প্রতিটি ঈদের দিন যে বাড়িতে থাকতো উৎসবের আমেজ। সেই বাড়ি শুনশান-নীরবতা। যে মানুষটি পরিবারের সবার খোঁজখবর নিতো। আজ সেই মানুষটি অনুপস্থিত। সবমিলিয়ে চারিদিকে বইছে যেন শুধু 'নেই নেই হাহাকার'। একমাত্র অভিভাবকের হারানো শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারটি। পরিবারের কর্তাকে হারিয়ে শোকে মূর্ছমান জামালপুরের বকশীগঞ্জে হত্যাকাণ্ডে শিকার সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের পরিবারে এবার কোরবানি ঈদ কেটে গেলো নিভৃতে 'নিরানন্দে'।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে পেশাগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পদধারী কতিপয় বিপথগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক নাদিম। পরদিন ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সাংবাদিক নাদিম উপজেলার নীলাখিয়া ইউনিয়নের গোমেরচর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য আব্দুল করিমের ছেলে। বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধিসহ একাত্তর টেলিভিশন ও মানবজমিন পত্রিকার বকশীগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার প্রতিবেদন এখনো আদালতে দাখিল করেনি পুলিশ।
সাংবাদিক নাদিমের মেয়ে রাব্বিলাতুল জান্নাত অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ডিগ্রিতে পড়ছেন বড় ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত এবং ছোট ছেলে রিশাদ আব্দুল্লাহ পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে।
বাবাকে ছাড়া ঈদ কোনো ভাবেই মানতে পারছে না নাদিমের তিন সন্তান। বাবার সঙ্গে ঈদ কাঠানোর স্মৃতিগুলো তাদের মনের মাঝে কড়া নাড়ছে বারংবার।
ঘটনার আগের দিন ১৪ জুন মেয়ে রাব্বীলাতুল জান্নাতকে কলেজে ভর্তি করাতে এবং পত্রিকায় খবর প্রকাশের জের ধরে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা মামলার খোঁজখবর নিতে ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন সাংবাদিক নাদিম। ওই দিন সারা দিন বাবার সঙ্গে ছিলো জান্নাত। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাদিম হামলার শিকার হন। পরের দিন ১৫ জুন তিনি চিকিৎসা অবস্থায় মারা যান। বাবার সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা মনে করে অনবরত কাঁদছেন জান্নাত। কারও সান্ত্বনা সেই কান্না থামাতে পারছে না।
রাব্বিলাতুল জান্নাত (১৯) বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার আগের দিন একসঙ্গে ময়মনসিংহে গিয়েছিলাম। বাবা ঢাকায় নিয়ে ঈদের শপিং করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা তো এখন আর নেই। তাই আমাদের আবার কীসের ঈদ? আমাদের তিন ভাইবোনের মধ্যে বাবা আমাকে সবচেয়ে বেশি আদর করতেন। আমি যখন যা চেয়েছি, বাবা দিয়েছেন। আমার ইচ্ছাপূরণের আর কেউ রইল না। বাবাই ছিল আমার জীবনের সবকিছু। আর সেই বাবাকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করল।’
ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত (১৮) বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকতে বাবার সঙ্গে কোরবানির গরু কিনেছি, কোরবানি দিয়েছি। ঈদের জামা-কাপড় কিনেছি। কিন্তু এখন বাবা নেই, ঈদও নেই। আমরা অসহায়। আমাদের ঈদের আনন্দ নেই।’
নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, 'অনেক আসামী নির্বিঘ্নে ঈদ করতে পারছে। আমার স্বামী কবরে শুয়ে আছেন। কল্পনাও করেনি, সন্ত্রাসীদের হাতে নাদিমের প্রাণ যাবে। মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগেও নাদিম স্ত্রী-সন্তানকে ঢাকায় নিয়ে ঈদের বাজার করার কথা বলেছিলেন। যাঁরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, এখন শুধু তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চাই। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও আদালতে দাখিল করা হয়নি মামলার প্রতিবেদন।'
নাদিমের মা আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের আকুল আবেদন, যাতে দ্রুত বাকি আসামীরা গ্রেপ্তার করাসহ এবং দ্রুত আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।'
নাদিমের মৃত্যুর পর ১৮ জুন বকশীগঞ্জ থানায়
সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ ২২ জন এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম। এ ঘটনার মুল অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাবুসহ বেশ কয়েকজন আসামী কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর ছেলে রিফাতসহ মামলার এজাহারভুক্ত ৩ আসামী এখনো গ্রেপ্তার না হয়নি।
২২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
১০ দিন ২৩ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে