নাশকতার মামলার পলাতক প্রধান আসামির সঙ্গে
পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত এবং মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর আলম।
পলাতক আসামির সঙ্গে তাঁরা শুধু পূজামন্ডপ পরিদর্শনই করেননি। ওই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ফটোসেশানও করছেন তাঁরা। পরে ওইসব ছবি
অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন
ইউএনও।
পলাতক ওই আসামির নাম মাহবুব আলম মিরন। তিনি উপজেলার সিধুলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা পলাতক আসামিকে সঙ্গে নিয়ে পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে ছবি উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করায় নানা মহলে চলছে সমালোচনার ঝড়। এনিয়ে মামলার বাদী ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পলাতক নাশকতার মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না এনে উল্টো প্রশাসনের কর্তারা ওই আসামির সঙ্গে ছবি বিলাস করছে। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জোড়খালী, আধাভিটা এবং সিধুলী ইউনিয়নে পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে ইউএনও তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক একাউন্ট ( uno madarganj jamalpur) থেকে ছবিটি আপলোড করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিধুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রতন বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ৫৬ জনের নামোল্লেখে একটি নাশকতার মামলা দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে নাশকতার অভিযোগে তোলে দায়ের করা ওই মামলায় সিধুলী ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব আলম মিরনকে প্রধান আসামী করা হয়। এছাড়া ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে মাত্র ১ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১৪ জনের নাম এজাহারে নেই। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রেপ্তার এড়াতে অগণত নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে গেলেও মামলার ১ নম্বর আসামি সিধুলী ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব আলম মিরন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, মামলায় আমাদের নাম নেই তবুও আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ প্রধান আসামিকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের কর্তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মামলার বাদী ও সিধুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রতন বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মিরন নাশকতার মামলার প্রধান আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারের না করে উল্টো ওসি এবং ইউএনও কীভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, সেটা বোধগম্য নয়। এতে মামলার তদন্ত নিয়ে শঙ্কা হচ্ছে।'
মাদারগঞ্জের ইউএনও ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মিরন পলাতক আসামী কি না, সেটা আমার জানা নেই। তবে যখন তিনি আমাদের সঙ্গে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যখন গিয়েছিলেন, ওই ওসি সাহেবও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আসামী কিনা, সেটা ওসি সাহেবের দেখার কথা।'
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, 'থানায় আমি কিছু দিন আগে যোগদান করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান মিরনকে আমি চিনি না। তবে নাশকতার মামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।'
ইউপি চেয়ারম্যান মিরনকে গ্রেপ্তারে অভিযান করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি শাহীনুর আলম বলেন, 'আমরা তদন্ত করছি। যাঁরা নাশকতায় জড়িত, তাঁদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।'
২২ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১০ দিন ২৭ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে