জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করেছে শিক্ষাবোর্ড। এতে কেন্দ্রের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলোর ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কেন্দ্র এনিয়ে কোমলমতি শিশু পরীক্ষার্থীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পরীক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকদের দাবি, পরীক্ষা কেন্দ্রটি পুনর্বহালের। তা না হলে ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে ভাড়াবাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এতে নানাবিধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
জানা যায়, ময়মনসিংহের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সামছুল ইসলাম এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. কামাল হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত গত ২৭ অক্টোবর এক চিঠিতে গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রটি বাতিল করা হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে পরীক্ষাচলাকালে ব্যাপক নকল সংগঠিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রটি বাতিল করা হয়।
গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে তৎকালীন ইসলামপুর আসনের এমপি বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উপজেলা সদর থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরে ওই বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র প্রথমবারের মতো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরের বছরে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র অনুমোদন দেয় শিক্ষাবোর্ড। পরীক্ষা কেন্দ্রটিতে ৬টি বিদ্যালয়ের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বিগত ৬ বছরে সুনামের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে আসছিল। চলতি বছরে ৬ টি বিদ্যালয়ের সাড়ে ৬ শত এসএসসি পরীক্ষার্থী কেন্দ্রটিতে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এসএসসি পরীক্ষার্থী পারভীন আক্তার, নার্গিস, মাহিন, ফুলমামুন, নিয়ামূল, কবিতা, সীমা, কাওসার, হাসান, সিফাতসহ অনেকেই জানায়, 'পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল হওয়ার খবরে পরীক্ষার্থীদের চিন্তা বাড়ছে। কারণ এখন কোথায় পরীক্ষা হবে, সেটা সিদ্ধান্ত হয়নি। নিজ বাড়ি থেকেই এ কেন্দ্র পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কেন্দ্র বাতিল হলে আমাদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটবে। উপজেলা সদরে ভাড়াবাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। আমাদের দাবি, পরীক্ষা কেন্দ্রটি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে যেনো কেন্দ্রটি পুনর্বহাল করা হয়।
পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ফারুক মিয়া, আজিজ, নাজমা বেগম, আফরোজা আক্তারসহ অনেকেই বলেন, 'কুচক্রীমহলের দেওয়া নকল সংগঠিত হওয়ার তথ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রটি বাতিল করা হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। কেন্দ্রটি উপজেলা সদরে স্থানান্তর করা হলে, সেখানে বাসাভাড়া নিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এতে গুনতে হবে মোটা অংকের অর্থ ও সময়। মূলত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়ে একটি বিশেষ মহল ফাঁয়দা নিতে উঠেপড়ে লেগেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তের মুখোমুখি হচ্ছে পরীক্ষার্থীরা।'
গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, 'কেবা কারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সংগঠিত হওয়ার বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করেছে। কেন্দ্রটি বাতিল হলে, পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রটি পুনর্বহালের দাবি করছি।'
সদ্য বাতিল হওয়া এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, 'আমরা নিয়মানুযায়ী পরীক্ষাগ্রহণ করেছি। পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের বিষয়ে আমরা অবগত নই।'
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপার ভাইজার মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, 'পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করা কিংবা কেন্দ্র রাখার বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। এটা শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ার।'
২২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১০ দিন ১৬ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৩ দিন ২২ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে