ক্ষেতলালে শিক্ষকের রাজকীয় সংবর্ধনা
প্রিয় শিক্ষকের বিদায়। ফুল হাতে নিবেদন করা হচ্ছে ভালোবাসা। ছাত্র-ছাত্রীসহ অশ্রুসিক্ত পুরো গ্রামবাসী। গাঁদা আর গোলাপ ফুলে সাজানো হয়েছে গাড়ি। শেষ বারের মতো বিদ্যালয় ত্যাগ করছেন শিক্ষক। এমনই রাজকীয় এক সংবর্ধনায় তাকে জানানো হয় বিদায়।
এমনটিই ঘটেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালেয়র সহকারী শিক্ষক শস্কর চন্দ্র মন্ডলের। কর্ম জীবনের শুরু থেকে সততা আর নিষ্ঠার সাথে ছিলেন শিক্ষকতার মত মহান পেশার সঙ্গে। সবার সঙ্গে গড়ে ওঠেছে প্রীতি আর ভালোবাসার নীবিড় এক সম্পর্ক। তাই তো প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় বেলায় হাজির হন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ এলাকার নানা পেশাজীবীর মানুষ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে এই গুণী শিক্ষকের বিদায়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঞ্চ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মীসহ শিক্ষার্থীরা। চোখে জল নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে অবসরে যান তিনি।
সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান সরকারি শিক্ষক চান্দাইর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা আব্দুল হালিম বলেন, স্যার অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার কাছ থেকেই জীবনের ব্রতগুলো শেখা। সব সময় সন্তানের মতো স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছেন আমাদের।
তানজিনা নামে দশম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, স্যারকে আর ক্লাসে পাবো না ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। সব কিছু খুব মিস করব। এমন শিক্ষকই আমাদের কাছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে এমন সম্মান পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী শিক্ষক শস্কর চন্দ্র মন্ডল তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকতা করেছি। এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে। ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। এই ভালোবাসাকে পুঁজি করেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারব। শস্কর চন্দ্র মন্ডলের বলেন, আমি চাই আমার ছাত্ররা যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে পারে। সমাজের জন্য, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে। এ ব্যাপারে তারা যেন সর্বদা সজাগ থাকে। এতেই আমি শান্তি পাব।
এসময় অবসরজনিত বিদায়ী শিক্ষকগণ তাদের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে নবীন শিক্ষকদের প্রতি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের সুনাম ধরে রাখতে সকল শিক্ষককে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপনি বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক আরমান আলী খান বলেন, শস্কর চন্দ্র মন্ডলকে আমার হাত দিয়ে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দিতে কষ্ট হলেও একটু আনন্দিত। আমারও অবসরজনিত বিদায় নেওয়ার সময় খুব সন্নিকটে।