পরিষদে চেয়ারম্যান নেই। তার খোঁজও মিলছে না। তালা ঝুলছে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। এমন দৃশ্য দেখা গেল ঝিনাইদহ সদররে পাগলা কানাই ইউনিয়ন পরিষদে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বিশ্বাস তিন সপ্তাহ ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন না। শুধু আবু সাঈদ বিশ্বাসই নন, ঝিনাইদহের ৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যানরা ৫ আগস্টের পর থেকে পরিষদে যাচ্ছেন না। এতে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই সব ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিন সদরের পাগলাকানাই ও সুরাট, শৈলকুপার দুধসর ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় চেয়ারম্যানরা কার্যালয়ে নেই।
তাদের কক্ষ তালাবদ্ধ। অফিস করছেন সচিব ও উদ্যোক্তারা। চেয়ারম্যান না থাকায় তাদের কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে সেবাপ্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যানরা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে যাচ্ছেন না।
এর মধ্যে রয়েছেন সদরের ঘোড়শাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিটন, পাগলা কানাই ইউনিনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বিশ্বাস, কালীচরণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন, পদ্মকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস, কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ও সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিন। শৈলকুপার ত্রিবেণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মোল্লা, উমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা, দুধসর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ সাবু, ধলহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাস, বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শিমুল ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ। এ ছাড়া হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার অধিকাংশ চেয়ারম্যান লাপাত্তা রয়েছেন।
পাগলাকানাই ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ নিতে আসেন পারভেজ আলম, দেলোয়ার হোসেন, সুমাইয়া খাতুন, ইসরাঈল বিশ্বাস ও আলেয়া বেগম। তারা বলেন, ‘নিজের বিভিন্ন অপকর্ম ঢাকতে আওয়ামী লীগের এই চেয়ারম্যান পরিষদে না এস গা ঢাকা দিয়েছেন।
সনদে স্বাক্ষর নিতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়, বাড়ি ও মোবাইলে খোঁজ করে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’
দুধসর ইউনিয়ন পরিষদে উত্তরাধিকার সনদ নিতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আজ পাঁচ দিন ধরে পরিষদে ঘুরছি একটা ওয়ারেশন সনদ নেওয়ার জন্য। চেয়ারম্যান না থাকায় শুধু সচিবের স্বাক্ষরে কাজ হচ্ছে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা কমিটির সভাপতি ও মানবাধিকারকর্মী আমিনুর রহমান টুকু জানান, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অপকর্মমের অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে। এসব অপকর্মের জন্য তাদের মধ্যে আত্মভয় তৈরি হয়েছে। এ জন্য অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বার তাদের কার্যালয়ে যাচ্ছেন না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পন্থা অবলম্বন করে এই সংকট দ্রুত নিরসন করতে হবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতে যেসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত রয়েছেন, সেসব ইউনিয়নে তাদের পরিবর্তে প্যানেল চেয়ারম্যানদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর পরও অনেক জায়গায় প্যানেল চেয়ারম্যানরাও কার্যালয়ে যাচ্ছেন না বলে শুনেছি। এতে করে ওই এলাকার বসিন্দারা নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে।
১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৩ দিন ৯ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
১১ দিন ৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১৩ দিন ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৪ দিন ২৩ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
১৫ দিন ২৩ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
২২ দিন ৯ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে