জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের গৃহীত কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের রাস্তা মেরামতে মাটি কাটার কাজে ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতেই শ্রমিক শুন্য থাকলেও মাত্র একটি ইউনিয়নে সবগুলো প্রকল্পে শ্রমিকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয় হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ১১টি ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজে শ্রমিক না নিয়ে কর্মদিবস ফাঁকি দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা ভুয়া মাস্টারোলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার ফন্দি-ফিকির আঁটছে। অপরদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার খবরে একটি ইউনিয়নে আগে থেকেই প্রকল্পের সভাপতিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নিয়োগ করে রাখায় শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
সোমবার (২০ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে ইজিপিপি প্রকল্পের এমন গুঁজামিল চিত্র দেখা যায়। এদিন উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের যান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) নেতৃত্বে একদল মাঠ কর্মকর্তা। আগে থেকে এ খবর জেনে যাওয়ায় সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের পরামর্শে প্রতিটি প্রকল্পেই নির্ধারিত শ্রমিকদের রাস্তায় মাটি কাটার কাজে নিয়োগ করেন প্রকল্পের সভাপতি ইউপি মেম্বারেরা। তবে বাকি ১১টি ইউনিয়নেই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। নির্ধারিত কর্মদিবসে প্রকল্পে কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা মহলে নানাবিধ প্রশ্নের দানাবাঁধছে। স্থানীয়রা বলছেন, কাজ না করেই কর্মদিবস ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের কাজ করা করা হয়েছে মর্মে ভুয়া মাস্টারোলে অতীতের মতো এবারও শ্রমিকদের মজুরির টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতে পারে প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রকল্পের আওতায় অতিদরিদ্র শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সুরক্ষার ওই প্রকল্পে অধিকারবঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতিদরিদ্রদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ইজিপিপি প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় দারিদ্র সীমার নিচে থাকা অতিদরিদ্র শ্রমিকরা একিদিকে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে, বিধি মোতাবেক প্রকল্পে কাজ না করায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন অতিদরিদ্র শ্রমিকরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে একযোগে ইজিপিপি প্রকল্পের কাজ শুরু করার সরকারিভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়। এসব প্রকল্পে স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যানেরা তদারকি করেন। সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণ প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
উপজেলা প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্বাভাবিকভাবে কায়িক পরিশ্রম অক্ষম অতিদরিদ্র শ্রমিকদের মাথাপিছু ৪০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ইজিপিপি প্লাস প্রকল্পের মাটি কাটার কাজ করানোর কথা প্রকল্পের কার্যাদেশে রয়েছে। ১১০ দিনের কর্মসৃজন প্লাস প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২টি ইউনিয়নে ৯৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২ হাজার ৮১৪ জন সুবিধাভোগী শ্রমিকের বিপরীতে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
এরমধ্যে কুলকান্দী ইউনিয়নে ১৭৭ শ্রমিক, বেলগাছায় ২৫৩ শ্রমিক, চিনাডুলীতে ২৪০ শ্রমিক, সাপধরীতে ১৯১ শ্রমিক, নোয়ারপাড়ায় ২৭৮ শ্রমিক, ইসলামপুর সদরে ১৫৮ শ্রমিক, পাথর্শীতে ২৯৫ শ্রমিক, পলবান্ধায় ১৩৬ শ্রমিক, গোয়ালেরচরে ২৮৭ শ্রমিক, গাইবান্ধায় ৩২১ শ্রমিক, চরপুটিমারীতে ৩০৫ শ্রমিক এবং চরগোয়ালিনী ইউনিয়নে ১৭৩ জন শ্রমিক অবকাঠামো উন্নয়নে মাটি কাটার কাজ করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৪০ কর্মদিবসের পরিবর্তে যেখানে ১১০ কর্মদিবস তথা প্লাস প্রকল্প করা হয়েছে, সেখানে প্রতিদিনই প্রতিটি প্রকল্পেই শ্রমিক মাইনাস করা হয়ে থাকেন প্রকল্পের সভাপতিরা।
চরগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহর সরকার বলেন, 'শ্রমিকেরা রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করেছে।' তবর কোন কোন প্রকল্পেই শ্রমিক ছিলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারননি।
চিনাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন, 'বৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পের কাজে শ্রমিক নেওয়া হয়নি। পরে কাজ করা হবে।'
চরপুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সুরুজ মাস্টার বলেন, 'প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল কি-না, বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ খবর নেবো।'
প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুনবী মোস্তফা চৌধুরী বলেন, 'সাপধরী ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে যাওয়ায় বাকি ১১টি ইউনিয়নে কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেবো।'
পিআইও মেহেদী হাসান টিটু বলেন, 'প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার কথা নয়। কর্মদিবস ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে না করা হলে টাকা দেওয়া হবে না।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. তানভীর হাসান রুমান বলেন 'প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার জনা নেই। খোঁজখবর নিয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'
উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল বলেন, 'কখন কোথায় কীভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়, সেটা আমাকে জানানো হয় না। তবে প্রকল্পের কাজ নিয়ে মাঝে-মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ পাচ্ছি।
২২ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১০ দিন ১৯ মিনিট আগে
১২ দিন ২২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৩ দিন ২২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৪ দিন ৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১৭ দিন ১২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে