এইচআর ক্লাব পবিপ্রবির উদ্যোগে মৌসুমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত প্রত্যয় সংগঠনের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট স্বদেশ কমিটি ঘোষণা আশাশুনির বড়দলে ঘরের দরজা ভেঙে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ সফল করতে পীরগাছায় জামায়াতের স্বাগত মিছিল বড়লেখায় ৭ বছরেও বিতরণ হয়নি হাজারো পরিবার পরিকল্পনা কার্ড, বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ কুষ্টিয়ার লাহিনী ২১ নম্বর ওয়ার্ডে লিজেন্ড বনাম ইয়াংস্টারদের জমজমাট ফুটবল ম্যাচ রিনিঝিনি বৃষ্টির দিনে: আলসেমি, আনন্দ আর কিছু রূপালি গল্প রাজনীতি ভোগের জন্য নয়, এটি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম : তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ হাতিয়ায় জোয়ারের পানি-ভারী বর্ষণে উপকূল বিপর্যস্ত মধুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল যুবকের পাটকেলঘাটার প্রায় দুই যুগ পার হলেও দূর্বাডাঙ্গা গাছা সড়ক সংস্কার হয়নি চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ তালায় দুস্থ-অসহায়দের মাঝে চেক বিতরণ করলেন মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, এমপি শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার লালপুরের বিলমাড়ীয়ায় চার গ্রামীণ সড়ক এইচবিবি করণে স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ" নওগাঁ বদলগাছীর আধায়পুরে রেবা বেগম এক নারীকে ছুরিকাঘাতে, গুরুতর আহত অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি নাগেশ্বরীতে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ২ হাজার তালগাছ রোপনের উদ্যোগ উপজেলা প্রশাসনের শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া ইউনিয়নে নতুন উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের চাষাবাদে কৃষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

চার-পাঁচ হাত ঘুরে বাজারে আসে ইলিশ, দামও চড়া

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 19-09-2024 08:12:33 am


বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অমূল পরিবর্তন আসার পর প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইলিশ রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর সামাজিক মাধ্যমে ইলিশের দাম কমার তথ্য দেখে সম্প্রতি বাজারে গিয়ে অনেকেই হতাশ হচ্ছেন। বাংলাদেশেরই জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যটির উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন অনেকে।


নেট দুনিয়া থেকে বাস্তবের মাছ-বাজার সবখানেই ইলিশের দাম নিয়ে কৌতূহল চোখে পড়ার মত। ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বিক্রেতাদেরও। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, ভারতে ইলিশ না পাঠানো ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, আমরা ক্ষমা চাচ্ছি, কিন্তু আমরা ভারতে কোনো ইলিশ পাঠাতে পারব না। এটি দামি মাছ। আমরা দেখেছি, আমাদের দেশের মানুষই ইলিশ খেতে পারে না। কারণ সব ভারতে পাঠানো হয়। তবে রপ্তানি না হওয়ার পরেও বাজারে মাছটির দাম নাগালের মধ্যে নেই বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা। খবর বিবিসি বাংলার।


রপ্তানি বন্ধ কিন্তু দাম তো কমে নাই, মাঝখান থেকে আমরা বাজারে এসে নাজেহাল হচ্ছি, ঢাকার হাতিরপুল বাজারে মাছ কিনতে আসা চাকরিজীবী নার্গিস বেগম সংবাদমাধ্যমকে এমনটি বলছিলেন।


'ফেসবুক-ইউটিউব দেখে আসে, বলে ইলিশের দাম কম, আপনারা বেশি চান কেন? আমাদের ব্যবসা নষ্ট...', পাল্টা বলছিলেন বিক্রেতা মো. কামাল। এই ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে, মৎস্য উপদেষ্টার ভাষায় 'দামী মাছটি'র দাম কমছে না। যার অন্যতম কারণ যোগানের ঘাটতি।


জেলের জালে ধরা পড়া ইলিশ তিন থেকে পাঁচ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে আসে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এসব জায়গায় দামের তারতম্যের ওপর বাজারও ওঠানামা করে। চাঁদপুরের আড়তগুলোতে মঙ্গলবার সকালে তিন থেকে চারশো গ্রাম ওজনের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। অন্য মাছের মত ইলিশের ক্ষেত্রেও ওজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। অর্থাৎ, মাছের আকার যত বড় হয়, কেজিপ্রতি দামও তত বেশি হয়ে থাকে।


এছাড়া, সমুদ্র-মোহনা থেকে ধরা মাছ আর নদীর উজানের মাছের ক্ষেত্রেও দামে বেশ কিছুটা পার্থক্য থাকে বলেও জানান মাছ বিক্রেতারা। প্রায় এক কেজি ওজনের মাছের কেজিপ্রতি দাম উৎসে এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা। অর্থাৎ, জেলেরা প্রতি কেজি মাছের জন্য এই দাম পেয়ে থাকেন বলে জানান, ভোলার মেঘনা নদীর জে‌লে মো: ইব্রাহীম মা‌ঝি।


'মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এক কেজি ওজনের মাছের মণ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ হাজার টাকা,' বলন চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার। রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে, নয়শো গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের মাছের জন্য ১৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। আবদুল বারী জমাদার জানান, কিছুদিন ধরে এই দামের মধ্যেই ইলিশের বেচাকেনা হচ্ছে।


'গত একমাসে মণপ্রতি পাঁচ হাজার টাকার হেরফের হয়েছে। কেজিতে হয়তো দাম ৫০-১০০ টাকা বাড়ে কমে,' যোগ করেন তিনি। জমাদার আরো জানান, এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের মাছ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। দেশের ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতি বছর ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের মাছ ধরা বন্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপর মে-জুন থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম।


এই সময়টাকে 'পিক টাইম' বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার বলছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এই সময়টায় মাছের দেখা মিলছে 'খুবই কম'।


'২০২২ সালে প্রতিদিন ১২'শ মণ ইলিশ আসতো আমাদের মোকামগুলোয়, গত বছর আসে সাত-আটশো মণ আর এইবার আসতেছে দুই-আড়াইশো মণ," বলেন জমাদার।


এ বছর ৪০ টি ট্রলারে দাদন (অগ্রিম অর্থ) দিয়েছেন জানিয়ে বলেন এখন পর্যন্ত একটি ট্রলার যথেষ্ট মাছ পায়নি। জানান, একেকটি ট্রলারে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। এই দাদনদাতাদের মাধ্যমেই জেলেদের মাছ বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকে। এতে কমিশন এজেন্ট হিসেবে তারা দশ শতাংশ অর্থ পান।


পর্যাপ্ত যোগান না থাকলে দাম কমার সুযোগ থাকে না এমনটাই জানাচ্ছেন অন্য ব্যবসায়ীরাও। বেচা বিক্রির অনুপাতে খরচও কম নয়, বলছিলেন ভোলার আড়তদার মো: ইউনুছ মিয়া। 'দশ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে ছয় হাজার টাকা খরচ করা লাগে,' বলেন তিনি। আবদুল বারী জমাদার জানান, আকৃতিভেদে একেকটি ট্রলার বানাতে ব্যয় হয় এক থেকে দেড় কোটি টাকা। সেগুলো ১০-১২ বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে।


ফলে, ট্রলারের বিনিয়োগ তুলে আনতে গেলেও মাছের বেচা-বিক্রি ভালো দামে হওয়া জরুরি তাদের কাছে। এছাড়া, মাছের বাজারের উচ্চ দামের জন্য কেউ কেউ সিন্ডিকেটের অভিযোগও তুলে থাকেন। তবে, তা অস্বীকার করছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এর বার্ষিক উৎপাদন পাঁচ লাখ একাত্তর হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।

আরও খবর