সৌদিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুথি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার বড় জয় আখতারুজ্জামান এখন দেশের ভুক্তভোগী-নির্যাতিত মানুষের নেতা : জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া গেলেন সেনাপ্রধান মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষ চাপে আছে: অর্থমন্ত্রী নোয়াখালীতে ইয়াবা সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড সুন্দরবনে কয়লাবাহী জাহাজের ধাক্কায় জেলের মৃত্যু রামপালে রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নোয়াখালীতে আবারও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৫ ছেলেকে দেখতে গিয়ে গ্রেপ্তার বাবা, কারাগারে বাপ বেটা দুজনই দেবহাটায় অভিযানে বিপুল উইনকোরেক্সসহ নারী আটক লাখাইয়ে পুলিশ অভিযানে ১৫পিচ ইয়াবা সহ ৬ মামলার আসামী গ্রেপ্তার। শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিরল প্রজাতির সোনালী হনুমানের মৃত্যু লাখাইয়ে সুতাংনদীর স্তূপীকৃত বালু নিয়ে নানা সমস্যা নিরসনে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ। শিক্ষা-গবেষণায় শিল্প সংযোগে জাবিপ্রবির নতুন উদ্যোগ, ৫টি এমওইউ স্বাক্ষর জাবিপ্রবির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ১৫০০ কোটি টাকা ছাড়ের আশ্বাস, ৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি কুলিয়ারচরের ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও আসছে ‘ওপেন ক্রেডিট’ ও ‘সেপ্টেম্বর সেশন’: ইউজিসি সদস্য অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে আটক ১ উলিপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধনা প্রদান

বয়ফ্রেন্ড নয়, ঘাতক রেজা নারী চিকিৎসকের স্বামী

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 12-08-2022 09:25:05 am

ফাইল ছবি


নিউজ ডেস্ক :


ফেসবুকে পরিচয়। এরপর প্রেম। পরিবারকে না জানিয়ে ২০২০ সালের অক্টোবরে বিয়ে। তবে স্বামী রেজাউলের একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এর জেরে মনোমালিন্য ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ কারণে স্ত্রীকে পথের কাঁটা ভেবে সরিয়ে দিতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন রেজাউল।


র‌্যাব বলছে, চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকাকে হত্যার জন্য কয়েকদিন ধরেই ব্যাগে ধারালো অস্ত্র বহন করছিলেন রেজাউল। ১২ আগস্ট ঘটা করে জান্নাতুল নাঈমের জন্মদিন পালনের কথা বলে ১০ আগস্ট তাকে পান্থপথের ফ্যামিলি অ্যাপার্টমেন্ট নামের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে কথাকাটাকাটি, বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর গোসল করে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে চট্টগ্রাম চলে যান রেজাউল।


পান্থপথে নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধারের পর রেজাউলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা বলেন।


নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে চট্টগ্রামের মুরাদপুরের একটি ছাত্রাবাস থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।


খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামক আবাসিক হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন ছিল। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ১০।’


র‌্যাব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব- ২ এবং র‌্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকা থেকে আসামি রেজাউল করিম রেজাকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকালে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডের সময় রেজার পরিহিত রক্তমাখা গেঞ্জি, মোবাইল ও ব্যবহৃত ব্যাগ এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রেজা হত্যায় নিজের সংশ্লিষ্টতার দায় স্বীকার করেছেন।


জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রেজাউল ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। এমবিএ চলাকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের জুন মাসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগদান করেন।


নিহত নারীর সঙ্গে পরিচয়, প্রেম ও হত্যা সম্পর্কে আসামি রেজা র‌্যাবকে জানান, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার সঙ্গে পরিচয়। এরপর প্রেমের সম্পর্ক। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিয়ে করেন তারা। পরিবারের অগোচরে বিয়ে হওয়ায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতেন।


এর মধ্যে রেজার একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেম ছিল। তা স্ত্রী জেনে যাওয়ায় মনোমালিন্য ও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে জান্নাতুল নাঈম স্বামী রেজাকে কাউন্সেলিং ও আলাপচারিতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।


বিভিন্ন সময় বাগ্‌বিতণ্ডার মধ্যে স্ত্রীকে প্রতিবন্ধক ভাবতে শুরু করেন রেজাউল। স্ত্রীকে চিরজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েকদিন ধরেই স্ত্রীকে হত্যার জন্য কাঁধের ব্যাগে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরছিলেন।


গত ১০ আগস্ট চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমকে জন্মদিন উদযাপনের কথা বলে পান্থপথের ওই আবাসিক হোটেল নিয়ে যান। সেখানেও তাদের বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথাকাটাকাটি, বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।


এ সময় রেজা তার ব্যাগ থেকে ধারালো ছুরি বের করে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর রক্তমাখা কাপড় বদলিয়ে গোসল করে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে হোটেলের দরজার বাইরে থেকে বন্ধ করে বেরিয়ে যান।


জিজ্ঞাসাবাদে রেজা আরও জানান, হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে মালিবাগে তার বাসায় যান। বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে একটি হাসপাতালে গিয়ে তার নিজের হাতের ক্ষতস্থান সেলাই করান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে চট্টগ্রামে গিয়ে মুরাদপুরে আত্মগোপন করেন। তিনি কীভাবে এ থেকে বাঁচতে পারেন, তা নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগও করেন। এর মধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হন তিনি।

আরও খবর