রংপুরের পীরগাছায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাস্তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ১০গ্রেড বাস্তবায়ন ও সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন তারা।
এসময় শিক্ষকরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্লেকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল ১০ম গ্রেড অর্থ নয় বরং মর্যাদার প্রশ্ন!, শিক্ষারভিত্তি যাদের হাতে, তারা কেন তৃতীয় রবে?, ‘এক দফা এক দাবি, ১০ম গ্রেড ন্যায্য দাবি’ ১০ম গ্রেড আমাদের দাবি নয়, আমাদের অধিকার, শিক্ষা যদি হয় জাতির মেরুদণ্ড তবে শিক্ষার সাথে বৈষম্য কেন? শিক্ষকরা ভবিষ্যতের স্বপ্নচারি তবে কেন তারা তৃতীয় শ্রেনির কর্মচারি!
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, সহকারী শিক্ষক নাছিমা বেগম, আকরাম হোসেন, শিরিনা আক্তার, শ্রাবন্তী রায়, জিল্লুর রহমান, কানিজ ফাতেমা, শফিকুল ইসলাম, আহসান হাবিব, আব্দুল মাজিদ, রবিউল আউয়াল, আব্দুর রউফ, হারুন অর রশিদসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষার ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষকরা শিক্ষার সূতিকাগারের কান্ডারি। দেশ উন্নয়নশীল কাতারে, মাথাপিছু আয় ২৭৯৩ মার্কিন ডলার। ভিনদেশী ১০লক্ষ রোহিঙ্গাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, কর্ণফুলী ট্যানেল এখন দৃশ্যমান, দেশ আর্থিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমরা নোবেল বিজয়ী বীরের জাতি, আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক, নোবেল বিজয়ী মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বৈষম্যবিরোধী অন্তর্র্বতীকালীন সরকার, সাম্য গড়ার প্রত্যয়ে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ এবং সমতার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। বৈষম্যবিরোধী অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের বৈষম্যহীন সমতার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সারথী হিসেবে আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা সমতার স্মার্ট নাগরিক গড়ার প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। প্রাথমিক শিক্ষকদের দৃঢ় বিশ্বাস নোবেল বিজয়ী বৈষম্যবিরোধী প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষকদের কখনো হতাশ করবেন না।
বক্তারা আরও বলেন, পড়াশোনা শেষ করে মহৎ পেশায় নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে মাত্র ১১,০০০/- টাকা বেতন গ্রেডে (১১,০০০+৪৯৫০+১৫০০+২০০) মোট: ১৭,৬৫০/- টাকা পায়। মাসিক এ বেতনে সংকুলান না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশা ও মনঃকষ্ট নিয়ে যাপিত জীবন অতিবাহিত করেন। মাসিক এ বেতনভাতা দিয়ে কখনো উন্নত জীবন মান সম্ভব নয়। আর এই কারণেই মেধাবীরা প্রাথমিকে শিক্ষকতা পেশায় না এসে অন্য পেশায় ছুটছেন। স্বাধীনতার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এবং গ্রাজুয়েট শিক্ষকদের বেতন স্কেল একই ছিল। ১৯৭৭ সালে প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ৩২৫ টাকা, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে সর্বপ্রথম প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করা হয়। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা পূর্বের ন্যায় (প্রধান শিক্ষকদের কার্যভার ভাতা প্রদান করে) প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের একই বেতন গ্রেডের যৌক্তিক দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন চাই ।
১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে