দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার দায়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্যামল চন্দ্র ধরকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার পর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি বিভাগীয় ব্যবস্থা। বিপরীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাঝে মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় নির্বাচন নিয়ে আইন লঙ্ঘন করে বক্তব্য প্রদানকারী শ্যামল চন্দ্র ধরকে।
এনিয়ে সরকারি চাকুরিজীবী ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় বিশেষ কোনো দলের পক্ষে ভোট চাওয়ায় চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও এখনো শ্যামল চন্দ্র ধরের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ না করাসহ বিভাগীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিশিষ্টজনেরা বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, 'রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চাওয়া দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাকে যদি বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় আনা না হয়, সেটাও বিভাগীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।'
তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দাবি, 'পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত শ্যামল চন্দ্র ধরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় প্রক্রিয়া চলমান।'
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা মাঠে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় ওসি শ্যামল চন্দ্র ধর মাইকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে নিজের দল দাবি করে 'বিপুল ভোটে' জয়ী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া ওই সভার প্রধান অতিথি তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে 'নয়নের মণি’ এবং সভার সভাপতি ও দেওয়ানগঞ্জ পৌর মেয় শেখ মোহাম্মদ নুরুন্নবী অপুকে 'সুযোগ্য' বিশেষণে অভিহিত করেন তিনি।
গত ২৪ আগস্ট আজকের পত্রিকায় ২ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ওই বক্তব্য প্রকাশ হলে শ্যামল চন্দ্র ধরের পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে নানা মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে।
এক পর্যায়ে পরদিন ২৫ আগস্ট 'প্রশাসনিক কারণ' দেখিয়ে শ্যামল চন্দ্র ধরকে জামালপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে তিনি পুলিশ লাইনসে অলস সময় পার করছেন। তবে মাঝে মধ্যেই তাঁকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে
ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালে
পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্সের ইনচার্জে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, 'ইউনিফর্ম পরে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চাওয়া সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন। রাজনৈতিক দলের প্রতীকে ভোট চাওয়ার বক্তব্য দেওয়ার দায়ে পুলিশ পরিদর্শক শ্যামল চন্দ্র ধরকে আইনের আওতায় না এনে পুনরায় নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়াটাও সমীচীন নয়।'
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ এস এম আব্দুল হালিম বলেন, 'সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে বা কারও জন্য প্রকাশ্যে ভোট চাইতে পারেন না। এমনটি প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিসহ অন্যান্য শাস্তির আওতায় আনকে হবে। রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চাওয়া দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাকে যদি বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় আনা না হয়, সেটাও বিভাগীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।'
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, 'চাকরিরত অবস্থায় পুলিশের কোনো সদস্য রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না। এটা গুরুতর অপরাধ। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।'
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ ) মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, 'প্রশাসনিক কারণে শ্যামল চন্দ্র ধরকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। আমাদের যেটা 'প্রশাসিনক কারণে সংযুক্ত', সেটা মানেই হচ্ছে, একটা পানিসম্যান্ট। তাঁর সমস্ত নথিপত্রে এটা উঠে যাবে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে ওই সময় তাঁকে একটা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া চলমান।'
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণে শ্যামল চন্দ্র ধরকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, 'ক্লোজড করা মানে, ডিউটি করবে না; এমন না। সে যেহেতু বেতন নিচ্ছে, সেহেতু এগুলার যে ডিউটি আছে, সেগুলো তো সে করবেই। তবে তাঁকে কোনো দায়িত্বে রাখা হবে না।'
জানা যায়, শ্যামল চন্দ্র ধর প্রথম বারের মতো প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট চান গত ৯ আগস্ট দেওয়ানগঞ্জের চরআমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বিট অফিসার (এসআই) শামীমের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিংয়ের অনুষ্ঠানে। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগকে ঈঙ্গিত করে বলেন, 'আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। আগামীতে সরকার ক্ষামতায় যাবে, সেটি হবে আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।' দ্বিতীয় দফায় ১৫ আগস্ট নৌকায় ভোট চাওয়ার খবরটি গণমাধ্যমে প্রচার হলে শ্যামল চন্দ্র ধরকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
২২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১০ দিন ২১ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
১৩ দিন ২৩ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে