রায়পুরে শিক্ষা উপকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চৌদ্দগ্রাম কালেরকন্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, থানায় অভিযোগ নাগেশ্বরীতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কাউন্সিলিং অনুষ্ঠিত ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরার রাজকীয় মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন মামী বিয়ে করলেন ভাগনেকে, প্রবাস থেকে মামা দেশে ফিরে আত্মহত্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক অভিযান, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড জাল-নৌকা নিয়ে ঘাটে জেলেদের ভিড়, চলছে প্রকৃত জেলে শনাক্তের কার্যক্রম খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তি আক্কেলপুরে গলায় দড়ি দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্বাগত মিছিল লালপুরে আবারও গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার লালপুরে ১৬ বছরের কিশোরকে বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেফতার ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তি। লালপুরে পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩ দেওয়ানগঞ্জের সানারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে ধার করা টাকার বিরোধে যুবককে হত্যা, ৩ আসামি গ্রেফতার বাঘা উপজেলা প্রশাসনের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশের আরও ১০ জেলায় রেল সংযোগ চালু করা হবে : রেলমন্ত্রী শ্যামনগরে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা একনেকে ৫ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ৭০০৩ কোটি টাকা ক্ষেতলাল সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা

অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী শায়খুল হাদীস আল্লামা ফখরুদ্দীন রহ

অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী শায়খুল হাদীস আল্লামা ফখরুদ্দীন রহ 

আশরাফ হাসান 

পৃথিবীতে কিছু মহৎপ্রাণ মানুষ আগমন করেন যাদের পবিত্র হৃদয়স্পর্শে মনীষাপূর্ণ সাহচর্যে জ্ঞানপিপাসু মানুষ খুঁজে পায় আলোর মঞ্জিল, সত্য-সুন্দর পথের দিশা l তারা অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালেন, মূর্খপ্রাণে ঢেলে দেন অমৃত জ্ঞানের সুধা l  ইলমুল ওহীর শক্তিমত্তায় আর বোধসৌন্দর্যে শুধু নিজেকেই শোভিত করেন না, জ্ঞানপিপাসু হাজার হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত করেন জ্ঞানের মশাল, জাগিয়ে তুলেন মানবতার ঘুমিয়ে থাকা সত্তাকে l
এমনি এক ক্ষণজন্মা জ্ঞানসাধক, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হজরত মাওলানা ফখরুদ্দীন (রাহি.) l আমার জীবনে যে কজন প্রানপ্রিয় উস্তাদের সাহচর্য পেয়েছিলাম তন্মধ্যে আল্লামা ফখরুদ্দীন অন্যতম l আজ তার তালিম ও বিচক্ষণতাপূর্ণ শিক্ষাদানের সঞ্জীবনী চিত্র আমার হৃদয়পটে এতটুকু ম্লান হয়নি l আমার তৃষ্ণার্ত প্রাণের শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে l চলার পথে বেদিশা হলেই পরম শ্রদ্ধাভাজন এ শিক্ষকের উপদেশ যেন সুরক্ষা বাঁধের মতো পথ আগলে দাঁড়ায় l

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অন্যতম ছাত্রনন্দিত অধ্যাপক ছিলেন মাওলানা ফখরুদ্দীন l খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও সুযোগ্য শিক্ষক হিসেবে তিনি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়েছিলেন l বন্ধুসুলভ আচরণের অধিকারী আমাদের প্রিয় এ শিক্ষক সম্ভবত নব্বই দশকের প্রথম দিকে মাদ্রাসায় জয়েন করেন l ক্লাসে তার অসাধারণ উপস্থাপনভঙ্গি, গভীর জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষণ সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতো l আমার খুব কাছে থেকে তাকে দেখার এবং খেদমত করার সৌভাগ্য হয়েছে l ফাজিল ক্লাসে তার কাছ থেকে  তাফসীর-হাদিসের পাঠ গ্রহণ করেছি l একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষকের সকল গুণাবলী তার মধ্যে বিদ্যমান  ছিল l দীর্ঘদিন তার কাছে কোচিং ক্লাস করেছি l আরবি সাহিত্যে ঈর্ষণীয় পান্ডিত্য দেখেছি, যখন এ বিষয়ে তার কাছে প্রাইভেট পড়তাম l 

ফাজিলে আলমুন্তাখাবুল আরাবীর প্রশ্নোত্তর তিনি নিজ উচ্চমার্গিয় ভাষায় আমাকে বুঝিয়ে দিতেন এবং আমি নোট করতাম l আদব, ফাসাহাত-বালাগাত-এ সত্যি তার অসামান্য দখল ছিল l পড়ার ফাঁকে ফাঁকে চমৎকার আরবি প্রবাদ ও শিক্ষামূলক উপদেশ আমাকে প্রাণময় করে রাখতো l ব্যক্তিগত অনেক গল্পও করতেন l তখন তিনি মাদ্রাসার কোয়ার্টারে থাকতেন এবং খুব সম্ভব ভাইস প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করছিলেন l কিছুদিন পর প্রিন্সিপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন l যেহেতু আমি ভোরে তার কাছে পড়তে আসতাম তাই আমাকে ছুটি দিয়ে তিনি ক্লাসে চলে যেতেন l আমি এ সময় ফাজিল ক্লাসে ইংরেজি ঐচ্ছিক বিষয় নিয়েছিলাম এবং সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার এক সময়ের ইংরেজির জনপ্রিয় শিক্ষক হায়াতুল ইসলাম আকুঞ্জী স্যারের কাছে (পরে সিলেট সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ) ক্লাস করতাম l এসব দেখে শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদ ফখরুদ্দীন কৌতুক করে আমার সহপাঠীদের বলতেন - ' এ ইংরাজি  শিখছে - এ লন্ডন যাইব l'

আমার মরহুম মুহতারাম পিতা সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদিস মাওলানা সাইদুল হাসান রিটায়ার্ড করার পর তিনি জয়েন করেন। কিন্তু আব্বার সাথে তার ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল l আমাকে বলতেন - 'তুমি তো সাইদুল হাসান সাহেবের এগবারে সর্বশেষ সাহেবজাদা, এগবারে বেশি মায়ার ছেলে l' 

তার কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় আমি মাঝে-মধ্যে জ্বরে আক্রান্ত হতাম l কিন্তু অসুস্থতা নিয়েও ক্লাসে আসতাম l কারণ তার হৃদয়গ্রাহী ও আকর্ষণীয় পাঠদানের লোভ সামলাতে পারতাম না l আমি সাধারণত হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ভক্ত l আলাপ প্রসঙ্গে আমি জ্বরের জন্য হোমিও ঔষধ সেবন করি কারণ এলোপ্যাথিক ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বেশি ও পাওয়ারফুল একথা বললে জনাব বলতেন, 'এলোপ্যাথিক ঔষধ খাইয়া তাড়াতাড়ি সুস্থ ০অইজিবাগৈ...পাওয়ারফুল কিতাগৈ l' তার কথায় একধরণের সততাপূর্ণ কৌতুক মেশানো ছিল যা আমাকে মানসিকভাবে আপ্লুত করতো l

ছাত্রদের সাথে তার আচরণ ছিল অনেকটা বন্ধুভাবাপান্ন l হাস্যকৌতুক ছিল তার একটা অপূর্ব কৌশল যার মাধ্যমে তিনি সহজেই শাসন ও আনন্দদান এ দুটোর মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন l এ কারণে তার কোনো কথায় কেউ বিরক্তিবোধ করতো না l  আমাকে পড়ানোর  সময় শ্রদ্ধ্বেয় জনাব প্রায়ই বলতেন যে, তার নামের সাথে মিল আছে এমন একজন প্রিয় ছাত্র খুবই মেধাবী l একইসাথে মাদ্রাসা ও ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে। অথচ তিনি অন্য কোনো শিক্ষার্থীর ব্যাপারে একই সাথে মাদ্রাসা ও কলেজে পড়া পছন্দ করতেন না l এ ঘটনা থেকে হয়তো তিনি এটাই বুঝাতে চাইতেন- অসাধারণ মেধাবী ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই সঙ্গে কৃতিত্ব অর্জন করতে পারবে না l বলতে দ্বিধা নেই, তার দূরদর্শী চিন্তা অত্যন্ত প্রখর ছিলো l হাদিসের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনা তন্ময় হয়ে শুনতো l আমাকে পড়ানোর সময় তিনি আরেকটি বিষয়ে সব সময় উপদেশ দিতেন l আরবি একটি শ্লোক পাঠ করে বলতেন- যে স্থান থেকে যে জিনিস কাজের জন্য সরিয়ে নিবে, কাজ শেষ করে তা যথাস্থানে আবার যেন রাখতে ভুল না হয় l কী গভীর প্রজ্ঞাসুলভ নির্দেশনা l তার কার্যকালীন সময়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানোন্নয়নে তিনি বিশেষ নজর দিতেন l ক্লাসের পাঠ ছাড়াও ব্যক্তিগত আচার-ব্যবহার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে তাকিদ দিতেন l শরীয়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা, দ্বীনি দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক অকাট্যতা বিষয়ে কঠোরতা তার আলোচনা থেকে পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠতো l আদব-আখলাকে সর্বদা বিনম্র ও সততার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে গুরুত্ব প্রদান করতেন l মাওলানা ফখরুদ্দিন রাহিমাহুল্লাহর এরকম ব্যতিক্রমী গুণাবলী বিদ্যমান ছিল যা শিক্ষার্থীদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করতো l
তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজ এরকম  উস্তাদ ও শিক্ষাবিদের অভাব খুব বেশি অনুভব করছি l তার মতো নিষ্ঠা ও খুলুসিয়ত কিংবা আন্তরিকতার উদাহরণ আজকাল বেশি পরিলক্ষিত হয় না l সততা ও নিঃস্বার্থ শিক্ষা দান, দ্বীনের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হাতে মানবতার সেবায় তিনি যে অবদান রেখেছেন ; অসংখ্য আলেম তৈরির মধ্য দিয়ে যে খেদমত আঞ্জাম দিয়ে গেছেন তা আমাদের অন্তঃকরণে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে l
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার দ্বীনের সকল খেদমত কবুল করে নিন এবং তাকে জান্নাতের উঁচু মাকামে দাখিল করুন - আমীন l


লেখক :
কবি-প্রাবন্ধিক 
শিক্ষক- ম্যানহাটান বাংলা-সাংস্কৃতিক স্কুল,
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।

আরও খবর