'এ সব দেখি কানার হাট বাজার','মাছ কি হবে?বেচব হাটে,কিনব শাড়ি পাটে পাটে','সকাল থেকে বউ বকছে যেতেই হবে হাটে,থলি হাতে গুজে দিয়ে,থালা বাটি সঙ্গে নিয়ে চলল পুকুর ঘাটে।'হাট কে নিয়ে রয়েছে কতোই না ছন্দ-কবিতা।হাট মানে গ্রামীণ জনপদে সাপ্তাহিক বা প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনী পন্য দ্রব্য কেনা-বেচার স্থান। কিন্তু এখানে পন্য-দ্রব্য না বেচা-কেনা হয় শ্রম।গাজীপুরের শ্রীপুরে এমনিই গড়ে উঠেছে শ্রম বিক্রির বিশাল হাট।দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত দরিদ্র মানুষ এখানে আসে শ্রম বিক্রি করতে।আর আশপাশের অঞ্চল থেকে এখানে আসে শ্রম কিনতে।
দিনের আলো ফোটার আগেই উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার বাসস্ট্যান্ডের উড়ালসেতু নিচে চোখে পড়ে মানুষের জটলা। ফজরের আজানের পর পাখির কলকাকলির শুরু থেকেই শ্রম বিক্রি মানুষগুলো জড়ো হতে শুরু করে।কেউ কেউ বাশেঁর টুকরি-কোদাল,কুনি,গজ,বাসলা নিয়ে বসে আছে।আরেক শ্রেণির মানুষ এখানে আসে শ্রম কিনতে। প্রায় ১০/১৫ বছর ধরে মাওনা চৌরাস্তা এই শ্রমিকের হাট গড়ে উঠেছে।এসব শ্রমিকরা রাজ মিস্ত্রি,বালু টানা,ধান রোপন ও কাটা থেকে শুরু করে খেত-খামার এবং গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজ করে থাকে।
প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন শ্রম কিনতে আসে।চিরাচরিত হাটে ওঠা পণ্যের মত এখানেও চলে দরদাম।এসব শ্রমিকের শ্রমের মূল্য ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত।চাহিদার উপর নির্ভর করে দাম বাড়তে ও কমতে পারে।
আঞ্চলিক ভাষায় তাদের বলে কামলা। আবার অনেকে বলেন শ্রমিক। প্রতিদিনি ভোর পাঁচটা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত চলে এই শ্রমের বাজার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মূলত জামালপুর,ময়মনসিংহ,নেত্রকোনা,শেরপুর গরফগাওসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন এখানে আসেন কাজের খোঁজে। এক বেলার জন্য বা কয়েকদিনের জন্য তারা বিক্রি হয় এই বাজারে।
জানা যায়, শ্রম বিক্রি করতে শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা রকম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।যে শ্রমিকরা কাজে যেতে পারেনা তাদের সমস্যাই সবচেয়ে বেশি হয়। রাতের বেলায় এরা উড়ালসেতুর নিচে ও বিভিন্ন মার্কেটের বারান্দায় রাত্রি যাপন করতে হয়। আবার কেউ খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটান। তবে তাদের ছিচকে চোর ও সন্ত্রাসীদের কবলে পড়তে হয় না বলে জানান।
শ্রমিকের হাটে কথা হয় ময়মনসিংহের ফুলপুরের তুরাব আলীর (৫২)জানান, তাদের নিজ জেলায় কাজ নেই। ছয় সদস্যের পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এ অঞ্চলে শ্রমের দাম বেশী, কাজও বেশী। তাছাড়া প্রতিদিন শ্রম বিক্রি করা যায়। তাই এখানে চলে আসি।
জামালপুরের কলিম উদ্দিন (৪৬) জানান, মালিকেরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবেই গণ্য করে না। কাজে একটুও বিশ্রাম দিতে চায় না।
তবে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষের অভিযোগও কম নয়। শ্রীপুর উপজেলার আতিকুর রহমান (৫০) বলেন, এখানকার শ্রমিকরা সাহেবদের মত।ঘড়ি ধরে কাজ করে। এদের বেশি কিছু বলা যায়না। কিছু বললেই কাজ ফেলে চলে যায়।
৯ দিন ১৮ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৪৫ দিন ২৩ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
২০৩ দিন ১৪ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২০৪ দিন ৭ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
২২৬ দিন ৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
২৩৫ দিন ১ ঘন্টা ২ মিনিট আগে