জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কাউন্সিলরের নাম শাহ মো. মোহন মিয়া। তিনি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া শাহ মো. মোহন মিয়া উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক পদেও আসীন রয়েছেন। তবে অভিযুক্ত কাউন্সিলর শাহ মো. মোহন মিয়ার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তোলে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভোগদখলীয় জমি বেদখলের করায় পৌর শহরের দরিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান মজনু নামে এক ভুক্তভোগী কাউন্সিলর মো. মোহন মিয়াকে এক নম্বর বিবাদী দিয়ে চার জনের নামোল্লেখ করে ইসলামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছন। অভিযোগে উল্লেখিত অন্য বিবাদীরা হলেন কাউন্সিলর মোহন মিয়ার ছোট ভাই সবুজ মিয়া, একই এলাকার আবু সাইদ এবং তার বড় ভাই সুলতান মিয়া।
থানায় দাখিকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর মোহন মিয়াসহ বিবাদীদের সঙ্গে মধ্য দরিয়াবাদ গ্রামের মৃত মোজাহার উদ্দিন আকন্দের ছেলে মিজানুর রহমান মজনুর জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিবাদগণ বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ভাবে
মিজানুর রহমান মজনুর দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলীয় দরিয়াবাদ মৌজার বিআরএস ১৬২ নম্বর দাগে ৪৪ শতাংশ জমি বেদখলের পায়তারা করে আসছিল।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান মজনু বলেন, 'গত রোববার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাউন্সিলর মোহন মিয়ার নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রে আমাদেন ভোগদখলীয় ৪৪ শতাংশ জমি বেদখলের করে জমিতে টিনের বেড়া দিয়েছে। এতে বাধা দেওয়ায় কাউন্সিলর মোহন মিয়াসহ তার লোকজন আমাকেসহ আমার পরিবারের লোকজনকে মারপিটসহ খুনজখমের হুমকি দেয়। আমার স্ত্রীর গায়েও হাত উঠিয়েছে মোহন মিয়া। ঘটনার পরে এ ব্যাপারে আমি কাউন্সিলর মোহন মিয়াকে প্রধান বিবাদী দিয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।'
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান মজনুর স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, 'আমরা অন্তত ৩০ বছর ধরে জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। আমাদের ভোগদখলীয় জমি কাউন্সিলর মোহন মিয়া জোরপূর্বক বেদখল করেছে। বাধা দেওয়ায় কাউন্সিলর মোহন মিয়া নিজে আমার গায়ে হাত দিয়েছে। আমাকে তোলে নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছি।'
উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক অভিযুক্ত কাউন্সিলর শাহ মো. মোহন মিয়া বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তোলে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। মুলত আমার জমিতেই আমি টিনের বেড়া দিয়ে জমির সীমানা চিহ্নিত করেছি।'
ইসলামপুর পৌর মেয়র আব্দুল কাদের সেখ বলেন, 'জমি বেদখলের বিষয়ে কোনো আমার জানা নেই।'
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মাজেদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, 'আমি ছুটিতে থাকায় জমি বেদখলের বিষয়টি অবগত নয়। তবে সেকেন্ড অফিসার বিষয়টি বলতে পারবে।'
ইসলামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মাহমুদুল হাসান মোড়ল বলেন, 'জমি বেদখলের বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে এসআই আক্রাম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'
ইসলামপুর থানার এসআই আক্রাম হোসেন বলেন, 'ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে।'
২২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১০ দিন ১৯ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৩ দিন ২২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে