টাঙ্গাইলের মধুপুরের কৃতি সন্তান আমাদের মধুপুরের শিশু শিক্ষা বিস্তারের অগ্রগামী ভূমিকায় ছিল অধ্যাপক. আব্দুল আজিজ। মূল পরিচয় ধনবাড়ী আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। যে পদ থেকে ৩৩ বছরের কর্ম জীবনের অবসান হলো। ১৯৯১ সালে যোগ দিয়ে তিন দশক পর আজ ৩০ এপ্রিল ছিল তাঁর শেষ কর্ম দিবস ।
এ দিবসে এসে আমার এ প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতির নষ্টালজিয়ায় ভাসছি। প্রিয় আব্দুল আজিজ স্যার অধ্যাপনার শুরুর আগে শিশু শিক্ষায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। ১৯৮৬ সাল থেকে মধুপুর শহরে জাতীয় শিশু সংগঠন মুকুল ফৌজের পরিচালনায় চালু হয় মুকুল একাডেমী। আমরা ছিলাম প্রথম ব্যাচের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি শেষে তিনি ৯০ দশকের শেষ প্রান্তিকে আমাদের এ শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করেন। অল্প দিনেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে মধুপুরের আধুনিক শিশু শিক্ষার অগ্রণী প্রতিষ্ঠান মুকুল একাডিমীকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়। তরুণ এক ঝাঁক পরিশ্রমী শিক্ষকদের সহায়তায় একে একে তিন বার জেলায় পর্যায়ে সর্বোচ্চ বৃত্তি প্রাপ্ত শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব ছিনিয়ে আনেন। শিক্ষার মানোন্নয়নেরর সাথে তাঁর নেতৃত্বে মুকুল একাডেমী বিস্তৃত হয় এবং অবকাঠামোর অভূতপূর্ব উন্নয়নও ঘটে। মধুপুর ও তার আশপাশের সর্বত্র কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার ধারণা পাল্টে দেয় মুকুল একাডেমী। এই মুকুল একাডেমীকে অনুসরণ করে গড়ে উঠে আরও অনেক কিন্ডার গার্টেন। এক সময় এই আজিজ স্যারের নেতৃত্বে কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় মধুপুর কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন।
১৯৯১ সালে কলেজে যোগদানের পরের বছর তৎকালীন আলোচিত জাতীয় দৈনিক জনকন্ঠে সংবাদ লেখার মাধ্যেমে আজিজ স্যার শুরু করেন সাংবাদিকতা। সেই সুবাদে তিনি মধুপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পরে দুইবার সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি এখন ভোরের কাগজের মধুপুর প্রতিনিধি ছাড়াও মধুপুর থেকে সদ্য যাত্রা করা সাপ্তাহিক আলোকিত মধুপুর নামে কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক।
শিক্ষা, সামাজিক, ধর্মীয়সহ নানা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত এ শিক্ষাবিদ ১৯৬৪ সালের ১ মে মধুপুর উপজেলার বর্তমানে বিখ্যাত হলুদিয়া গ্রামের ধনাঢ্য কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আলহাজ জোয়াহের আলী বেশ কয়েক বছর হলো প্রয়াত হয়েছেন। তিনি মধুপুর শহীদ স্মৃতি থেকে এসএসসি ও মধুপুর কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে ১৯৮৪ তে স্নাতক( সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে স্নাতকোত্তর শেষে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে এর আগে আইন পেশায় প্রবেশের ইচ্ছায় ১৯৮৭ সালে এলএলবিতে ভর্তি হয়ে পূর্বভাগ সমাপ্ত করে আর শেষ করেননি।
এমন কর্মময় গুণী মানুষটি মাঝে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে কঠিন শঙ্কাময় অবস্থা পার করেছেন। এখন ইনশিআল্লাহ অনেক সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। আজ ৩০ এপ্রিল ধনবাড়ী আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজে তার শেষ কর্ম দিবস ছিল। এ দিনে তার প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা। সুস্থ্য থাকুন, সুন্দর থাকুন-প্রিয় স্যার। তথ্য সূত্র-এসএম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক, মধুপুর প্রেসক্লাব।
৩ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে