ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) খুরশিদা আক্তার মুন্নী (২৩) নামের এক শিক্ষার্থী অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
বুধবার (২১ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৫০৭ নম্বর রুমে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
খুরশিদা আক্তার মুন্নী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নরসিংদীর পলাশ থানার আবদুল খালেকের মেয়ে।
জানা যায়, খুরশিদা আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রথম তিনটি সেমিস্টারে প্রথম স্থান অর্জন করে আসছে। কিন্তু পরবর্তী সেমিস্টারগুলোতে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ ২১ জুন ষষ্ঠ সেমিস্টারের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় অতিরিক্ত মেডিসিন খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার করে। বিভাগীয় শিক্ষকের মার্ক টেম্পারিং হতে পারে বলে ধারণা করেন ওই শিক্ষার্থী।
খুরশিদার সহপাঠী জান্নাতুল মাওয়া বলেন, মূলত ফলাফল আশানুরূপ না পাওয়ায় সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। রুমে থাকা নাপা এক্সটেন্ডসহ বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আমরা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক জি এম রাকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফলাফল আশানুরূপ না হলে আবেদনের মাধ্যমে খাতা দেখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এভাবে হতাশ হয়ে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা মোটেও ঠিক হয়নি। যেহেতু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে তাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফলাফল আবারও নিরীক্ষণের আবেদন করলে আমরাই সব খাতা দেখানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।