নেত্রকোনায় অসহনীয় গরম তীব্র লোডশেডিং
নেত্রকোনায় গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে লোডশেডিং। এরমধ্যে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে গ্রামগুলোতে। স্থানীয়রা বলছেন, কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। বিঘ্নিত হচ্ছে বোরো ধানের খেতে সেচ। এজন্য উঠতি বোরো ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিদ্যুতের মোট গ্রাহক ৬ লাখ ৮১ হাজার ১১৯।
নেত্রকোনা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাহমুদ এলাহীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ওই সময়ের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। পাওয়া গেছে ১৬ মেগাওয়াট। গরম বেশি থাকায় ২৬/২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার মধ্যে ১৬ মেগাওয়াট পাওয়া যায়। প্রতিদিন চার ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে দুর্গাপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ২৪ ঘন্টার মাঝে ১৮ থেকে ১৯ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
জেলার বারহাট্টা, দুর্গাপুর, পূর্বধলা, কলমাকান্দা, মদন, আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার অন্তত ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সদরে লোডশেডিং তেমন হয় না। একবার বিদ্যুৎ গেলে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার মধ্যেই চলে আসছে। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে না বলে জানান স্থানীয়রা। কেন্দুয়ার ১২টি ফিচারের আওতায় ৯০ হাজারের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। গড়ে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট।
দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় গ্রামের বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, দিনে মাত্র ৫/৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাও আবার ভোল্টেজ কম থাকায় সেচের মেশিন চলে না। এতে করে বোরো ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া গরমের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ, মানুষজন রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।
কেন্দুয়ার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে আমরা বৈষম্যের শিকার। ১ নম্বর ফিডারটি সারাক্ষণ চালু থাকে। এই লাইনে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারাসহ সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা বসবাস করেন। আর অন্য ফিডারগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সেচসহ সব ধরনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গাপুরের গাঁকান্দিায়া গ্রামের আলমগীর মিয়া বলেন, ‘দিনে-রাতে কতবার বিদ্যুৎ যায়, জমাহিসাব নেই। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত হচ্ছে। কৃষি জমিতে পানি দিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।
জেলার আটপাড়া উপজেলার সোনাজুর গ্রামের হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বারবার লোডশেডিং হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১১ লাখ ৮০ হাজার ১৬২ টন ধান। সঠিক সময়ে ধানে পানি দিতে না পারলে আবাদ কমে যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ জানান, এ মুহূর্তে ১২০ মেগাওয়াট প্রয়োজন, কিন্তু সরবরাহ হয়েছে ৫৫/৬০ মেগাওয়াট। সরবরাহের তুলনায় ঘাটতি প্রতিদিন। এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সেচ কাজের জন্য বারহাট্টা, পূর্বধলা ও দুর্গাপুরে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা হচ্ছে।
৭ দিন ৬ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
২৫ দিন ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৩০ দিন ১১ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৩২ দিন ১৫ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৪৮ দিন ৮ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৪৮ দিন ৮ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৬৬ দিন ১০ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
১০০ দিন ১৪ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে