◾ নিউজ ডেস্ক
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথকে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আপনাকে আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদসহ অন্যান্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ। উপরিউক্ত বিষয়ে আপনার লিখিত জবাব আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর বিভাগে জমা দেওয়ার জন্য সাংগঠনিক নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।’
কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বরিশালের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, মূলত গ্রুপিংয়ের রাজনীতির কারণে ও দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা, সর্বোপরি দলের সিনিয়র নেতাদের সম্মান না করে দলের বিরুদ্ধে কাজ করার মতো অভিযোগ থেকেই এমপি পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দলের স্বার্থ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণসহ কেন্দ্রে আবেদন করে জেলা আওয়ামী লীগ। তারই প্রেক্ষিতে কেন্দ্র থেকে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় কোন্দল, মারামারি চলে আসছিল। মারামারির এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে (পঙ্কজ দেবনাথ) একটা শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, পঙ্কজ দেবনাথের সংসদীয় এলাকা বিশেষ করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে, যার একটি গ্রুপকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পঙ্কজ দেবনাথ। নিজেদের মধ্যে এসব মারামারি ও খুনোখুনির কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
গত জুলাই মাসে পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কামাল উদ্দিন খানকে কোপানোর নির্দেশনা দিতে শোনা যায়। এমপির সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের চলমান দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় গত ২৮ আগস্ট মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান একটি পক্ষ আরেক পক্ষকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আহত নেতা-কর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র কামাল খানের অনুসারী। অন্যদিকে ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারী। মূলত জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এমপির খুব ভালো সম্পর্ক ছিল না।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, গ্রুপিং ও কোন্দলের কারণেই কেন্দ্র থেকে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু কেন্দ্রীয়ভাবে হয়েছে, তাই কেন্দ্রের দফতরের সাথে অথবা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে কথা বললে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি তথ্য পাওয়া যাবে।’
অব্যাহতির বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, এমপি পঙ্কজ দেবনাথ দলের মধ্যে গ্রুপিং করে আওয়ামী লীগের ক্ষতি করে যাচ্ছিলেন। তিনি সব সময় দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নৌকাকে ফেল করানোর চেষ্টা করেছেন। গত চার বছরে মেহেন্দীগঞ্জে দলকে বিভক্ত করে নিজের বলয় সৃষ্টি করে পঙ্কজ দেবনাথ নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, পঙ্গু করে দেওয়া, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৬ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১ দিন ২০ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১ দিন ২১ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে