জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন থাকায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় কর্মসংস্থান প্রকল্পে শ্রমিক নেই! এছাড়া অতিদরিদ্রদের জন্য গৃহীত কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের নির্ধারিত কর্মদিবস অতিবাহিত হলেও শুরু করা হয়নি অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানেরা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন থাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করেননি তাঁরা।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে জেলা আ.লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সরেজমিনে উপজেলার চিনাডুলী, চরগোয়ালিনী, চরপুটিমারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে কোনো প্রকল্পে কাজ করতে শ্রমিক দেখা যায়নি। এছাড়া অধিকাংশ প্রকল্পের মাটি কাটার কাজ উদ্বোধনও করা হয়নি।
নির্ধারিত কর্মদিবসগুলোতে অধিকাংশ প্রকল্পে কাজ শুরু না করায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা মহলে নানাবিধ প্রশ্নের দানাবাঁধছে। স্থানীয়রা বলছেন, কাজ না করেই কর্মদিবস ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের কাজ করা করা হয়েছে মর্মে ভুয়া মাস্টারোলে অতিতের মতো এবারও শ্রমিকদের মজুরির টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতে পারে প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রকল্পের আওতায় অতিদরিদ্র শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সুরক্ষার ওই প্রকল্পে অধিকার বঞ্চিত হবেন সুবিধাভোগীরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতিদরিদ্রদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের গৃহীত ইজিপিপি প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় দারিদ্র সীমার নিচে থাকা অতিদরিদ্র শ্রমিকরা একিদিকে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে বিধি মোতাবেক প্রকল্পে নিয়োগ না দেওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে শ্রমিকরা।
উপজেলা প্রশাস সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৬ নভেম্বর) উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে একযোগে অতিদরিদ্রদের জন্য প্রকল্পের কাজ শুরু করার সরকারিভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়।
উপজেলা প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় স্বাভাবিকভাবে কায়িক পরিশ্রম অক্ষম অতিদরিদ্র শ্রমিকদের মাথাপিছু ৪০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ইজিপিপি প্রকল্পের মাটি কাটার কাজ করানোর কথা প্রকল্পের কার্যাদেশে রয়েছে।
৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে ১২টি ইউনিয়নে ৫৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ ৪০ দিন চলার কথা রয়েছে। এতে ২ হাজার ৮১৪ জন সুবিধাভোগী শ্রমিকের বিপরীতে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
এরমধ্যে কুলকান্দী ইউনিয়নে ৪টি প্রকল্পে ১৭৭ জন শ্রমিকের বিপরীতে ২৮ লাখ, ৩২ হাজার টাকা, বেলগাছায় ২টি প্রকল্পে ২৫৩ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৪০ লাখ, ৪৮ হাজার টাকা, চিনাডুলীতে ৫টি প্রকল্পে ২৪০ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৩৮ লাখ, ৪০ হাজার টাকা, সাপধরীতে ৩টি প্রকল্পে ১৯১ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৩০ লাখ, ৫৬ হাজার টাকা, নোয়ারপাড়ায় ৬টি প্রকল্পে ২৫৩ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৪০ লাখ, ৪৮ হাজার টাকা, ইসলামপুর সদরে ৫টি প্রকল্পে ১৫৮ শ্রমিকের বিপরীতে ২৫ লাখ, ২৮ হাজার টাকা, পাথর্শীতে ৬টি প্রকল্পে ২৯৫ শ্রমিকের বিপরীতে ৪৭ লাখ, ২০ হাজার টাকা, পলবান্ধায় ৪টি প্রকল্পে ১৩৬ জন শ্রমিকের বিপরীতে ২১ লাখ, ৭৬ হাজার টাকা, গোয়ালেরচরে ৪টি প্রকল্পে ২৮৭ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৪৫ লাখ, ৯২ হাজার টাকা, গাইবান্ধায় ৮টি প্রকল্পে ৩২১ শ্রমিকের বিপরীতে ৫১ লাখ, ৩৬ হাজার টাকা,
চরপুটিমারীতে ৪টি প্রকল্পে ৩০৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৪৮ লাখ, ৮০ হাজার টাকা এবং চরগোয়ালিনী ইউনিয়নে ৪টি প্রকল্পে ১৭৩ জন শ্রমিকের বিপরীতে ২১ লাখ, ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
চরপুটিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, 'এখনো প্রকল্পের সভাপতিরা কাজ শুরু করেনি।
সাপধরী ইউনিয়নের বাসিন্দা ফকির আলী, চরপুটিমারী ইউনিয়নের সুজা উদ্দিন, চরগোয়ালিনীর আকবর বলেন, 'প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেখিনি। সম্ভবত ভুয়া মাস্টাররোলে প্রকল্পের সরকারি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতেই কাজ শুরু করা হয়নি।'
চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সুরুজ মাস্টার বলেন, 'জেলা আ.লীগের সম্মেলন থাকায় সময় মতো প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে সোমবার (২৮ নভেম্বর) জেলা আ.লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ শুরু করবো।'
সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান শাহা আলম মণ্ডল বলেন, 'জেলা আ.লীগের সম্মেলনে এসেছে। একারণে প্রকল্পে কাজে শ্রমিক দিইনি। পরে কাজ করবো।'
চরগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ বলেন, 'জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রকল্পের নির্ধারিত দিন কাজ শুরু করতে পারিনি। পরে কাজ শুরু করবো।'
প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুনার রশিদ বলেন, প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকলেও কর্মদিবস বন্ধ থাকে না।'
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু বলেন, 'প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবেই চলছে। তবে কর্মদিবস ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না করা হলে টাকা দেওয়া হবে না।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. তানভীর হাসান রুমান বলেন 'যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি, সেসব প্রকল্পের সভাপতিরা কাজ শুরু করবে।' প্রকল্পের বিল উত্তোলন করা হয় কর্মদিবস হিসাবে, এক্ষেত্রে কাজ শুরু না করলে কর্মদিবস অনুযায়ী বিল দেওয়া হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও নিশ্চুপ থাকেন।'
উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামাল আব্দুন নাছের বাবুল বলেন, 'প্রকল্পের বিষয়ে আমি অবগত নয়। সম্ভবত প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করতেই আমাকে প্রকল্পের বিষয়ে জানানো হয়নি।'
২২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১০ দিন ১৮ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১৩ দিন ২২ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে