জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য গৃহীত কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের নির্ধারিত কর্মদিবস অতিবাহিত হলেও শেষ করা হয়নি সিংহভাগ প্রকল্পের কাজ। গত ৩১ জানুয়ারি প্রকল্পের কর্মদিবস শেষ হয়েছে। তবে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, যেসব প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি, ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো প্রকল্পেই কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া অধিকাংশ প্রকল্পেই নামমাত্র মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে। নির্ধারিত কর্মদিবসে প্রকল্পে কাজ শেষ না করায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা মহলে নানাবিধ প্রশ্নের দানাবাঁধছে। স্থানীয়রা বলছেন, কাজ না করেই কর্মদিবস ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে মর্মে ভুয়া মাস্টারোলে অতিতের মতো এবারও শ্রমিকদের মজুরির টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতে পারে প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রকল্পের আওতায় অতিদরিদ্র শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সুরক্ষার ওই প্রকল্পে অধিকার বঞ্চিত হবেন সুবিধাভোগীরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতিদরিদ্রদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের গৃহীত ইজিপিপি প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় দারিদ্র সীমার নিচে থাকা অতিদরিদ্র শ্রমিকরা একিদিকে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে বিধি মোতাবেক প্রকল্পে নিয়োগ না দেওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে শ্রমিকরা।
উপজেলা প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় স্বাভাবিকভাবে কায়িক পরিশ্রম অক্ষম অতিদরিদ্র শ্রমিকদের মাথাপিছু ৪০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে প্রকল্পের মাটি কাটার কাজ করানোর কথা প্রকল্পের কার্যাদেশে রয়েছে। ৪০ কর্মদিবসের এ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে গত ২৬ নভেম্বর একযোগে প্রকল্পের কাজ শুরু করার সরকারিভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৪টি প্রকল্পে ২৮৭ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৪৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।
গত ২৮ জানুয়ারি প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা উত্তোলন করেছে প্রকল্পের সভাপতিরা। কিন্তু এসব প্রকল্পের সিকিভাগও কাজ হয়নি। ৩৬ নম্বর প্রকল্প গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মহলগিরী আবেরের বাড়ি থেকে কুমিরদহ বাট্টুর বাড়ির মোড় পর্যন্ত রাস্তা মেরামত। এতে ৮০ জন শ্রমিক ৪০ দিন মাটি কাটার জন্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমাছ, মিজান, আকবর হোসেন, বিলকিস খাতুনসহ অনেকেই বলেন, 'সম্ভবত ভুয়া মাস্টাররোলে প্রকল্পের সরকারি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতেই নামমাত্র কাজ শুরু করা হয়েছে।'
এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, 'রাস্তায় কিছু মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে। বাকি কাজও করা হবে।' ৩৭ নম্বর প্রকল্প দেওয়া হয়েছে বোলাকীপাড়া ছত্তর হাজির বাড়ি থেকে মোশারফের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত। এতে ৭৫ শ্রমিকের বিপরীতে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান, ইদ্রিস আলী, আকলিমা বেগমসহ অনেকেই জানান, 'যথাযথ ভাবে মাটি কাটার কাজ হয়নি। সরকারি অর্থ লুটপাট করতেই চেয়ারম্যান-মেম্বারেরা রাস্তা মেরামত করনি।' প্রকল্পের সভাপতি মো. আমিরুল বলেন, 'সঠিক ভাবেই রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। অভিযোগ করে লাভ হবে না।'
৩৮ নম্বর প্রকল্প দেওয়া হয়েছে গোয়ালেরচর ফুলুর বাড়ি থেকে আল আমীন ফারাজির বাড়ি হয়ে সজরুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত। এ প্রকল্পে ৫২ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমাছ, সোহেল, নাজির হোসেন বলেন, 'প্রকল্পের সভাপতি নামমাত্র কাজ শুরু করেছে। আমরা রাস্তা মেরামতের কথা বললেও তা আমলে নেননি ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার। 'প্রকল্পের সভাপতি ইউপি মেম্বার মো. রায়হান বলেন, 'রাস্তা মেরামতের কাজ নিয়মানুযায়ী করেছি। অযথা অভিযোগ করা হচ্ছে।'
৩৯ নম্বর প্রকল্প দেওয়া হয়েছে সভারচর ঈদগাঁ মাঠ থেকে এইচআর খান কলেজ হয়ে নইদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত। এতে ৮০ জন শ্রমিকের বিপরীতে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ মিয়া, বেলাল, রিনা আক্তারসহ অনেকেই বলেন, ''নামমাত্র কাজ হয়েছে। রাস্তা দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। 'এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি মেম্বার মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, 'কেউ অভিযোগ করতেই পারে। তবে রাস্তা মেরামতের কাজ সঠিক ভাবেই করেছি।'
গোয়ালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, 'ইতিমধ্যে প্রকল্পের বাকি কাজ শুরু করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে আরও কাজ করবো।'
উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল বলেন, 'প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রকল্প বাস্তবায় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছি।'
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু বলেন, 'প্রকল্পের কাজ শেষ করতে নির্দেশনা দিয়েছি। কাজ সঠিকভাবে না করা হলে আইনানুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।' উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. তানভীর হাসান রুমান বলেন 'সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
২২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১০ দিন ১৯ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৩ দিন ২২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে