উপজেলায় বেড়েছে বাল্যবিবাহ ও ভুয়া কাজীর দৌরাত্ম বেড়েছে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আইন ও নীতিমালা ভঙ্গ করে একাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক একইসঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ১০ বছর যাবত পৌরসভার ১ ও ৭ নং ওয়ার্ডে নেই কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার। একই সাথে উপজেলায় বেড়েছে বাল্য বিবাহ ও ভুয়া কাজীর দৌরাত্ম।
এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একইসঙ্গে আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও উপজেলায় এমন ৩ জন নিকাহ রেজিস্ট্রারের তথ্য পাওয়া গেছে যারা একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক।
এছাড়া সরকার কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার না হয়েও ভুয়া কাজী সেজে নকল বালাম তৈরির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭০টি বিয়ে রেজিস্ট্রি ও ৫টি বাল্যবিবাহ সম্পাদন করছেন এমপিওভুক্ত মাদরাসার এক কেরানি।
আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে নিয়োগপ্রাপ্ত কাজীদের সহকারী হয়ে বালাম বই সংগ্রহ করে অনেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাল্যবিবাহসহ শতাধিক বিবাহ নিবন্ধন করছেন।
বিবাহ নিবন্ধন নীতিমালায় বলা আছে সবেতনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাইরে কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার সরকারি চাকরি বা আর্থিক লাভজনক কোনো কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না। কিন্তু উপজেলার নিকাহ রেজিস্ট্রারেরা এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজীদের দায়িত্ব পালনের তথ্য মিলেছে।
জানা যায়, প্রথম শ্রেণির শ্রীমঙ্গল পৌরসভার দুইটি ওয়ার্ড এবং একটি ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৩জন শিক্ষক। এরমধ্যে ১ জন এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ২ জন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক।
শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডের উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ আব্দুল মালেক ২০০৪ সাল থেকে ৪ নং সিন্দুরখান ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে নিকাহ নিবন্ধন আইন বলছে নিকাহ রেজিষ্ট্রারের লাইসেন্স পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং থাকতে হবে এলাকায়। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থাকেন পৌর এলাকায়। এই কাজ একদিকে যেমন আইনের লঙ্ঘন তেমনি অন্যদিকে সেবা প্রত্যাশীরাও পাচ্ছেন না সেবা। এদিকে নিকাহ ও তালাক নিবন্ধনে যথাসময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবার কথাও বলেছেন অনেকে। দিন-দুপুর বেলায় সাধারণত অধিকাংশ বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই সময় মাঝেমধ্যে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিয়ে পড়ানোর অভিযোগও রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সিন্দুরখান ইউনিয়নের ডুবাগাঁও বাহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক কাজী মুহিবুর রহমান ২০০৪ সাল থেকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন। ওই শিক্ষক ডুবাগাঁও মাদ্রাসার ইবতেদায়ী কারী পদে ১৯৮২ সালে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তথ্য গোপন করে তিনি ২০০৪ সালে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদও ভাগিয়ে নেন। ওই কাজী পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স পেলেও নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন সিন্দুরখান ইউনিয়নের মন্দিরগাঁও এলাকায়। এছাড়া দুপুর বেলায় সাধারণত অধিকাংশ বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই সময় মাঝেমধ্যে মাদরাসার ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিয়ে পড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে ওই কাজীর বিরুদ্ধে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না জানতে চাইলে কাজী আব্দুল মালেক বলেন, আমি যখন চাকরি নেই তখন এই বিধি ছিল না। আপনি পৌরসভায় চাকরি করেন, আর কাজীর দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়নে এটা কি নীতি ভঙ্গ নয় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন
আমি আরও আগেই চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম, স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আরও কিছুদিন আছি। আমি দেশের বাইরে চলে যাবো, প্রসেসিং চলছে।
এবিষয়ে উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানি দাশ বলেন, শুনেছি আব্দুল মালেক সাহেব নিকাহ কাজীও। নীতিমালার আলোকে তিনি আর্থিক লাভজনক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন কিনা প্রশ্ন করলে প্রধান শিক্ষক বলেন আমার স্কুল এমপিওভূক্ত হলেও সরকারি তো না। বিবাহ নিবন্ধন নীতিমালার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন কিনা প্রশ্ন করলে কাজী মুহিবুর রহমান বলেন, শুধু আমি কেনো পুরো জেলায় আমার মতো ৫০/৬০জন কাজী আছেন। আপনি তো পৌরসভার কাজী, কিন্তু কর্মস্থল ইউনিয়নে এবিষয়টি কি সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ নয় প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ওই কাজী ১৯৮২ সাল থেকে এপিওভূক্ত শিক্ষক। কিন্তু তথ্য গোপন করে ২০০৪ সালে নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স নেন। যা সুস্পষ্ট আইন লঙ্ঘন।
বাহরুল উলুম ডুবাগাঁও মাদরাসার প্রিন্সিপাল সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, আমি কাজী মুহিবুর রহমানকে অনেকবার মৌখিকভাবে বলেছি যে, আপনি এমপিএভুক্ত শিক্ষক, নিকাহ রেজিস্ট্রার আইন বা এমপিও নীতিমালা ভঙ্গ হয় এমন কিছু করবেন নাা।
এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নিকাহ রেজিস্ট্রারেরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেদারছে বিবাহ নিবন্ধন করছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে একজনের নামে লাইসেন্স হলেও নিবন্ধনপ্রাপ্ত কাজীরা অনেকের কাছে নকল বালাম বই দিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাইরে গিয়েও দেদারছে বিবাহ নিবন্ধন করিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
তথ্য পাওয়া গেছে মৌলভীবাজার শহরের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও একজ কাজী দায়িত্ব পালন করছেন শ্রীমঙ্গলের একটি ইউনিয়নে।
দীর্ঘদির অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা হয়েও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক কাজী। এছাড়া সিন্দুরখান, মির্জাপুর, সাতগাঁও, আশিদ্রোন ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়
ভুয়া কাজী সেজে অনেকে নকল বালাম বই সংগ্রহ করে বাল্যবিবাহ করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ডুবাগাঁও দাখিল মাদরাসার এমপিএভূক্ত কেরানি জয়নাল আবেদিন বৈধ কাজী না হয়েও কাজী সেজে ভুয়া সিল স্বাক্ষর নকল করে অবৈধভাবে ৭০টি বিবাহ নিবন্ধন ও ৫টি বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রি করেন। পরে তিনি নোটারি পাবলিক মৌলভীবাজার এর মাধ্যমে ভুল স্বীকারোক্তিও করেন।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ১ ও ৭ নং ওয়ার্ডের কাজী আব্দুল হক ২০১৪ সালে উপজেলার ছাবুরা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কাজী আব্দুল হক সরকারি চাকরিতে যোগদান করায় তিনি অনেক বছর আগেই নিকাহ রেজিস্ট্রার থেকে ইস্তফার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে দরখাস্ত জমা দেন। কিন্তু ৯ বছর পার হলেও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডকে শূন্য ঘোষণা করে এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি কাউকে। এরপর থেকে অদ্যাবধি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর যাবত শ্রীমঙ্গল প্রথম শ্রেণির পৌরসভার ১ ও ৭ নং ওয়ার্ডে কাজী না থাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডবাসী দীর্ঘদিন ধরে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম চালাতে ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল হক বলেন, পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ড দীর্ঘদিন থেকে শূন্য আছে। আমি অনেক আগেই কাজী পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলকাছ মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ডের কাজী আব্দুল হক ৮/৯ বছর আগেই সরকারি চাকরিতে জয়েন করেন। ওয়ার্ডে কাজী পদটি শূন্য থাকায় আমি কয়েক বছর আগেই উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি নতুন কাজী নিয়োগ দেয়ার জন্য। কিন্তু এখনও কেনো নিয়োগ হচ্ছে না আমার জানা নেই।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার এসএম সোহেল রানা জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাজী আব্দুল হক সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন তা ঠিক, অব্যাহতির আবেদন দিয়েছেন এটাও সঠিক। কিন্তু চাইলেই মিনি অব্যাহতি নিতে পারেন না। অব্যাহতির বিষয়টি এখন পেন্ডিংয়ে আছে। আর ওয়ার্ড শূন্য ঘোষণা করতে হয় মন্ত্রণালয় থেকে। কাজী আব্দুল হকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করে ওয়ার্ড শূন্য ঘোষণা করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আমি ২০২৩ সালের ৩০ মে আইন ও বিচার-৭ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছি। এখনও চিঠির রিপ্লে আসেনি।
শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর ১১.১০ (ক) কোনো ব্যক্তি বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীগণ একই সাথে একাধিক পদে চাকুরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা ও এমপিও কাঠামো ২০২০ সালের সংশোধিত বিধিতে বলা আছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একইসঙ্গে একাধিক পদে চাকরিতে কিংবা কোনো আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে তার মাদরাসা এমপিও বাতিল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিলীপ কুমার বর্ধন বলেন, এমপিভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যারা কাজীর দায়িত্ব পালন করেন তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। আমি মৌখিকভাবে জেলা শিক্ষা অফিসারকেও জানিয়েছি।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি ২০ মোতাবেক বলা হয়েছে, কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার তাহাকে যে এলাকার জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হইয়াছে, সেই এলাকা বা উক্ত এলাকার সংলগ্ন কোন ওয়ার্ড, পৌরসভা বা ইউনিয়নের কোন মসজিদ অথবা বেসরকারি স্কুল, কলেজ অথবা বেসরকারি মাদরাসা ব্যতীত অন্য কোথাও চাকরি করিতে পারিবেন না।
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ধারা ২ ও পেনাল কোড এর ধারা ২১ এর উপধারা ১২ (ক) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্তব্য সম্পাদনের জন্য সরকারের চাকুরিতে বেতনভোগী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন ফি অথবা কমিশন আকারে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন’ সেও সরকারি কর্মচারী রূপে গণ্য হবেন। সে হিসেবে একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি কর্মচারী, একই বিধান মোতাবেক কমিশন আকারে পারিশ্রমিক গ্রহণ করায় নিকাহ রেজিস্ট্রার পদও সরকারি কর্মচারী হিসাবে গণ্য। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী সরকারের দুই পদে দায়িত্ব পালন করার অপরাধ অর্থ আত্মসাতের সামিল।
গত ৬ জানুয়ারি ২০২০ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রাররা একইসঙ্গে সরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার তার নিজ অধিক্ষেত্রের বাইরে কোনো সরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে বা অন্য কোনো পদে চাকরি করলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসব বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার এস এম সোহেল রানা মিলন বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে যেই ওয়ার্ডের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে সেই ওয়ার্ডের বেসরকারি চাকরি করতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাইরে সবেতনে একসাথে দুইটি চাকরি করা যাবে না। যদি কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি লঙ্ঘন করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন বা কোনো শর্ত ভঙ্গ করে থাকেন তথ্য দেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ম্যানেজিং কমিটির কেউ বিষয়টি আমাকে লিখিতভাবে জানায়নি। কোনো শিক্ষক যদি একসাথে দুইটি সুবিধা ভোগ করে থাকেন প্রথমে সেটি দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো মাদরাসা বা স্কুল ম্যানেজিং কমিটি আমাকে জানালে এব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও যোগ করেন, নিয়োগের সময় শিক্ষকরা যদি তথ্য গোপন রেখে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে আর্থিক লাভজনক অন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে আইন ও বিচার বিভাগ মন্ত্রণালয়-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব সাইদুজ্জামান শরিফ বলেন, আপনি এসব তথ্য আমার হোয়াটসঅ্যাপে দেন। সরকারি চাকরি করেন এমন কোনো শিক্ষক নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এছাড়া কোনো নিকাহ যদি বিধি লঙ্ঘন করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য ঘোষণা করে দ্রুত করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
৪৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে