চলতি বছর ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনাসহ সারা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে ৯ বার বন্যা হয়েছে। এই বন্যার কারণ হিসেবে অধিক বৃষ্টিপাত ও দেশের উজান তথা ভারত থেকে আসা ঢলের পানির কথা বলা হচ্ছে। চলতি বছর জুন-জুলাই ব্যতীত প্রায় সব মাসেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। চলতি অক্টোবর থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সব বিভাগেই সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার (৯ অক্টোবর) আবহওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তা ছাড়া এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে ৩-৬ টি লঘুচাপ, তারমধ্যে ১-২ টি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ৩ থেকে ৬ দিন মাঝারি ধরণের বজ্রঝড় এবং সারাদেশে ৪ থেকে ৮ দিন হালকা বজ্রঝড়ের আভাস দেওয়া হয়েছে।
ডিসেম্বর পর্যন্ত সব বিভাগে অস্বাভাবিক বৃষ্টির আভাস
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশের ৮ বিভাগেই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। যেমন, ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৬৭ মিলিমিটার, তবে হতে পারে ১৩০-১৯০ মি.মি। অন্যান্য বিভাগেও তেমনি হতে পারে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরও এই চিত্র বহাল থাকতে পারে।
হতে পারে ২টি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যভাগে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে বিদায় নিতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে, তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি/ ঘণ কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা/ মাঝারি ধরণের কুয়াশা পড়তে পারে। উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১-২টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরণের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাসও দেওয়া হয়েছে।
পূর্বাভাসে সেপ্টেম্বরের সারাদেশে বৃষ্টিপাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত মাসে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি ৩৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। রংপুর বিভাগে স্বাভাবিক, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম এবং অন্যান্য বিভাগে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার কাছাকাছি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয় ও ১০ সেপ্টেম্বর সকালে লঘুচাপ আকারে অবস্থান করে। ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে বঙ্গোপসাগর এলাকায় আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর নিম্নচাপ ও ১৬ সেপ্টেম্বর গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। ২৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগর একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত মাসে দেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হয়। গত মাসে দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর ৩৭৮ মি.মি. কক্সবাজারে ৩৭৮ মি.মি । এ মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ২১ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুরে। এ মাসে দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তথা দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সে. এবং ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। তা ছাড়া সারাদেশে গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
চলতি বছর কেমন শীত পড়তে পারে এ সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. ছাদেকুল আলম বলেন, এ বছর বর্ষা যথাসময়েই বিদায় নিবে। আমাদের কাছে এ পর্যন্ত যেসব তথ্য রয়েছে তাতে চলতি বছর স্বাভাবিক শীত থাকতে পারে। তিনি বলেন, নভেম্বরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। মৌসুমী বায়ু দেরিতে বিদায় নিলে পৌষ ও মাঘ মাসে শীতের প্রকোপ বেশি পড়ে।
৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
১ দিন ১৪ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে