বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের। ছাত্র-জনতার জয়ের হাসি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। আন্দোলনের সময় গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়া প্রথম শহিদ আবু সাঈদ, মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)সহ আলোচিত নানা স্লোগান, গুলিবিদ্ধ ছাত্রের মর্মস্পর্শী কথা আর স্মৃতি এখন ফুটে উঠছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের দেয়ালে দেয়ালে রংতুলির মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তুলছেন দেশ কাঁপানো এই আন্দোলনে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্ম, শ্রীমঙ্গল থানা, শ্রীমঙ্গল উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে কোটা আন্দোলনের নানা স্মৃতি এখন ফুটে উঠছে। শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন দেয়ালে নানা লেখা ও আলপনা এঁকেছেন। শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
রবিবার বেলা ১২টায় মৌলভীবাজার রোডে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শ্রীমঙ্গল থানার দেয়ালে আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি ও রঙিন সব ছবি এঁকেছেন।
শিক্ষার্থীরা শুরুতেই সাদা রং দিয়ে পরিষ্কার করেন এই দেয়াল। তারপর ছবির আঁকার মাধ্যমে আন্দোলনের দৃশ্যচিত্র ফুটিয়ে তোলেন। আঁকা হয় জাতীয় পতাকা। লেখা হয় আন্দোলনে শহিদ হওয়া আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ অনেকের নাম।
এসময় চোখে পড়ে দেয়ালে দেয়ালে লেখা নানা স্লোগান। 'মেধার বিজয় বাংলাদেশ, এই জিত আমাদের, স্বাধীনতা এনেছি সংস্কারও আনবো, বিকল্প কে তুমি আমি আমরা, মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, ৩৬ জুলাই ২০২৪, কারও পানি লাগবে, পানি, এই গুলি লাগছে গুলি, আমরা রঙে ম্বাধীনতা।
এর আগে গুহ রোড, উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এবং রেলওয়ে স্টেশন পাল্টফর্মের দেয়ালেও দেখা যায় নানা স্লোগান। 'স্বাধীন শ্রীমঙ্গল, আমরা ৭১ দেখিনি; ২৪ দেখেছি, আঁধারে মুছে যাক আলো, স্বাধীনতা এনেছি, ইতিহাসের নতুন অধ্যায় জুলাই ২৪, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো জুলাই, কারো পানি লাগবে পানি।
আন্দোলনে শহিদ হলেও মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ-এর হৃদয়গ্রাহী কথা 'কারো পানি লাগবে, পানি' এমন বাক্য ভুলে যাননি আন্দোলনকারীরা। বিজয়ের পরও তা স্মৃতিতে গেঁথে রয়েছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। সাদা দেয়ালে রক্তে রাঙা লাল কালি দিয়ে তাই লেখা হয়েছে, পানি লাগবে পানি..।
দেয়াল লিখনে অংশগ্রহণকারী শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলন করেছি। সাধারণ মানুষও যুক্ত হয়েছিলেন। তাই শহিদ ও আন্দোলনের নানা স্মৃতি দেয়ালে তুলে ধরেছি। যাতে পথচলতি শিশু-কিশোর থেকে বয়স্ক—সবাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি ভুলে না যান, সে জন্য গ্রাফিতি আঁকছি।
অংশগ্রহণকারী কলেজ ছাত্রী নিপা আক্তার বলেন, দেশের মধ্যে নানা অসঙ্গতি, বৈষম্য রয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ পাবো। সেই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা রঙ তুলি দিয়ে তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। এমনিভাবে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সবাই সোচ্চার হলে আমার সোনার বাংলা সত্যিকারের সোনার বাংলা হয়ে উঠবে। পথচারী কাওছার আহমদ বলেন,
রঙ-বেরঙের এই শিল্পকর্মগুলো কেবলই সুদৃশ্য নয় বরং সমাজের বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতনের স্বাক্ষি বহন করছে এসব দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি।
মাদরাসা শিক্ষার্থী ছাত্রনেতা আবিদ হাসান বলেন, আমরা শনিবার দিনব্যাপী কলেজ রোড, গুহ রোডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন আলপনা, ক্যালিগ্রাফি অঙ্কন করি। এসব দেয়াল লেখনের প্রিন্টিং স্পন্সর করেন পোল্যান্ড প্রবাসি রাজু আহমদ দোলন।
আন্দোলনের ঐতিহাসিক ম্মৃতি আলোচিত নানা স্লোগান, গুলিবিদ্ধ ছাত্রের মর্মস্পর্শী কথা রংতুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস চালাই। এসব ক্যালিগ্রাফি পথচারীসহ অনেকের নজর কাড়ে বলে জানান আবিদ হাসান।
৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
১ দিন ১১ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে