তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট স্পার বাঁধের আরসিসি অংশের ৩০মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকীর মুখে পরেছে পুরো স্পার বাঁধটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।অন্যদিকে উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণে পানিতে ভেসে গেছে রাস্তাঘাট,পুকুর-জলাশয় সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সবজি ও ধান ক্ষেত।
জানা গেছে,গত তিন দিনের ভারী বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানির তোড়ে উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তার বাম তীরে নদী শাসনে নির্মিত ১৫০মিটার মাটির বাঁধের মাথায় ৩০মিটার করে ২টি অংশে ৬০মিটার আরসিসি স্পারের উপর পানির প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। এতে করে প্রথমে আরসিসির একাংশ ৩০মিটার পানিতে হেলে পড়ে এবং পরে শনিবার রাতে সেটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৯৫ইং সনে ৬০মিটার দৈর্ঘ্য এই আরসিসি স্পার বাঁধটি নির্মিত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
এদিকে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ,চরখিতাবখাঁ,বড়দরগা মাজার,বুড়িরহাট,গতিয়াশাম ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা,রামহরি এবং কালিরহাট গ্রামের কয়েকটি স্থানে তীব্র নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে । শুক্রবার থেকে এপর্যন্ত এসব মৌজায় নতুন করে অর্ধশতাধিক বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরআগে ওই ৫টি মৌজায় অর্ধশতাধিক বসত ভিটা নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে। তিস্তার মাজের চরসহ আশেপাশের গ্রাম গুলোতে এখনো সহ¯্রাধিক পরিবার পানি বন্দী রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে খিতাবখাঁ ও চর খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিকটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কালিরহাট বাজার,বুড়িরহাট বাজার,কালিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২টি ইউনিয়নের ৪টি মসজিদ,২টি মন্দির,বিভিন্ন স্থাপনা ও শত শত একর ফসলি জমিসহ সহস্রাধিক বসতভিটা ভাঙন হুমকীর সম্মূখীন হয়েছে।
অপরদিকে ৭টি ইউনিয়নের সহ¯্রাধিক হেক্টর জমির ধান সহ বিভিন্ন জাতের সফল পানিতে তলিয়ে গেছে। ছোট-বড় শতাধিক পুকুর ও জলাশয় পানিতে ভেসে যাওয়ায় সেসব মাছ বেড়িয়ে গেছে।
ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব মৌজার ইউপি সদস্য মামুন মন্ডল বলেন,স্পার বাঁধটি দেবে যাওয়ায় ভাঙন হুমকীতে পড়েছে ভাটির দিকের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা,রামহরি,কালিরহাটসহ কয়েকটি গ্রাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,স্পার বাঁধের অবশিষ্ট অংশ নদী গর্ভে বিলীন হলে বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ইউনিয়নের নদীর পার্শ্ববতী গ্রাম গুলো অস্তিত্ব হারাবে।
খিতাবখাঁ গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন (৮৫) বলেন,মোর চোখের সামনোত বাড়িটা নদীত চলি গেইছে,শতচেষ্টা করিয়াও হামরা আটকাবার পাই নাই। এ্যালা কোটে থাকমো,কিখামো আল্লাাহ ছাড়া ক্যাইয়্যো জানে না।”
একই গ্রামের নুরমোহাম্মদ (৭০) বলেন,“তিস্তা নদী মোর সউগ শ্যাষ করছে। এ্যাল্যা বাড়িঘর করার মতন টাকা পাইসা জায়গা জমিন কিছুই নাই। ”
রাজারহাট সদর ইউনিয়নের পূনঃকর গ্রামের আশরাফ আলী জানান,তার আড়াই একর জমির ধান ক্ষেত এখন পানির নিচে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথি বলেন,আনুমানিক ১৩৫হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল আলম জানান,আনুমানিক ৩০হেক্টর পুকুর-জলাশয় পানিতে ভেসে যাওয়ায় ৪০থেকে ৪৫জন কৃষকের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন,শনিবার রাত ১টা পর্যন্ত নিজে উপস্থিত থেকে বুড়িরহাট স্পার বাঁধের অবশিষ্টাংশ রক্ষায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ তদারকি করেছি,এখনো পুরোদমে কাজ চলছে।#
৫৮৪ দিন ১৪ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৫৮৪ দিন ১৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৫৮৬ দিন ১৪ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৭১৫ দিন ৭ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৭৪০ দিন ২০ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৭৬০ দিন ১১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৭৬৩ দিন ১০ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৮০৮ দিন ১০ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে