জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে সরকারি বরাদ্দের চুরি হওয়া ১২টি ল্যাপটপ গত সোয়া ২ মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ। এরই মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এখনো মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলা ডকেট বুঝিয়ে দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কর্মস্থল সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্র হলেও, মামলার এজাহার কপিও এখনো মডেল থানাতেই রয়েছে। মামলার বাদীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাও কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।
এনিয়ে দীর্ঘ সময়েও সরকারি ল্যাপটপগুলো উদ্ধারসহ চোর শনাক্ত করতে না পারায় পুলিশী সেবা নিয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টসহ জনমনে নানা প্রশ্ন ওঠছে। তবে থানা-পুলিশের দাবি, যথাযথ আইনানুসারেই মামলার তদন্তকাজ চলছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবটিতে ২০১৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১৭টি সরকারি ল্যাপটপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ল্যাপটপ নষ্ট হলে সেগুলো মেরামতের জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়। অবশিষ্ট ১৩টি ল্যাপটপ বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব কক্ষে সংরক্ষিত রাখা হয়।
গত ১০ এপ্রিল সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের ল্যাব কক্ষের গ্রিলের দরজার তালা ভেঙে ডেল কোম্পানির তৈরি ১২টি সরকারি ল্যাপটপ কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়।
প্রতিটি ল্যাপটপ ১৫.৬ ইঞ্চি স্ক্রীনের। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
এনিয়ে আইনি প্রতিকার পেতে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ১৭ এপ্রিল দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব বিশ্বাস মামলা রুজু করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
মামলার বাদী ও মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, 'মামলা করার দুই মাস ৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো ল্যাপটপগুলো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় কারা জড়িত, সেটাও জানা যায়নি। ল্যাপটপগুলো উদ্ধার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষার পাঠদান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এখনো কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। মামলার তদন্তকাজ হচ্ছে কি না, সেটাও জানি না।'
মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাধারণ আসনের সদস্য বকুল ইসলাম বলেন, 'প্রযুক্তির এই যুগে দুই মাসের বেশি সময় গত হলেও ল্যাপটপগুলো উদ্ধারসহ চোর শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। আমরা বারবার থানা-পুলিশের কাছে ল্যাপটপ উদ্ধারে ধন্যা দিয়েও ফল পাচ্ছি না। পুলিশী সেবা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের দানা বাঁধছে।'
রবিবার (২৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, 'আমি প্রথমে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা থাকলেও, বর্তমানে মামলাটি দেখভাল করছেন ওসি স্যার নিজে। সেকারণেই মামলার বিষয়ে ওসি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।'
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, 'আইননুসারেই মামলার তদন্তকাজ করা হচ্ছে। চুরি যাওয়া ল্যাপটপগুলো এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা রাখি, সপ্তাহখানেক সময়ের মধ্যেই ল্যাপটপগুলো উদ্ধার করতে পারব। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসআই আবু রায়হান মামলাটি তদন্তকাজ করছেন।'
সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই আবু রায়হান বলেন, 'কয়েকদিন আগে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সেরেস্তার মুন্সি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্তের ভার আমাকে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো মামলার ডকেট পাইনি।'
তবে কী মামলার মূল তদন্তকাজ করতে পারছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই আবু রায়হান বলেন, 'তদন্তকাজ করতাছি, তা ঠিক আছে। ওসি স্যার ডকেট লিখে পাঠাবেন।'
মামলার এজাহার কপি হাতে পেয়েছেন কি না, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এজাহার তো থানাতে আছেই।'
(ল্যাপটপ চুরির মামলা সংক্রান্ত খবরের
দ্বিতীয় পর্ব আসিতেছে)
২২ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১০ দিন ২৭ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে