ড. ইউনূসকে যা বললেন মোদি নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র দেখতে চায় ভারত ডোমারে সাংবাদিক নির্যাতন, গ্রেপ্তার-১ ঝিনাইদহে কবরস্থানে বসবাস করছে অসহায় পরিবার, সাহায্যের আহ্বান বাবা-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন, জানল না শিশু আরাধ্য সবার পাঠশালার শীর্ষ নেতৃত্বে সিহাব-প্রাণহরি মোংলা বন্দরে নতুন আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে আগ্রহী চীন হাসিনাকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ মধুপুরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিউটি পার্লারের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শ্রীমঙ্গলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এবং বর্তমান জনশক্তিদের নিয়ে ঈদ পুণর্মিলনী পূর্ব সোনার পাড়া আদর্শ সামাজিক সংঘ এর আলোচনা সভা ও ঈদ পূণর্মিলনী সম্পন্ন। শার্শার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় কুলিয়ারচরে ফরিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় উদ্ভোধন কুলিয়ারচরে স্মারক জয়ন্তী ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ঈদের ছুটিতে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আগমন জমজমাট লালপুরে স্ত্রী সন্তানের ওপর রাগ করে নিজের বাড়িতে আগুন তরুণদের ‘থ্রি-জিরো’ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে তৈরির আহ্বান জানালেন ড. বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর ইউনূস ২-৪ বছর থাকলে দেশ সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার পথে এগিয়ে যাবে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে'

বিজিবির ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর ইতিহাস বাংলাদেশের সামরিক ও সীমান্ত রক্ষার ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বিডিআর বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচিত। এর শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর কার্যক্রম ও নামেও এসেছে পরিবর্তন। বিস্তারিতভাবে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) ইতিহাস তুলে ধরা হলো:


ব্রিটিশ শাসনামল (১৭৫৭-১৯৪৭)


বাংলাদেশ রাইফেলসের ইতিহাস শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৭৯৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন ভারতবর্ষে সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী গঠন করে। এটি ছিল বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রাথমিক রূপ।


এরপর ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ফ্রন্টিয়ার গার্ড’ নামে একটি বাহিনী গঠন করে, যার প্রধান কাজ ছিল সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমন করা। সময়ের সাথে সাথে এ বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়তে থাকে।


পাকিস্তান শাসনামল (১৯৪৭-১৯৭১)


১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটার পর ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া বাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন করা হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় 'ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস' (ইপিআর)।


ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) ছিল পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। ইপিআরের প্রধান দায়িত্ব ছিল পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা। পাকিস্তান শাসনামলে ইপিআর দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা (১৯৭১)


১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) এর সদস্যরা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২৫শে মার্চ, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর ইপিআরের সদস্যরা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হন। ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত ইপিআর সদর দপ্তরে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।


ইপিআরের অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এই যুদ্ধে ইপিআরের অনেক সদস্য শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইপিআরের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন এবং বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।


স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় এবং বিডিআর (১৯৭২-২০০৯)


স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ (বিডিআর)। বিডিআরকে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার প্রধান কাজ ছিল দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান রোধ করা, এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা।


বিডিআর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং জরুরি প্রয়োজনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিডিআরের সদস্যরা দেশের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে ব্যাপকভাবে কাজ করে আসছিল।


বিডিআর বিদ্রোহ (২০০৯)


২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক বিদ্রোহ। বিদ্রোহে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। বিদ্রোহের মূল কারণ হিসেবে বিডিআর সদস্যদের বেতন বৈষম্য, পদোন্নতির সুযোগ না পাওয়া এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা উঠে আসে। এই বিদ্রোহ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।


বিদ্রোহটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংকট সৃষ্টি করে এবং এতে দেশের জনগণ ও প্রশাসনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


বিডিআর থেকে বিজিবি (২০১০-বর্তমান)


২০০৯ সালের বিদ্রোহের পর বাংলাদেশ সরকার বিডিআরের ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০১০ সালের ২০ মার্চ "বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অ্যাক্ট, ২০১০" প্রণয়নের মাধ্যমে বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) রাখা হয়।


বিজিবির কাঠামো, কার্যক্রম এবং দায়িত্বের ব্যাপক পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন করা হয়। বাহিনীর কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারির জন্য আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়।


বিজিবি’র বর্তমান কার্যক্রম


বর্তমানে বিজিবি দেশের সীমান্ত রক্ষায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধ, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি এখন আন্তর্জাতিক মিশনেও অংশগ্রহণ করে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করছে।


উপসংহার


বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পর্যন্ত এর ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং ঘটনাবহুল। বিডিআর দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। যদিও বিডিআর বিদ্রোহ দেশের জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করেছিল, তবে এর পরবর্তী সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিজিবি এখন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য একটি আধুনিক, দক্ষ এবং সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে কাজ করছে।

Tag
আরও খবর



শৈলকুপায় বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

১১ দিন ৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে