জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ইউজিপি প্রকল্পের ৩৩ দিনের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় গৃহীত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ২ সপ্তাহ আগে। কিন্তু এখনো পাননি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৮১৪ জন শ্রমিক। এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা। কাজ শেষ হওয়ার ২ সপ্তাহ পরও টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকেরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, শ্রমিকদের মজুরির টাকা পেতে যথাসময়ে কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই টাকা পেয়ে যাবেন শ্রমিকেরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৫৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ৩৩ কর্মদিসের মধ্যে ৩২ দিন চলে এ প্রকল্পের কাজ। এতে মাথাপিছু চার শত টাকা মজুরির ভিত্তিতে ২ হাজার ৮১৪ জন নিবন্ধিত শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পায়।
প্রতি প্রকল্পে একজন করে মোট ৬৬ জন শ্রমিক সর্দারসহ প্রতিজন শ্রমিক দৈনিক ৪০০ টাকা করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাজিরা ভাতার টাকা পাওয়ার কথা।
কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে গত ২৫ মে। গত ১২ মে প্রথম কিস্তির ২১ দিনের মজুরির টাকা পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রেরণ করা হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কর্যালয় থেকে।
সব প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
সাপধরী ইউনিয়নের ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিক পারভীন আক্তার বলেন, 'প্রায় দুই মাস আগে কাজ করেছি। এখনো মজুরির সব টাকা পায়নি।'
বেলগাছা ইউনিয়নের শ্রমিক হেলাল মিয়া বলেন,
'মজুরি টাকা না পেয়ে কষ্টে আছি। জিনিসপত্রের মঙ্গা দাম। টাকার অভাবে সংসার চালাতে পারছি না।'
গোয়ালেরচর ইউনিয়নের শ্রমিক মিজান আলী বলেন,
'মজুরি টাকা না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা যাতে তাড়াতাড়ি টাকা পাই, সেব্যবস্থা করা জরুরি।'
কুলকান্দী ইউনিয়নের শ্রমিক পারভীন বলেন,
'মজুরির টাকার চাইতে গেলে চেয়ারম্যান-মেম্বারের বলে টাকা দেবে সরকার। তারা সব ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু টাকা তো পাচ্ছি না আমরা।'
চরপুটিমারী ইউনিয়নের শ্রমিক পিয়ারা বেগম বলেন,
'আমরা গরিব মানুষ। টাকার জন্য রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করেছি। কিন্তু আমাদের মজুরির টাকা দিতে দেরি করা হচ্ছে কেনো?'
নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রোমান হাসান বলেন, 'মজুরির টাকা শ্রমিকেরা না পাওয়া বিপাকে পড়েছি। প্রতিদিনই শ্রমিকেরা টাকা জন্য আসছে। তাঁদের তো টাকা দিতে পারছি না।'
পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবলু বলেন, 'শ্রমিকেরা টাকার আশায় রাস্তায় মাটি কাটার মতো অনেক কষ্টের কাজ করেছি। টাকার অভাবে শ্রমিকেরা কষ্টে আছেন। এনিয়ে আমাদের বাড়তি ভোগতে হচ্ছে।'
গাইবান্ধা ইউপি মাকছুদুর রহমান আনছারী বলেন,
'শ্রমিকেরা মজুরি না পেয়ে প্রায়ই আমাদের কাছে আসে। কিন্তু টাকা পাওয়ার নির্ধারিত তারিখ বলতে পারি না। এতে শ্রমিকেরা চিন্তিত। এনিয়ে আমাদের বাড়তি ঝামেলা ভোগতে হচ্ছে।'
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান টিটু বলেন, 'শ্রমিকদের মজুরির টাকা পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো শ্রমিকদের মজুরির টাকা তাঁদের মোবাইলের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠায়নি মন্ত্রাণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। আশা রাখি, শিগগিরই শ্রমিকেরা তাঁদের মজুরির বাকি টাকা পেয়ে যাবেন।’
ইজিপিপি প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'কী কারণে এখনো কেনো শ্রমিকেরা টাকা পাচ্ছেন না, সেটা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।'
২২ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
১০ দিন ২৪ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে