মোশারফ হোসেন লিটন সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানহানির অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের পিএসসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেছেন এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম আহমদ।
মামলায় সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ব্যক্তিগত সহকারী মো. আব্দুর রাজ্জাক পাভেল, এমপির ভাতিজা তানভির হাসান সাগরসহ ১০ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে আপ্তাব উদ্দিন (৩৮), একই উপজেলার চান মিয়ার ছেলে নুরুল আমীন নিরব, উসমান গনির ছেলে সবুজ আহমদ জয়, আব্দুস শহীদের ছেলে সজল সিদ্দিকী, ধর্মপাশা উপজেলার আব্দুল মনাফের (মনা) ছেলে মো. লিটন আহমেদ শান্ত, এমপি রতনের ভাই হাজী মাসুদের ছেলে তানভীর হাসান সাগর, আব্দুর রশিদের ছেলে হারুন মিয়া, বসন্ত সরকারের ছেলে লেলিন সরকার, মৃত জ্যোতিষ চন্দ্র সরকারের (ভানু মাস্টার) ছেলে বিদ্যুৎ সরকার। এছাড়াও মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় সেলিম আহমদ উল্লেখ করেন, ‘আমি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য এবং আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ—১ আসন হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। জাতীয় শ্রমিক লীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি।’
২০২২—২৩ অর্থ বছরে নিজেকে সুনামগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ করদাতা উল্লেখ করে সেলিম মামলায় উল্লেখ করেন,সংসদীয় এলাকা তাহিরপুর, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলা এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছেন তিনি। জনকল্যাণমূলক কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে আসামিগণসহ আরও অজ্ঞাতনামা আসামিগণ সর্বসাধারণের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য প্রতিহিংসা বশতঃ ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে সম্মানহানিসহ এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
মামলায় সেলিম আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা মানহানিকর তথ্য শেয়ার, লাইক, পোস্ট ও কমেন্ট এর মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিগণসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হতে যাতে তিনি মনোনয়ন না পান, সেজন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জনপ্রিয়তা নষ্ট করার লক্ষ্যে তাঁর ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট, আক্রমণাত্মক, ভীতি প্রদর্শক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও প্রচার করেছে। এ কারণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা চরমভাবে অবনতি হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে জরুরিভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলেও মামলায় দাবি করেন তিনি।
সেলিম আহমদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজিব মিত্র জানান, সাইবার ট্রাইব্যুনাল সেলিমের অভিযোগ আমলে নিয়ে তাহিরপুর থানার ওসিকে তদন্তের জন্য আদেশ দিয়েছেন।
এমপি রতনের ব্যক্তিগত সহকারী মো. আব্দুর রাজ্জাক পাভেল বলেন, সেলিম আহমদ ১০ জনের নামোল্লেখ করে বুধবার সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন শুনেছি, এখনো অভিযোগের কাগজ দেখিনি, অভিযোগের কপি পেলে যথাযথ মাধ্যমে জবাব দেব।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বললেন, ‘সাইবার ট্রাইব্যুনালে সেলিম আহমদ এ ধরণের একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন শুনেছি। এখনও আমাদের কাছে কোনো কাগজ আসে নি।’
৩৪ দিন ১১ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
১০২ দিন ১৪ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
১২০ দিন ১৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১২৬ দিন ২০ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১৩২ দিন ১৮ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১৭১ দিন ৪ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১৭৩ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১৮২ দিন ২০ ঘন্টা ১ মিনিট আগে