ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পৌঁছেছেন পুতিন, যাচ্ছেন না তারেক রহমান সামান্য সঞ্চয়ের পর মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকা সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা ও সৎ নেতৃত্ব বাড়লে অন্যায়-অবিচার স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে -আব্দুল খালেক নিয়ামতপুরে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন যুবসমাজ মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ঝিনাইগাতীর পাইকুড়া এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন ‎সুন্দরবনে বনরক্ষীদের অভিযানে হরিণ শিকারের বিশাল ফাঁদ ও ট্রলার জব্দ প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চান বলেই আওয়ামী লীগের মিছিল: সারজিস আলম পদ্মা ব্যারেজ হলে ২৪ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী লোহাগাড়ায় ২ হাজার ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার গোয়ালন্দে ৪'শ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ওষুধ বিতরণ কর দেন, ভোটও দেন—তবু নাগরিক সেবাবঞ্চিত যশোর সিটি কলেজপাড়াবাসী *কক্সবাজারে মাদক মামলার ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার* রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.এফ.এম আমান উল্লাহ ছাত্রদলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ গোয়ালন্দে পাচারকালে সরকারি সার আটকের অভিযোগ, সন্ত্রাসী কায়দায় ছাড় নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন অষ্টম শ্রেণি চ্যাম্পিয়ন, সপ্তম শ্রেণি রানার্সআপ চট্টগ্রামে ট্যাংক দুর্ঘটনা পিয়াসের শেষ বিদায়ে কাঁদল মালিপাড়া, বাবাহারা ছোট্ট মেয়ে কালিগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের দল গঠনে বাছাই প্রতিযোগিতা কালিগঞ্জের নলতায় ইজিবাইক পরিবহন মালিক সমবায় সমিতির কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা যশোরে এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন: শহরে আনন্দ মিছিল

কোটা সংস্কার চাই | মোহাম্মদ আল আমীন

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং টক অব দা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে 'কোটা-বিরোধী আন্দোলন'। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই আন্দোলনে কোটা-প্রথার যৌক্তিক সমাধান চাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের উপরিমহল চলমান এ-আন্দোলনে যে ভাবনায় আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আসুন জেনে নেয়া যাক কোটা কী, কেন এই আন্দোলন এবং এর যৌক্তিকতাই বা কতোটুকু। 


সরকারি চাকরিতে অনগ্রসর ও তুলনামূলক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সম্মুখসারিতে নিয়ে আসার জন্য পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কমবেশি কোটার প্রচলন আছে। বাংলাদেশে কোটা ব্যবস্থার সূচনা হয় ১৯৭২ সালে। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার চালু করেন। সেসময় সরকারি চাকরিতে ৪০ শতাংশ জেলা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং শুধু ২০ শতাংশ নিয়োগ দেওয়া হতো মেধার ভিত্তিতে। 


পৃথিবীর কোনো দেশেই কোটা চিরস্থায়ী কোনো পদ্ধতি না। এটি প্রয়োজন অনুসারে বারবার সংস্কার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, সরকার 'ক' নামক জেলাকে ১৯৭২ সালে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন, কিন্তু ৫৪ বছর পর আজকে সে জেলা উন্নত হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন সংস্করণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোন জেলা শিক্ষা-দীক্ষা, বাসস্থান, মৌলিক চাহিদায় পিছিয়ে রয়েছে তা পুনরায় সরকারকে ভাবতে হবে।


সরকারি চাকরিতে মাত্রাতিরিক্ত কোটাব্যবস্থার প্রতিবাদে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'কোটা সংস্কার আন্দোলন'। আন্দোলনকারীরা কখনোই কোটা বাতিলের পক্ষে ছিলেন না। তারপরেও সরকার সব ধরনের কোটাকে বাতিল করে পরিপত্র জারি করে। ২০২৪ সালে এসে কোনো একজনেন রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জুন হাইকোর্ট সেই পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করে। ফলে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ রেখে মোট ৫৬ শতাংশই কোটার ভিত্তিতে এবং বাকি ৪৪ শতাংশ রাখা হয় সাধারণ মেধাবীদের জন্য। 


যে বৈষম্যের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের হাত থেকে আমাদের স্বাধীনতা লাভ, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও এই বৈষম্য পুরোপুরি অযৌক্তিক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল রাখলেও 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের' ব্যানারে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করছে। ১৮ সালের পরিপত্রে শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করা হয়, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সকল গ্রেডে কোটা বাতিল করে নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ থেকে আইন পাশ করানোর কথা বলছে, যাতে পরবর্তীতে কেউ রিট করলেও হাইকোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করতে না পারে। তবে ১৮ সালের মতো কোটা বাতিলের ফাঁদে পড়তে চায় না সাধারণ শিক্ষার্থী। কোটা বাতিল নয় বরং সংবিধান অনুযায়ী পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য তা-যৌক্তিক মাত্রায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই তা ৫ শতাংশের বেশি নয়। সরকার কাকে কত শতাংশ কোটা দিবে সে বিষয়ে কমিশন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা দ্রুত সরকার তাদের দাবি অনুযায়ী আইন পাশ করবে এবং মেধাভিত্তিক দুর্নীতিমুক্ত যোগ্য আমলার মাধ্যমে সরকারের যে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' ভিশন, সেদিকে আরও একধাপ অগ্রসর হবে। 





মোহাম্মদ আল আমীন 

শিক্ষার্থী, অনার্স ৩য় বর্ষ, বাংলা বিভাগ। 

হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও খবর