লালপুরে মসজিদের ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়।।
লালপুরে মসজিদের ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়।।
আবু তালেব, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুরে দীর্ঘ ৪০ বছর মসজিদে ইমামতি ও খতিব হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করায় মাওলানা মো: জিল্লুর রহমান নামে ৭০ বছরের এক ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিয়েছেন গোসাইপুর মিল্কীপাড়ার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লীরা। দীঘা উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকতার চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন সেই অনেকদিন আগে। এখন আবার মসজিদের ইমামতি থেকে।
উপজেলার গোসাইপুর মিল্কীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জিল্লুর রহমানকে নানা আয়োজন ও রাজকীয় সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়েছে। একটানা ৪০ বছর এলাকার বড় একটি মসজিদে ইমামতি করার পর মুসল্লিদের এমন ভালোবাসায় সম্মানিত হয়ে আনন্দ এবং খুশিতে কেঁদে ফেলেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালপুর উপজেলার ইতিহাসে একজন মসজিদের ইমাম সাহেবকে এমন রাজকীয় বিদায় এই প্রথম বলেও জানান স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল ) দুপুরে উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের গোসাইপুর মিল্কীপাড়া গ্রামে সকাল থেকেই মসজিদের ইমাম সাহেবকে বিদায় দেওয়ার নানা আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন এলাকাবাসী। রংবে রঙের ফুল আর বেলুন দিয়ে সাজানো হয় ঘোড়ার গাড়ি।
ঘোড়ার গাড়িতে ওঠার আগে শেষবারের মতো উপস্থিত মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে নিজের ভুল ত্রুটির ক্ষমা চান তিনি। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে উপজেলার নিজ গ্রামে আড়বাবে ইমামের বাড়িতে তাকে নিয়ে যান এলাকাবাসী।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ করেন- প্রধান অতিথি চংধুপইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, বিশেষ অতিথি সাবেক চেয়ারম্যান আবু আল বেলাল, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাষ্টার, আলহাজ্ব নিজামুদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল বারী, বাংলাদেশবেলা সম্পাদক জামিরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক ইউ পি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, ইউ পি সদস্য ওয়াসিম , আকরাম হোসেন , ইখতেখারুল আলম, রবিউল ইসলাম, সোলাইমান হোসেন, টিপু সুলতান, ইঞ্জিনিয়ার সাফিনুর রহমান পল্লব, খোশবার আলী, ইকবাল হোসেন, হাফেজ হাফিজুর রহমান, হাফেজ ইয়াছিন আলী, প্রমুখ।
বিদায়ী ইমাম মাওলানা জিল্লুর রহমান বলেন , বিগত ১৯৮৫ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করে আসছি। ৪০বছরের বিদায় বেলায় এত ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়ায় আমি সত্যিই মুগ্ধ।
মাওলানা জিল্লুর রহমান তার বিদায়ী বক্তব্যে এ আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি আমার সারা জীবন দ্বীনের সেবায় কাটিয়েছি। এই এলাকার মানুষকে কুরআন শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছি। আমার অনেক বয়স হয়েছে, যে কোনো সময় আপনাদের ছেড়ে পরকালে যেতে হবে, তাই সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন
মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য বেদনার। কেননা আত্মার আত্মীয়কে বিদায় দিচ্ছি, যিনি দীর্ঘ ৪৪ বছর দ্বীনি শিক্ষায় আমাদের আলোকিত করেছেন। দীর্ঘদিনের যার পেছনে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এসময় উপস্থিত অনেকের চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ বেলার সম্পাদক জামিরুল ইসলাম বলেন, ঘোড়া গাড়ী এমন রাজকীয় বিদায় অত্র এলাকার মানুষের ইমামকে ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে । তিনি এবছর হজ্ব যাচ্ছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন উনার হজ্ব কবুল করেন ।
এর আগে সকালে মসজিদের বিদায়ী ইমাম মাওলানা জিল্লুর রহমানের হাতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নগদ টাকা তুলে দেন মুসল্লিরা। এছাড়াও শত শত মুসল্লির উপস্থিতে ঘোড়ার গাড়িতে ওঠানো হয় ইমামকে। সামনে-পেছনে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ইসলামের বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে ইমাম সাহেবকে আড়বাবে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসা হয়।