জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ছাবেদা চাঁন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে প্রক্সি দেওয়ার ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে নিজেদের ’দোষমুক্ত’ প্রমাণ করতে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ছামিউল আলম ছামু মিয়া তাঁর দুই শিক্ষক স্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতক সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয়ের কক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকে তাঁদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে প্রক্সি দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তোলে ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে তাঁরা আইনানুসারে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে তাঁদেরকে জড়িয়ে খবরগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ছামিউল আলম ছামু মিয়ার বড় স্ত্রী লাভলী আক্তার বিদ্যালয়টির নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি ঢাকায় থাকেন। মাঝে মধ্যে এলাকায় আসেন। তাঁর প্রক্সি দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক ছামু মিয়ার ছোটো স্ত্রী মুসলিমা খাতুন। প্রধান শিক্ষক লাভলী আক্তারের চেয়ারে বসে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করাসহ বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজও সারেন তিনি। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে মুখ খুললে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছামু মিয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে মর্মে হুশিয়ারি দিয়ে আসছেন। ফলশ্রুতিতে ছামু মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতিতে দিশেহারা পড়লেও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরী হারানোর ভয়ে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করে আসছেন। যদিও এসব আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ছামু মিয়াসহ তাঁর দুই স্ত্রী। এনিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ জুন আজকের পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে ’ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বড় স্ত্রী স্কুলের প্রধান শিক্ষক, থাকেন ঢাকায়, তাঁর প্রক্সি দেন ছোট স্ত্রী’ শিরোনামে এবং ৩০ জুন একই পত্রিকায় প্রিন্ট ভার্সনে ’প্রধান শিক্ষক ঢাকায় প্রক্সি দেন সতিন’ শিরোনামে খবর প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসেন ছামু মিয়া। এক পর্যায়ে আয়োজন করেন ওই সংবাদ সম্মেলনের। সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ’বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াসে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁরা ভীষণ বিব্রত। নিজেদের নিরপরাধ দাবি করে প্রকাশিত খবরগুলোর প্রতিবাদ জানান তাঁরা।’ সংবাদ সম্মেলনে দেখা গেছে, একপাশে ছামু মিয়ার বড় স্ত্রী বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক লাভলী বেগম, অন্য পাশে তাঁর ছোট স্ত্রী সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক পদে প্রক্সিদাতা মুসলিমা খাতুন। মাঝখানের চেয়ারে বসে ছিলেন ছামু মিয়া। স্থানীয়রা জানান, এবারই প্রথম দুই স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে মাঝখানে ছামু মিয়াকে বসতে দেখা গেল। এছাড়া এই প্রথম দুই সতিনকে একসঙ্গে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর দাবি, ছামু মিয়ার স্ত্রী প্রধান শিক্ষক লাভলী আক্তারের ব্যবহৃত মোবাইলের কললিষ্ট খতিয়ে দেখলেই তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বড় ধরনের প্রমাণ মিলবে। মূলত অনিয়ম-দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ছামু মিয়া।’ |
২২ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১০ দিন ২৭ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে