সারাদেশের ন্যায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীণ, উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে ও তথ্য নিয়ে এমনটাই জানা গেছে । সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে, জানুয়ারি ২০২৩ হতে অদ্যাবদি প্রায় ১১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন । জটিল ও আশঙ্কা জনক রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতাল সমূহে ।
গত ৫ আগস্ট ২০২৩ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্যান্য রোগীদের পাশাপাশি ভর্তি আছেন ১৫ জন্য ডেঙ্গু রোগী, সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৪ জন । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন । তিনি আরও জানান, গত মাসে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন এবং চলতি মাসে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের আসন সংকট থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য রোগীদের পাশাপাশি মশারী টাঙিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের । কেউ কেউ আসন না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতেই ঠাঁই নিয়েছেন । কর্তব্যরত চিকিৎসক তৎপর রয়েছেন চিকিৎসা সেবা প্রদানে । এ সময় সিনিয়র স্টাফ নার্স হাবিবা সুলতানা সহ কর্মরত অন্যান্য নার্স,ওয়ার্ড বয় সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীগণদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যাস্ত সময় পার করতে দেখা যায় ।
রোগী ও রোগীদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরে প্রচুর ব্যাথা হয় এবং তারা ঘুমাতে পারেন না । এতে সাধারণ রোগীদের কষ্ট হয় । তবে, চিকিৎসা সেবায় তারা সন্তুষ্ট । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় রোগী ও স্বজনদের মাঝে চাপা অভিযোগও শোনা গেছে । তারা জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য আলাদা ওয়ার্ড থাকলে ভালো হতো । তাছাড়া হাসপাতালের ভেতরে রাতের বেলায় প্রচুর মশার উৎপাত, এমন অভিযোগও শোনা যায় । হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন অনেকে ।
এদিকে সকাল হতেই হাসপাতালের আউটডোরে শিশু সহ সব বয়সী রোগীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে । এদের অধিকাংশই এসেছেন জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা নিয়ে । রোগীরদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন আউটডোরে কর্তব্যরত চিকিৎসকবৃন্দ । মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ ফরিদুল হক শাহজাহান জানান, প্রায় প্রতিদিনই রোগীদের বাড়তি চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা রোগী দেখে যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি । বেশিরভাগ রোগীই জ্বর ও সাথে অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আসছেন । ডেঙ্গু জ্বর সনাক্ত করনে দেয়া হচ্ছে রক্ত পরীক্ষা । হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগেও ছিল যথেষ্ট রোগীর ভীর । কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রাজিব সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবাদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে ।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও অনেকে পরীক্ষা করান না কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হন না । ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে তথ্য পায়, প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গু রোগী তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি । ডেঙ্গু রোগের বিপজ্জনক উপসর্গের মধ্যে আছেঃ ক্রমাগত বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত, শরীর ব্যথা,প্রস্রাব ও মলের সঙ্গে রক্তপাত, অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা, ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ (যা ক্ষতের মতো দেখাতে পারে), দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস ও ক্লান্তি। এসব উপসর্গ দেখা গেলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
বছরের শুরুতে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ও উদ্যোগী ভূমিকা নিলে হয়তো পরিস্থিতি এতটা নাজুক হতো না। কেবল চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ নির্মূল করা যাবে না, ডেঙ্গু নির্মূল করতে হলে আগে এডিস মশার উৎসগুলো ধ্বংস করা জরুরি । এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে । আগে ধারণা করা হতো বর্ষার মৌসুমেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটে, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সারা বছরই মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ।
৩৫ দিন ৬ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৬৭ দিন ৫ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৮২ দিন ৫ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৮৩ দিন ১০ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৮৬ দিন ৮ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৮৭ দিন ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১০৯ দিন ৩ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১০৯ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে