প্রধান শিক্ষকসহ ৫টি বিষয়ে কোন শিক্ষক নেই ২৭টি পদে আছেন মাত্র ১১ জন
রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যহত
এমদাদ খান রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহি রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূণ্যতায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ গণিত, জীব বিজ্ঞান, কৃষি, ভূগোল ও চারুকলা বিষয়ে কোন শিক্ষক নেই।
২৭ জন শিক্ষকের স্থলে শারীরিক শিক্ষার অতিরিক্ত একজনসহ এখন কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানরাখা পার্বত্যাঞ্চলের প্রাচীন এ স্কুলের প্রতি এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা বলে মনে করছেন অভিবাবক ও শিক্ষানুরাগীমহল।
১৯৫২ সালে রামগড় মহকুমা আমলে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ১৯৬৮তে সরকারিকরণ করা হয়। উপজেলার একমাত্র এ সরকারি স্কুলটি বরাবরই শিক্ষক সংকটে ভুগছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ ২৭টি শিক্ষক পদ রয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ ১৬ জন শিক্ষকের পদই শূণ্য। তন্মধ্যে গণিত, জীব বিজ্ঞান , কৃষি, ভূগোল ও চারুকলার কোন শিক্ষকই নেই।
স্কুল সূত্রে জানাযায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র সরকার অন্যত্র বদলীর পর অদ্যবদি শূণ্য পদে নতুন প্রধান শিক্ষক পোস্টিং দেয়া হয়নি। সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদও শূণ্য দীর্ঘদিন ধরে । গণিত বিষয়ের ৩টি পদের মধ্যে ২ জন পোস্টিং ছিল। ২০২১ সালে দুজনকেই অন্যত্র বদলী করা হয়। ফলে এখন গণিতের কোন শিক্ষকই নেই। এছাড়া, বিষয় ভিত্তিক সহকারি শিক্ষকের মধ্যে বাংলার ৪টি পদের মধ্যে ২টি, ইংরেজির ৪টির মধ্যে ২টি, সামাজিক বিজ্ঞানের ২টির মধ্যে ১টি, ভেত বিজ্ঞানে ২টির মধ্যে ১টি, ব্যবসায় শিক্ষায় ২টির মধ্যে ১টি, জীব বিজ্ঞানের ২টির মধ্যে ২টি, ভূগোল, কৃষি শিক্ষা ও চারুকলার একমাত্র পদগুলো শূণ্য পড়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ।
অন্যদিকে, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকের একটি পদে দুজন পোস্টিং রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণীর পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেকটা জোরাতালি শ্রেণি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে লেখাপড়ার মান এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ক্রমশ: খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্কুলের এ নাজুক অবস্থায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর অভিভাবক চরম উদ্বিগ্ন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক মো. আবদুল কাদের জানান,৬ষ্ঠ হতে দশম শ্রেণীর একাধিক শাখার শ্রেণীর পাঠদান করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। শূণ্যপদে বদলী ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের জন্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত চিঠি পাঠানো হচ্ছে।মাউশি’র ডিজি মহোদয়কে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়ে জানিয়েছি। দ্রুততম সময়ে এখানে শিক্ষক দেওয়া না হলে প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। বাংলা বিভাগের শিক্ষক মো. হারুনুর রশীদ জানান, তাকে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।
অভিভাবক মোহাম্মদ শহিদ উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, সন্তানদের পড়ালেখার ভবিষ্যত নিয়ে এই অঞ্চলে বসবাসরত প্রত্যেকেই চিন্তিত। পাহাড়ের দরিদ্র এলাকা হওয়ায় আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর পক্ষে তাদের সন্তানদের অন্য কোথাও নিয়ে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করা অনেকটাই কষ্টসাধ্য।
রামগড় উপজেলা নির্বাহি অফিসার খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাাফাত স্কুলের নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন ‘শিক্ষক সংকট দূর করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাউশি,র ডিজি মহোদয় এর সাথে যোগাযোগ করেছি এবং চিঠি পাঠিয়েছি।
শিক্ষক সংকটগ্রস্ত স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বিশ্ব প্রদিপ কুমার (কার্বারি)। এসময় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁর কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের আবেদন জানান।
রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু বিশ্ব প্রদিপ কুমার কার্বারি বলেন, মাউশি’র ডিজি মহোদয়কে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়ে জানিয়েছি। তিনি বলেন দ্রুততম সময়ে এখানে শিক্ষক দেওয়া না হলে প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করেন, পড়ালেখার ভবিষ্যত নিয়ে এই অঞ্চলে বসবাসরত প্রত্যেকেই চিন্তিত। পাহাড়ের দরিদ্র এলাকা হওয়ায় আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর পক্ষে তাদের সন্তানদের অন্য কোথাও নিয়ে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করা অনেকটাই কষ্টসাধ্য।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অভাব দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১৭ দিন ৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
২২ দিন ১ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
২২ দিন ১ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২৪ দিন ৩ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
২৫ দিন ১৯ মিনিট আগে
৯৯ দিন ৯ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১০৯ দিন ৫ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১১৪ দিন ৭ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে