এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবুও অবহেলিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসে নাঙ্গলকোটে র‍্যালি ও আলোচনা সভা নোয়াখালীতে দুই হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা রঞ্জুর বাড়িতে ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস: স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও গভীর সমবেদনা সৌদিতে থেকেও মিছিলের মামলায় আসামি ইলিয়াস চৌদ্দগ্রামে মাইক্রোবাসে মাদকের চালান: ৮৯ কেজি গাঁজা, ৬০ বোতল মদ জব্দ নিয়ামতপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত পীরগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করলেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জুয়েল রানা সরকারি জায়গায় বালু ফেলে দখল চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে পীরগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন শিক্ষক ও শিক্ষায় প্রয়োজন সর্বোচ্চ বিনিয়োগ বাঘায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মুগ ডালে দুর্গাপ্রতিমা, বুধহাটায় নতুন চমক নাঙ্গলকোটে ১৩ বছরের স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মানববন্ধন মোংলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস: গুণগত শিক্ষা ও শিক্ষকদের মর্যাদা সুরক্ষায় জোরালো দাবি সুপারি পারাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্তরা পলাতক ডেঙ্গু প্রতিরোধে জয়পুরহাটে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পাঁচ দিনের ব্যবধানে কমলো স্বর্ণের দাম শিক্ষা ও ইসলামিক স্টাডিজে বিশ্বে চতুর্থ হলেন বানিয়াচংয়ের কিবরিয়া শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক কাজী এহসানুল হক জিহাদ

শিক্ষকদের সামাজিক সুরক্ষা ও প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে অত্যন্ত জরুরি

দেশচিত্র

একটি জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান কারিগর শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেন তারা। কিন্তু সেই শিক্ষকসমাজ যদি সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক নানা চাপ ও অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন, তাহলে একটি সুস্থ ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাঙ্গনকে সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাবমুক্ত রাখা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।


শিক্ষকের মর্যাদা শুধু একটি পেশাগত বিষয় নয়; এটি একটি জাতির মূল্যবোধ ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতে পারেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তখন শিক্ষার পরিবেশও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিপরীতে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ, হয়রানি, বদলি কিংবা নানা ধরনের সামাজিক অনিরাপত্তা শিক্ষকের স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের দায়িত্বের পরিধিও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ, পরীক্ষার দায়িত্ব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ-সবকিছুই সামলাতে হয় তাদের। এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ, তাহলে শিক্ষকতার মূল কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষকদের নানা ধরনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যাতায়াতের অসুবিধা, আবাসন সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা তাদের পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অযাচিত হস্তক্ষেপও শিক্ষকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এসব পরিস্থিতি শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


একটি প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন মানে শুধু রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান নয়; বরং সেখানে থাকবে ন্যায়, সমতা, জবাবদিহি ও পেশাগত স্বাধীনতা। শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে যোগ্যতা ও নিয়মনীতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক যোগাযোগ বা প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে মূল্যায়ন করা হলে শিক্ষাঙ্গনে বৈষম্য ও অনাস্থা তৈরি হয়।


শিক্ষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। প্রথমত, শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। কর্মস্থলে কোনো শিক্ষক হয়রানি, হুমকি বা অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো দরকার।


দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একজন শিক্ষক যেন সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সময়োপযোগী বেতন-ভাতা, আবাসন সুবিধা, চিকিৎসা সহায়তা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থা শিক্ষকতার পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।


তৃতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোনো অভিযোগ উঠলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব বা চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।


শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষককেও শিক্ষার্থীর মতামত, অধিকার ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শিক্ষাঙ্গনই পারে একটি মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ করতে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-শিক্ষাঙ্গনকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ বাস্তবায়নের ক্ষেত্র বানানো যাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, মানবিক মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তার বিকাশ। সেখানে শিক্ষক হবেন স্বাধীনভাবে জ্ঞান বিতরণের পথপ্রদর্শক, আর শিক্ষার্থী হবে অনুসন্ধিৎসু ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগপ্রাপ্ত।


একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; দক্ষ, সৎ ও মানবিক নাগরিক তৈরির ওপরও তা নির্ভরশীল। আর সেই নাগরিক তৈরির প্রধান দায়িত্ব শিক্ষকদের। তাই শিক্ষকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনকে সব ধরনের অযাচিত প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা সময়ের দাবি।



শিক্ষক যদি নিরাপদ থাকেন, মর্যাদা পান এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে শিক্ষার্থীরাও একটি ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে উঠবে। আর সেই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে। তাই একটি উন্নত, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে আজই নিশ্চিত করতে হবে-শিক্ষকের মর্যাদা, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন।

Tag
আরও খবর