পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল কবির ও ওই অফিসের হিসাবরক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ, দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য ও শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে গত ১৩ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এবং গত ১৭ আগস্ট বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে গত ২৭ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হলেও বহাল তবিয়তেই থেকে যায় হিসাবরক্ষক জাকির । এ নিয়ে গত ২৯ আগস্ট কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
উক্ত অভিযোগ ও সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিনে সকল ভুক্তভোগী শিক্ষক, অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষকের উপস্থিতে তদন্তকার্য সম্পন্ন করেন। কিন্তু তদন্তের ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও অজানা প্রভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এমনকি অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাকির অভিযোগকারী শিক্ষকদের অফিসিয়াল ভাবে হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- হিসাবরক্ষক জাকিরের খুঁটির জোর কোথায়? কি কারনে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে না? কেনই বা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ! সেইসাথে অতিদ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হিসাবরক্ষক জাকির হোসেন তার আপন ফুফাতো ভাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পদে চাকুরির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর নিজ উপজেলায় চাকরি করে লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যাচ্ছেন। তিনি
পিবিজিএসআই স্কিমের অনুদানের আবেদন, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণে পরিবহন খরচ, শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি, উপবৃত্তির ডাটা এন্ট্রির অনলাইন প্রিন্টকপি, এমপিওভুক্তির আবেদন, বিএড স্কেল, উচ্চতর স্কেল, বকেয়া বিল, এমপিও সিটের নাম কর্তনসহ যে কোন সংশোধনী, ম্যানেজিং কমিটি
গঠনে অফিস খরচ ও নিয়োগ বানিজ্যের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এসব দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকায় ও শহরে নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। তার জিপিএফ ফান্ডে রয়েছে ৩১ লক্ষ টাকা এবং নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্টে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। উপজেলা সদর সুবিদখালীতে কোটি টাকা মূল্যের দুইতলা বিশিষ্ট অট্টালিকা রয়েছে জাকিরের। এছাড়াও পটুয়াখালী জেলাসহ বিভাগীয় শহরে তার একাধিক জমি, ফ্লাট, বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে। তাকে চাহিদা মতো ঘুষের টাকা দিতে না পারলে শিক্ষকদের কপালে জোটে গালিগালাজ, দুর্ব্যবহার, অশালীন মন্তব্য ও হুমকি। চাকুরী হারানো কিংবা বিভিন্ন হয়রানির ভয়ে কোন শিক্ষক বা কর্মচারী তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। জাতি গড়ার কারিগররা তার কাছে জিম্মি। হিসাবরক্ষক জাকির শিক্ষকদের কাছে যেন মূর্তিমান আতঙ্ক। এমনকি শিক্ষকদের কাছে তিনি "টাকা খেকো জাকির" নামে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতেছেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাঃ মুজিবুর রহমান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, বরিশাল অঞ্চল মহোদয়ের নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।
৩৭ দিন ২৫ মিনিট আগে
৬২ দিন ১৫ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১২৪ দিন ৪ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১৪০ দিন ৯ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১৪৭ দিন ৮ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১৪৮ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১৪৮ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
১৫১ দিন ৮ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে