহ ২৬৯টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়। পরিষদের পক্ষ থেকে সবাইকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ধর্মীয় রীতি মেনে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, নেভাল-২, অভয়মিত্র ঘাট এবং কালুরঘাট সেতু এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর করোনার কারণে ভক্তরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে পারেনি। এ বছর কোনো বিধি-নিষেধ না থাকা সবাই নির্বিঘ্নে বিসর্জন দিতে পারবে বলে আশা করছি।
৬ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৯ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৬৩ দিন ৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৬৫ দিন ৮ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৬৮ দিন ২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৬৮ দিন ৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৯০ দিন ১ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৯১ দিন ২ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে