জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূর নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার দায়ের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত। শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় উপজেলার কামালপুর দক্ষিণ ভাটিয়াপাড়া এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে সেলিম মিয়া (২৫) আকস্মিকভাবে মারা যায়। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ লুৎফর রহমানের বাড়িতে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হেফাজতে নিতে চান। এসময় পুলিশের কাছে স্থানীয়রা বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফন করার দাবি জানান। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হেফাজতে নিতে চাওয়ায় মৃত সেলিম মিয়ার মা বুলবুলি বেগমের (৪২) নেতৃত্বে স্থানীয়রা পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এনিয়ে পরদিন ৮ জুলাই দিবাগত রাতে বকশীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়জুর রহমান বাদী হয়ে বুলবুলি বেগমকে প্রধান আসামি দিয়ে ১৫ জনের নামোল্লেখে একটি মামলা করেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে আরও ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়।
আসামিরা হলো, মৃত হরমুজ আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), গোলাপ মিস্ত্রির ছেলে রুবেল (২৬) এবং সোহেল (২২), মৃত ইগুল্লাহর ছেলে গোলাপ মিস্ত্রি (৫৭),বজল মিয়ার ছেলে ফরিদ মিস্ত্রী (৩৮), মৃত জাকির উদ্দিনের ছেলে বজল মিয়া (৫৫),
আফসার আলীর ছেলে মুক্তা (৪৫), মৃত চেঙ্গু মিয়ার ছেলে আলম (৪৭), মৃত মগবুল হোসেনের ছেলে দুর ইসলাম মালু (৪২) এবং আলমাস মিয়া (৪০), রিয়াজুলের ছেলে শহিদুর (২৮), হরমুজ আলীর ছেলে দুদু মিয়া (৪৮), দুদু মিয়ার ছেলে সবুজ (২৫), মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে ১৫। আসলাম (৩৫)।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবাইল ফোনে খবর পান যে, কামালপুর দক্ষিণ ভাটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম নেশাজাতীয় দ্রব্য খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তিনি মারা যান। পরে ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খানের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ওসি) সঞ্জয় কুমার সাহা, এসআই আবু সাঈদ, এসআই লাভলু আহমেদ, এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, এএসআই মহসিন আলম, কনেস্টবল আমিনুল ইসলাম, মো. জাহিদ, সোহাগ, হায়দার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর সেলিমের লাশ তার বাড়ির বারান্দায় পেয়ে রাত সোয়া ৯টায় এসআই লাভলু আহমেদ লাশের সুরতাহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। সুরুতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে সেলিমের মৃত্যুর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক হওয়ায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে এসআই লাভলু আহমেদ ময়নাতদন্ত করার জন্য লাশটি পুলিশী হেফাজতে নেওয়ার সময় আসামিরা বাধা প্রদান করে এবং উত্তেজিত হয়ে উঠে। এসময় ওসিসহ স্থানী ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাকপতি ও ইউপি সদস্য সুমন মিয়া আসামিদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আসামিরা উত্তেজিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক রাত ১০টার দিকেবুলবুলি বেগমের প্রত্যক্ষ হুকুমে অন্যান্য আসামিরা বাঁশের লাঠি, লোহার রড, ফালা, লোহার শাবুল, মাছ মারার ট্যাডা নিয়ে পুলিশের ওপরে আক্রমণ করে।
এতে গুরুতর আহত হন, ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা, এসআই লাভলু আহমেদ, এসআই ফয়জুর রহমান, স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আরিফুল ইসলাম। আহতরা পুলিশ সদস্যরা বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
মামলার বাদী এসআই ফয়জুর রহমান বলেন, 'আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এনিয়ে মামলা করেছি।'
বকশীগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, 'বুলবুলি বেগম নিজে আমার ওপর অতিমাত্রায় হামলা চালায়। আমার মোবাইল সেট ভেঙে গেছে। আমি গুরুতর আহত। এমন বর্বরোচিত হামলা এর আগে দেখিনি।'
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আশা রাখি, শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারব।'
ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. সুমন মিয়া বলেন, 'আমাদের চেয়ারম্যান লাখপতি সাহেবসহ আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। যেভাবে পুলিশের ওপর হামলার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে সেরকম ঘটেনি। তবে পুলিশের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি হয়েছে। পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যেতে চাইলে, মৃত সেলিম মিয়ার স্বজনরা তার লাশ দিতে চান না। এনিয়ে পুলিশ মামলা করেছে কি না, সেটা জানতে পারিনি।'
মামলার প্রধান আসামি বুলবুলি বেগমসহ অন্যান্য আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
১ দিন ২২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
২ দিন ১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৩ দিন ১৯ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৪ দিন ১৯ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৯ দিন ১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১৩ দিন ২১ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১৬ দিন ১৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৭ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে