সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মধুপুর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সবুজ মিয়া। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় মধুপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে সবুজ মিয়া বলেন, ফেসবুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
তাঁর বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক
কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর সামাজিক মর্যাদা
ক্ষুণ্ন করতে এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ
করেন।
তিনি জানান, ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন
নারী তাঁকে টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি
বলেন, গত ২৯ মার্চ মধুপুর ক্লাবের তৃতীয় তলায় চারুশীলন কার্যালয়ে মধুপুর উপজেলা
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন তরফদারের সভাপতিত্বে একটি সালিশি
বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মধুপুর পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুসা, সহ-সভাপতি
সাইফুল আলম এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম শ্রাবণ রুবেল উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে অভিযোগকারীরা
সবার সামনে জবানবন্দি দেন যে, তাঁরা তাঁকে কোনো টাকা দেননি এবং তিনিও সরাসরি তাঁদের
কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। বৈঠকের অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও তিনি দাবি
করেন।
সবুজ মিয়া আরও বলেন, পরবর্তীতে গত ১৩ জুলাই টাঙ্গাইল
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান রাসেল,
মধুপুর-ধনবাড়ী আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সাইদুল
ইসলাম আপন, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিক, যুগ্ম সদস্যসচিব সেলিম সোসেনসহ জেলা
ও উপজেলা এনসিপি এবং ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতেও অভিযোগকারী নারীরা একই কথা
জানান। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁরা বলেছেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে তাঁদের ভাতিজির জামাই অর্থ
নিয়েছেন।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাঁরা আমাকে টাকা দেননি
বলার পরও ভিডিওতে উল্টো কথা বলছেন-বিষয়টি সন্দেহজনক ও ষড়যন্ত্রমূলক, উল্লেখ করে তিনি
বলেন, একটি কুচক্রী মহল সহজ-সরল নারীদের ব্যবহার করে চতুরতার সঙ্গে কাজটি করিয়েছে।
অভিযোগের পক্ষে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি এবং তাঁর বক্তব্যও নেওয়া হয়নি
বলে ওই অভিযোগ গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, দলের কিছু সদস্য কয়েকজনের স্বাক্ষর
জালিয়াতি করে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে মিথ্যা অভিযোগ দেন। ১৩ জুলাই রাতে জেলা এনসিপি
তাঁকে জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ দিলে পরদিনই তিনি তথ্যপ্রমাণসহ লিখিত জবাব ডাকযোগে জেলা
সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান রাসেলের কাছে পাঠান এবং অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ
আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবির মানিককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি
গঠন করা হয় এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সব তথ্যপ্রমাণ
জমা দিলেও অভিযোগকারীরা বারবার চাওয়ার পরও প্রমাণ দিতে গড়িমসি করেন বলে তিনি অভিযোগ
করেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁর কয়েকজন কর্মীকে মোবাইল ফোনে বাড়ি
থেকে তুলে আনা ও পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সহযোগিতা
না পাওয়ায় কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি, তবে শিগগিরই দেবে বলে তাঁকে জানানো
হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তদন্তে নির্দোষ
প্রমাণিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই সহজ-সরল গ্রামের নারীদের বিভ্রান্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে
মিথ্যা অভিযোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে দল থেকে দূরে সরিয়ে
তাঁর অবস্থান দখল করাই ষড়যন্ত্রকারীদের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি মনে করেন।
গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসী ও মধুপুর
উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার যোগাযোগ
নম্বরসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়েছে; নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে
সত্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান তিনি।
অবিলম্বে অপপ্রচার বন্ধ না হলে প্রচলিত আইনে কঠোর
আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির এই নেতা।
১ দিন ১২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১ দিন ১৪ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৫ দিন ১৫ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৯ দিন ১১ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৯ দিন ১৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১৪ দিন ১৭ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
১৫ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে