নাগেশ্বরীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ২ বাস কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ডোমারে 'সবার পাঠশালা'-এর শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণের দাবীতে সংলাপ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সেবা বন্ধ নেই ঈদেও ড. ইউনূসকে যা বললেন মোদি নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র দেখতে চায় ভারত ডোমারে সাংবাদিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার-১ ঝিনাইদহে কবরস্থানে বসবাস করছে অসহায় পরিবার, সাহায্যের আহ্বান বাবা-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন, জানল না শিশু আরাধ্য সবার পাঠশালার শীর্ষ নেতৃত্বে সিহাব-প্রাণহরি মোংলা বন্দরে নতুন আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে আগ্রহী চীন হাসিনাকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ মধুপুরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিউটি পার্লারের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শ্রীমঙ্গলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এবং বর্তমান জনশক্তিদের নিয়ে ঈদ পুণর্মিলনী পূর্ব সোনার পাড়া আদর্শ সামাজিক সংঘ এর আলোচনা সভা ও ঈদ পূণর্মিলনী সম্পন্ন। শার্শার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় কুলিয়ারচরে ফরিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় উদ্ভোধন কুলিয়ারচরে স্মারক জয়ন্তী ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ঈদের ছুটিতে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আগমন জমজমাট লালপুরে স্ত্রী সন্তানের ওপর রাগ করে নিজের বাড়িতে আগুন

শিক্ষার মানোন্নয়নে আলোচনা সভার ব্যানারে লেখাসহ অতিথিদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুলের তোড়ায় 'ভুল বানানের ছড়াছড়ি' !


জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় শিক্ষার মানোন্নয়ন শিক্ষকের ভুমিকা শীর্ষক আলোচনা সভার ব্যানারে লেখা শব্দ ও বাক্যে ভুল বানানের ছড়াছড়ির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া শুভেচ্ছা জানিয়ে সভায় আগত অতিথিদেরকে দেওয়া ফুলের তোড়ায় লেখা হয়েছে ভুল বাক্যে। ফলে শিক্ষার মানোন্নয়নের উদ্যোগকে সচেতন মহল সাধুবাদ জানালেও বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে অনুষ্ঠানের ব্যানারে এবং শুভেচ্ছা বাণীতে লেখা শব্দ ও বাক্য নিয়ে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সভায় এমন বেমানান 

বানান ও বাক্য ভুলের কারণে বিষয়টি দৃষ্টিকটু ঠেকেছে অনেকের কাছে। অশুদ্ধ লেখা দেখে শিক্ষার্থীসহ শিশু-কিশোরেরা ভুল শিখবে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। মনোবিদেরা বলছেন, এ ধরনের ভুল লেখা শিশুদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। বানান ভুল ও ভাষা বিকৃতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতাকে দায়ী করে অনেকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।


আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পৌর শহরস্থ ইসলামপুর সরকারি জে. জে. কে. এম গালর্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমি ভবনের চারতলায় মিলনায়তনে ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর কাজী মো. আবু কাইয়ুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক শেখ নুরুন্নাহার এবং অডিট অফিসার মো. মতিয়র রহমান।


আলোচনা সভায় উপজেলার ১১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত তিন শতাধিক শিক্ষক ছাড়াও রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভার ব্যানারের প্রতিপাদ্যের বিষয় ছিলো, 'শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা।' 

এতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, 'সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক' বাক্যে 'সহকারী' শব্দ নিয়ে। ব্যানারে 'সহকারী' শব্দের স্থলে ভুলভাবে লেখা হয়েছে 'সহকারি'। মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক শেখ নুরুন্নাহারের পরিচয় তোলে ধরতে 'সহকারী' শব্দের স্থলে 'সহকারি' শব্দ লেখা হয়। সভায় আগত অতিথিদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া  ফুলের তোড়াতেও লেখা হয়েছে ভুল বাক্যে।


এছাড়া অতিথিসহ সভাপতির নামের প্রথমাংশ 'মোহাম্মদ' শব্দটি সংক্ষিপ্তকরণে 'মো.' শব্দের স্থলে ভুলভাবে লেখা হয়েছে 'মোঃ'। 'সভাপতি' শব্দের পরে অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত বিসর্গ (ঃ) বর্ণের ব্যবহার করা হয়েছে। অপরদিকে, ইসলামপুর সরকারি জে. জে. কে. এম গালর্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম ভুলভাবে 'হাইস্কুল' শব্দের স্থলে 'হাই স্কুল ' এবং 'অ্যান্ড' শব্দের স্থলে 'এন্ড' লেখা হয়েছে।


জানা যায়, বাংলা একাডেমির প্রণীত প্রমিত ভাষা রীতি অনুযায়ী 'সহকারি' শব্দটি ভুল। শুদ্ধ বাক্য হবে 'সহকারী'। একইভাবে ইংরেজি বিবৃত 'এন্ড' শব্দটির স্থলে লিখতে হবে 'অ্যান্ড'। 'হাই স্কুল ' শব্দটির শুদ্ধরূপ 'হাইস্কুল'। 'মোহাম্মদ' শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হবে 'মো.' অথবা 'মো:'।


ইসলামপুর সরকারি জে. জে. কে. এম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের জেষ্ঠ্য প্রভাষক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. রুহুল আমীন, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন, গুঠাইল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হান্নান এবং বীর মাইজবাড়ি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল হালিম।


শেরপুর মডেল গালর্স ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক মো. উকিল উদ্দিন বলেন, 'এন্ড' এবং 'অ্যান্ড' শব্দের ব্যবহারে ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু লেখার সময় অনেকেই শব্দ দুটিকে গুলিয়ে ফেলেন। অনেকেই না জেনে লিখতে গিয়ে ভুল করেন। ব্যবহার বিধি জানা না থাকায় অনেকেই পৃথক দুটি শব্দকে একই অর্থবোধক বলে ভুল করেন। বিশেষ করে ব্যানারে লেখা ভুল হলে, সেটা নেমে নেওয়ার মতো নয়।'


উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, 'ব্যানার ভুলভাবে লেখা হয়েছে কি না, সেটা এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই শুদ্ধতার চর্চা করতে হবে। সবাইকে ভাষা ব্যবহারে যত্নবান হতে হবে। ভবিষ্যতে ব্যানারে লেখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।'


শিশু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হেফজুল বারী বলেন, শিশুরা অনেক কিছুই দেখে শেখে। বিশেষ করে বর্ণমালা শেখার পর যা দেখে, তা-ই বানান করে পড়ার চেষ্টা করে। ফলে ভুল বানানের ঘেরাটোপ থেকে অনেকেই বেরিয়ে আসতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরিই বটে। '


সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ মানিক মিয়া বলেন, ‘বিকৃত বানান ও ব্যাকরণগত ভুলের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। বাংলা বানানের ভুল আমাদের মাতৃভাষার জন্য অমর্যাদাকর। এ ধরনের ভুল ও বিকৃতি থেকে মুক্তি পেতে শুদ্ধ ভাষা চর্চার প্রয়োজন।'


আরও খবর