রাট করে সদ্য রোপন করা এক আলু চাষির ৩ বিঘা জমির আলু ফসল নস্ট করেছে অজ্ঞাত দুস্কৃতিকারীরা। গত ৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের খিকিন্দা পূর্বপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
ভ’ক্তভোগী আলুচাষি শিক্ষক কামাল আহম্মেদ জানান, তিনি দুই সপ্তাহ আগে ৩ বিঘা জমিতে সার প্রয়োগ করে আলু বীজ রোপন করেন এবং গত ৩ ডিসেম্বর জমিতে প্রাথমিক সেচ এবং ৪ ডিসেম্বর ঘাস মারার অসুধ প্রয়োগ করে শেরপুর শহরের বাসায় চলে আসেন। ৫ ডিসেম্বর ভোরে একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে মোবাইল ফোনে জানান, কে বা কারা শুধু তার তিন বিঘা জমিতে পাশের সেচপাম্প দিয়ে আলুর জমিতে পানি দিয়ে ভরাট করেছে।
তিনি জানান, এই তিন বিঘা জমিতে এ যাবত প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে আলু বীজ রোপন করেছি। অতিরিক্ত পানি সেচ দেয়ায় সব আলু বীজ নস্ট হয়ে যাবে। এই জমি থেকে আমি প্রায় ৩’শ ৬০ মণ আলুর ফলন আশা করেছিলাম যার সাম্ভাব্য বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তিনি দুঃখ করে বলেন, ধার-দেনা করে যোগাড় করা টাকায় আলু চাষ করে আর্থিকভাবে আমার লাভবান হওয়ার স্বপ্ন শত্রুরা পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে। আলু চাষি কামাল জানান,কৃষি অফিসের পরামর্শে জমি থেকে পানি অপসারণের জন্য সারাদিন কাজ করছি।
ঐ গ্রামের কৃষক সাইদুল জানান, এ ধরনের ঘটনা এই গ্রামে প্রথম নয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুস্কৃতিকারীরা ইতিপূর্বেও অনেকের ফসল নস্ট করেছে। শাস্তি না হওয়ায় এ বছর তারা আলু চাষি কামালের জমিতে অতিরিক্ত পানি দিয়ে চারা গজানোর আগেই এই ফসল নস্ট করে দিয়েছে। তিনি এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধীদের চিহ্ণিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
কুসুম্বী ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহামান জানান, অতিরিক্ত পানি ভরাট করে খিকিন্দা মাঠে ৩ বিঘা জমির আলু ফসল নস্ট করার খবর পেয়ে মাঠ পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন, অতিরিক্ত পানি দেয়ার কারণে বপন করা বীজ আলু পঁচে নস্ট হয়ে যাবে। প্রাথমিক ভাবে জমি থেকে পানি অপসারণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষি কামাল আহম্মেদ এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।