কোটা ইস্যুতে রোববার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি, আশা করি সমাধান আসবে কারফিউয়ের সময়সীমা আরো বাড়ল কারফিউ প্রত্যাহার দাবি বিএনপির, আমির খসরু আটক কোটা আন্দোলনে কারফিউয়ের দিনেও ঢাকাতে ১০ জনের মৃত্যু বাংলাদেশের ছাত্রদের প্রতি সংহতি পশ্চিমবঙ্গে কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার চট্টগ্রাম ও রাজশাহী শহরের পরিস্থিতি নরসিংদীর কারাগারে হামলার পর পালিয়েছে আট শতাধিক আসামী শনিবার ঢাকায় কারফিউ-র যে চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দুই বিদেশ সফর বাতিল বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান আটক সরকারের কাছে 'আট দফা দাবি' কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের: ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি চলবে নুরুল হক নুরকে আটক করা হয়েছে নাহিদ ইসলাম এখন কোথায়? হাইকোর্টের রায় বাতিল চাইবে রাষ্ট্রপক্ষ: অ্যাটর্নি জেনারেল শনিবার সহিংসতায় মৃত্যু হয়েছে আরো অন্তত সাত জনের কখন ফিরবে ইন্টারনেট সংযোগ - কেউ জানে না রোববার ও সোমবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা কারফিউ দিনে ঢাকায় যে চিত্র দেখা গেছে সাতক্ষীরায় ছাত্রদল নেতার ইন্ধনে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা!

মেয়াদ উত্তীর্ণ শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির অচলাবস্থা নিরসনে মতবিনিময় সভা

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন আর কত দূরে প্রশ্ন সাধারণ ব্যবসায়ীদের


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির মেয়াদোত্তীর্ণ কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙে দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন শহরের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। 

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সদস্যবৃন্দ এর আয়োজনে বুধবার (১২ জুন) বিকেল ৪টায় শহরের স্থানীয় এক মিলনায়তনে 'মেয়াদ উত্তীর্ণ শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির অচলাবস্থা নিরসনে' অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সদস্যরা এ দাবি জানান। 

সভায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বিধি অনুযায়ী সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি গঠনে কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন না হওয়ায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে এ সংগঠন। ফলে ব্যবসায়ী সমিতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। সমিতির শৃঙ্খলা ফেরাতে ও পরিচালনা কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা। 

মতবিনিময় সভায় শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সদস্যবৃন্দের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে শহরের ব্যবসায়ী শাহিন আহমেদ বলেন, আজকে আমরা সমিতির সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত হয়েছি একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। আমরা আমাদের মতামত প্রদান করতে পারছি না এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও আমরা আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারছি না। বিভিন্ন টালবাহানায় সমিতির নির্বাচনকে বিলম্বিত করা হচ্ছে। সাধারণ সদস্যদের সাথে কোনো প্রকার আলাপ আলোচনা না করে এবং মতামত গ্রহণ না করে ইচ্ছে মাফিক সমিতির কার্যক্রম চলছে। এখানে কারো কোনো প্রকার দায়বদ্ধতা নেই এবং জবাবদিহিতাও নেই। কাগজে কলমে সমিতি এক বছর পেছনে পড়ে আছে। উদাহরণ দিয়ে বলি এখন যদি কোনো ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য হন তাহলে উনার সদস্যপদের মেয়াদ গত বছর জুন ২০২৩ ইংরেজি পর্যন্ত। এখন সব তুঘলকি কাজ কারবার চলছে সমিতির কার্যক্রমে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন হতাশাগ্রস্ত। সামগ্রিক কোনো সুবিধা সাধারণ ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না। ফলে দিন দিন সমিতির সদস্য সংখ্যা কমছে। সমিতি এখন নামসর্বস্ব অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আমাদের চুপচাপ বসে থাকলে চলবে না। সমিতি মালিক সাধারণ ব্যবসায়ী সদস্যরা। একে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সবার। আর এই দ্বায়িত্ব বোধের জন্য আমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে। সবাইকে মাঠে নামতে হবে এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। সমিতির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আমরা জানিয়ে দিতে চাই আমরা আর কোনো প্রকার টালবাহানা সহ্য করবো না। আগামী এক মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে, সমিতির সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সমিতির প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে। সমিতির সদস্যদের প্রতিনিধি বাছাই করার সুযোগ দিতে হবে। নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। কোরবানি ঈদের পর আমাদের দাবি আদায়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ যেমন-লিফলেট বিতরণ, মানববন্ধন, সদস্যদের স্বাক্ষর গ্রহণ করে নিবার্চনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমরা আবেদন করবো। ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করে সমিতির কার্যক্রমকে আরো বেগবান করবো। সকল প্রকার অনিয়ম দূর করে সমিতিকে সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠিত করবো। আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করা হলে সমিতির সদস্যরা সাধারণ সভা করে সমিতির কল্যাণের স্বার্থে সাংগঠনিক নিয়মমাফিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন।

ব্যবসায়ী ফখরুল আহমেদ এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন, ব্যবসায়ী রুবেল শিকদার, মোহাম্মদ আলী লিটন, মোঃ বেলাল আহমদ, মোঃ এনামুল হক, মোঃ হেলাল উদ্দীন ভুইয়া, মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ প্রমুখ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এএসএম ইয়াহিয়া জানান, সমিতির কমিটির মেয়াদ ৩ বছরের জন্য ছিল। এখন কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ এটা সত্য মেয়াদের বাইরে আরও কয়েক বছর চলে গেছে, আমরা নির্বাচন দিতে পারিনি, এটা আমাদের জন্যও লজ্জার। করোনাকালের কারণেও নির্বাচন দিতে পারিনি। আর আমরা তফসিল ঘোষণা করে নতুন নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কমিটিও করেছিলাম, তারাও কার্যক্রম বেশিদূর আগাতে পারেননি। তবে আমরা খুব শিগগির নির্বাচন দেবো। আমরা সমিতির রেজিস্ট্রেশনের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে রেখেছি। নিবন্ধনের অনুমোদন এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুমোদন পেয়ে যাবো। অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথেই  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কার্যক্রম চালাতে পারবো।

প্রসঙ্গত, তিন বছর মেয়াদী শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন ২০১৭ সালের ২৪ মে অনুষ্ঠিত হয়।


Tag