শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে সেমিনার উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের মতবিনিময় সভা পীরগাছায় আল ফোরকান ক্যাডেট মাদ্রাসার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ ও সনদ বিতরণ চৌমুহনী বাজার দুই আবাসিক হোটেল থেকে ১৮ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ব্রেন স্টিমুলেশন গবেষণায় চমক: আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ‘বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড’ জিতলেন জাবিপ্রবির তানভীর প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন কারিকুলামের পরিকল্পনা করছে সরকার দিনাজপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তরুনদের উদ্যোগে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বরিশালে শুরু ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ দোহাজারী ও ধোপাছড়িকে বাদ দিয়ে নতুন উপজেলা প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ দোহাজারী-সাঙ্গু থানা এলাকার বাসিন্দারা লালপুরে মাদক ও জুয়ার দৌরাত্ম্য, প্রতিরোধে মাঠে যুবসমাজ ‎মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৫,৬০০ লিটার অবৈধ সয়াবিন তেল জব্দ ‎ শার্শায় যুবদল নেতাকে অব্যাহতির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সেনবাগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান গোয়ালন্দে মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের উদ্যোগে ৫০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ জয়পুরহাটে ওয়ান শুটারগানসহ অস্ত্র উদ্ধার: পালিয়ে গেল ডাকাত দল গোয়ালন্দে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়ক আইলানার উঠে গেল যাত্রীবাহী বাস জয়পুরহাটে আখক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” শ্রীপুরে ৩ সন্তান রেখে প্রেমিকের বাড়িতে প্রবাসীর স্ত্রী, এলাকায় চাঞ্চল্য ঈশ্বরগঞ্জে ভরা মৌসুমেও দেশি মাছের আকাল

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে নিষেধাজ্ঞার পরও নির্বিচারে অবকাঠামো

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) মতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩ টি এলাকার (ইসিএ) একটি দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ইসিএ আইন মতে, এই দ্বীপে এমন কোন কাজ করা যাবে না যেখানে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি করে। এখানে কোন প্রকার অবকাঠামো নির্মাণও করা যাবে না। আর অবকাঠামো নিমার্ণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্রও দিতে পারেনা আইন মতে।

তার সাথে যুক্ত হয়েছে ২০২২ সালে সরকার ঘোষিত একটি প্রজ্ঞাপন। যে প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী এখানে ইট-সিমেন্ট আনাই নিষিদ্ধ। শুধু বাঁশ-কাঠ দিয়ে ইকো-ফ্রেন্ডলি অবকাঠামো করা যেতে পারে।

কিন্তু কে শুনে কার কথা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দ্বীপে একের পর এক অবকাঠামো তৈরি অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালে সেন্টমার্টিনে এক জরিপ শেষে এনভায়রনমেন্ট পিপল নামের একটি পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণ জানিয়েছিল, দ্বীপটিতে ছোট-বড় ১২৩টি আবাসিক হোটেল ও কটেজ ছিল। এর মধ্যে আড়াই ডজনের বেশি ছিল দুই ও তিনতলা পাকা ভবন। ৩ বছরের ব্যবধানে পর একই সংগঠন গত ডিসেম্বরে এক জরীপ চালিয়ে জানিয়েছে, যেখানে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ দাঁড়িয়েছে আড়াই শতাধিক। যেখানে গত ৩ বছরে নতুন করে তৈরি হয়েছে ১৩০টির বেশি অবকাঠামো।


এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘ইসিএ বা মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া কাগজের ফাইলে বন্দি একটি বিষয়। এখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসন আন্তরিক না। প্রকাশ্যেই টেকনাফ থেকে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে গিয়ে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোকজন এসব স্থাপনা বন্ধে মৌখিক নির্দেশ দিয়ে আসেন। অভিযান চালান। ক্ষেত্রে বিষয়ে মামলা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থাপনা নিমার্ণ বন্ধ হচ্ছে না।

গত ডিসেম্বরে যে অবস্থান দেখা গেছে এক মাসের ব্যবধানে তা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দ্বীপে ২০ টির বেশি স্থাপনা নিমার্ণাধীন রয়েছে।’

আর রাশেদুল মজিদের দেয়া তথ্যের সাথে মিলে যায় দ্বীপের সার্বিক পরিস্থিতি। যেখানে বর্তমানে অবাধে চলছে অবকাঠামো নির্মাণ। পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তদন্তে এরূপ ১২ টি স্থাপনা নিমার্ণের সত্যতাও মিলেছে। যার জের ধরে গত ২৫ জানুয়ারি সেন্টমার্টিনের নিমার্ণাধিন ১২ টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদি হয়ে টেকনাফ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ ও সরকারের আদেশ অমান্য করার দায়ে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলায় ১২ প্রতিষ্ঠান ও মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরা হল, ট্রফিকানা বিচ রিসোর্ট এর মালিক শেখ ফরহাদ, জলকুঠি রিসোর্টের মালিক ড. মমি আনসারি, দক্ষিণাহাওয়ার মালিক ফেরদৌস সাগর, আরণ্যক ইকো রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ খাইরুল আলম, মেঘনা বিচ ভিউ রিসোর্টের মালিক মোশারফ হোসেন, ডিঙ্গি ইকো রিসোর্টের মালিক মো. মোবাশ্বির চৌধুরী, জল কাব্য রিসোর্টের মালিক চপল কর্মকার ও চঞ্চল কর্মকার, গ্রীন বিচ রিসোর্টের মালিক আজিত উল্লাহ, সূর্য¯œানের মালিক ইমরান, সান্ড এন্ড সেন্ড টুইন বিচ রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজুল ফরহাদ, নোঙর বিচ রিসোর্টের মালিক সাজ্জাদ মাহমুদ, নীল হওয়ার মালিক আবদুল্লাহ মনির।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির বাদি হয়ে দায়ের করা মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনে লিপিবদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে।

মামলার বাদি পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা ফাইজুল কবির জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়ার পর এই ১২ প্রতিষ্ঠানের ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ ১২ টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দ্বীপে আরও অন্তত ১০ টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থাপনা নির্মাণে জড়িতদের দেয়া তথ্য বলছে, দ্বীপে সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার ৪-৫ টি স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। এসব স্থাপনা তৈরিকে পুঁজি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দ্বীপে নিয়ে যাচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী। আর সেই সিন্ডিকেট থেকে উচ্চ মূল্য সামগ্রী কিনে তৈরি হচ্ছে অন্যান্য স্থাপনাও। পুরো সিন্ডিকেটটি স্থানীয় চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। যদিও চেয়ারম্যান বলেছেন ‘কোনোভাবেই আমি এর সঙ্গে জড়িত না।’

Tag
আরও খবর