আব্দুল গণি ছিলেন একটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নির্মম শিকার- অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া
আব্দুল গণি ছিলেন একটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নির্মম শিকার- অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া
কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত রাজবাড়ীর সন্তান আব্দুল গণি শেখের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) জুমার নামাজের পর রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর নতুন বাজার এলাকায় আব্দুল গণির নিজ বাড়ির পাশের মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তার পরিবার।
অনুষ্ঠানে শহীদ গণির রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন চর খানখানাপুর ঈদগাহ মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. দেলোয়ার হোসেন। এতে গণির পরিবার-পরিজন ছাড়াও স্থানীয় মুসল্লি, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন গাজী, খানখানাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীনুর রহমান শাহীন এবং শহীদ গণির বাবা আব্দুল মজিদ শেখ, স্ত্রী লাকী বেগম ও ছেলে আলামিন শেখ।
আবেগঘন বক্তব্যে অ্যাড. আসলাম মিয়া বলেন, “আব্দুল গণি ছিলেন একটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নির্মম শিকার। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রেখে তিনি চিরবিদায় নেন। সেই মুহূর্ত থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবারের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
তিনি আরও বলেন,
> “আজকের এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করছি না—তার ছেলে-মেয়ের শিক্ষার খরচসহ পারিবারিক সহায়তায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।”
দোয়া মাহফিল শেষে নেতৃবৃন্দ শহীদ আব্দুল গণির কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মত্যাগের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার উত্তর বাড্ডা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আব্দুল গণি শেখ। তিনি গুলশান-২ এর সিক্স সিজন হোটেলের কারিগরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সংঘর্ষ চলাকালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় দীর্ঘ সময় তার মরদেহ পড়ে থাকে।