শৈলকুপায় সুদ কারবারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক সুদ কারবারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী। রোববার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শৈলকুপা থানায় সাহিদা খাতুন নামের এক নারী এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামের ইখতারের স্ত্রী সাহিদা খাতুন একই গ্রামের জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা ধার নেন। কিছুদিন পর তিনি জাহাঙ্গীরকে ওই টাকার মূল পরিমাণসহ সুদ দিতে বাধ্য হন। তবে সম্প্রতি জাহাঙ্গীর হোসেন আরও ৯৪ হাজার টাকা দাবি করতে থাকেন। নিয়মিত হুমকি ও প্রভাবশালী হওয়ায় ওই নারী ভয়ে জাহাঙ্গীরকে এক লক্ষ টাকা দেন। এরপরও গত ২৩ অক্টোবর রাত ৮ টার দিকে জাহাঙ্গীর গৃহবধূ সাহিদার বাড়িতে গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন। তিনি অপারগতা জানালে জাহাঙ্গীর তাকে অপমান করেন। এরপর ২৪ অক্টোবর, সাহিদার ছেলে সুবানের সাথে দেখা হলে জাহাঙ্গীর তার কাছেও টাকা দাবি করেন এবং অস্বীকৃতি জানালে হুমকি প্রদান করেন।
অভিযোগের সাহিদা খাতুন জানান, ‘আনুমানিক দুই বছর পূর্বে সুদে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা ধারে নিই। পরবর্তীতে আমি তাঁর আসল টাকাসহ সুদ পরিশোধ করি। পরে সুদখোর জাহাঙ্গীর আমার কাছে টাকার দাবি করে খুন জখমের হুমকি দিলে আমি ভয়ে তাঁকে আরো এক লক্ষ টাকা প্রদান করার পরেও পরবর্তীতে আমার নিকটে আরো ৯৪ হাজার টাকার দাবি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় (২৩ অক্টোবর) রাতে সময় সুদখোর জাহাঙ্গীর আমার বাড়ির উপরে আসে এবং আমার নিকটে উক্ত ৯৪ হাজার টাকা দাবি করে, আমি টাকা দিতে অপারগতা জানালে আমাকে পূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।’
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার (ওসি) তদন্ত অফিসার এস.এম. রিয়াজুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, শৈলকুপা উপজেলার পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নে সুদ কারবারীদের দৌরাত্ম থামছেই না। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। মূল টাকার তিনগুণ দিয়েও রেহাই পাচ্ছে না তারা, দেওয়া হচ্ছে ব্যাংক চেকের মামলা। সুদকারবারীদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের বরিয়া, হরিহরা, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কুশবাড়িয়া, চরডাউটিয়া, বন্দেখালী গ্রাম সুদকারবারীদের হটস্পট হয়ে দাড়িয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, সুদকারবারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কারবারীরা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। তাদের লাগাম টানা প্রয়োজন।